গাছ ও বাহারি টব

ঘর সাজুক গাছ ও বাহারি টবে

ইট পাথরে গড়া এই যান্ত্রিক শহরে সবাই চাই একটু সবুজের ছোঁয়া। শিল্প বিপ্লবের এই যান্ত্রিক যুগে একটু সবুজ ছায়া যেন শান্তির পরশ। তাই চার দেয়ালের মধ্যেই যদি রাখা যায় জীবন্ত উদ্ভিদ, তাতে গৃহসজ্জায় নান্দনিকতার পাশাপাশি প্রশান্ত এক পরিবেশও তৈরি হয়।

ঘর সাজাতে আমরা কতো কিছুই না করি। কতো ধরণের শো পিস, সাজানোর বিভিন্ন জিনিসপত্রসহ আরও কতো কি। চেষ্টা করি মনের মত করে নিজেদের ঘরটা সাজতে। কিন্তু শুধু দামী দামী শো পিস দিয়েই কেন?

ইচ্ছা আর চেষ্টা থাকলে আপনিও নিজের ঘরটিকে সাজিয়ে তুলতে পারেন বাহারি উদ্ভিদ দিয়ে। আপনার বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও বারান্দায় রাখা টবের মতো ঘরের ভেতরটাও সাজাতে পারেন সজীব গাছ দিয়ে। ছায়ায় বেঁচে থাকে এমন অনেক উদ্ভিদ ঘরের ভেতরে টবে লাগানো যায়। এসবের (ইনডোর প্ল্যান্টস) মধ্যে আইভি লতা, পাতাবাহার, মানি প্ল্যান্ট, ফাইলো ডেনড্রন, ড্রাসেনা, ক্রোটন, বাহারি কচু, পাম, অ্যানথুরিয়াম, ডাইফেনবেকিয়া, ম্যারান্টা, মনস্টেরা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

কিন্তু শুধু কি সাজানোর জন্যই ব্যবহার করা হয় এই গাছগুলোকে? যদি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে আমরা ঘরে কিছু স্বাস্থ্যকর গাছ রাখতে পারি তাহলে ঘরের দূষিত বাতাস থেকেও মুক্তি পেতে পারি। ভাবছেন কিভাবে? ঘরে কিছু স্বাস্থ্যকর গাছ রাখলে তা ঘরের বাতাস থেকে ক্ষতিকর পদার্থ শুষে নিয়ে স্বাস্থ্যকর আবহাওয়া তৈরী করতে সাহায্য করে। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক এমনই কিছু গাছের তালিকা।

১। মানি প্ল্যান্ট
ঘরের ফ্রিজ কিংবা অন্যান্য যন্ত্র যা থেকে প্রতিনিয়ত সিএফসি গ্যাস নির্গত হয় তা আমাদের বুকে ব্যথা এবং গলার খুসখুসে কাশির জন্য দায়ী। এমনকি এই সামান্য গ্যাসও বুকে ব্যথা ও গলা খুসখুস তৈরী করে। প্যান ষ্টেটের গবেষকদের মতে, বাসাবাড়িতে মানি প্ল্যান্ট রাখলে এটি ক্ষতিকারক সিএফসি এবং ওজোন গ্যাস শুষে নিয়ে আমাদের রক্ষা করে। তাই ঘরে রাখুন এই মানি প্ল্যান্ট।

২।পুদিনা
ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ নিউরোসায়েন্সের একটি গবেষণায় পাওয়া যায়- পুদিনা গাছ মস্তিষ্ককে সচল রাখতে এবং স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এর সাথে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে ঘরের কোণে রাখা পুদিনা গাছ।

৩। ইংলিশ আইভি
বেশীক্ষণ কম্পিউটার বা অন্যান্য মেশিন ব্যবহার করলে আমাদের মাথা ব্যথা শুরু হয়। এক কারণ হচ্ছে কম্পিউটার বা অন্যান্য মেশিন থেকে কিছু উদ্বায়ী কেমিক্যাল বাতাসে মিশে যায় যা আমাদের নিঃশ্বাসের সাথে মস্তিষ্কে যায় এবং মাথাব্যথার সৃষ্টি করে। ইউনিভার্সিটি অফ জর্জিয়ার একটি গবেষণা হতে দেখা যায় ইংলিশ আইভি নামক এই গাছটি বাতাস হতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল শুষে নেয়। ফলে ঘরের ভেতরকার বাতাস থাকে স্বাভাবিক। ঘরের একটি সুন্দর টবে লাগিয়ে দিতে পারেন এই গাছটি।

৪। লেমন বাম
আমরা যখন মানসিক চাপে থাকি তখন এই লেমন বাম নামক গাছটি আমাদের সাহায্য করবে। ওহিও ষ্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষণা অনুযায়ী, এই গাছে রয়েছে একপ্রকার সুগন্ধ যা মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন নামক ভালোলাগার হরমোনের নিঃসরণ ঘটায়। এই হরমোন মানুষের মানসিক চাপ বা দুঃখ বদলে হাসিখুশী করে তুলতে সাহায্য করে।

৫। বাটারফ্লাই পাম গাছ
আমাদের দেশে এটি খুবই জনপ্রিয় একটি ঘরোয়া গাছ। বাসার দরজা জানালা খোলা থাকলে আশেপাশের ক্ষতিকর দূষিত বাতাস ঘরে ঢুকলে এই গাছটি সেই বাতাস শোধন করতে সাহায্য করে। তাই ঘরের এক কোনে রাখতে পারেন এই গাছটি।

আরও দেখুনঃ

বাড়ির ছাদ আর বারান্দা হয়ে উঠুক একটুখানি স্বর্গ