সামর্থ্য অনুযায়ী ফিতরা দেওয়া উচিত

মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ: পবিত্র মাহে রমজানে রোজা পালনকালে আমাদের হয়ে যায় অনেক ভুলত্রুটি। তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে মহান আল্লাহ দয়া করে আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন সদকাতুল ফিতর, যাকে আমরা ফিতরা বলে জানি।

সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হয় খেজুর, পনির, জব, কিশমিশ ও গম দিয়ে। উল্লেখ্য, খেজুর, পনির, জব ও কিশমিশের ক্ষেত্রে তার পরিমাণ হবে জনপ্রতি এক সা বা তিন কেজি ২৭০ গ্রাম। কিন্তু সতর্কতামূলক আমাদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয় তিন কেজি ৩০০ গ্রাম করে। আর গমের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ হলো আধা সা বা এক কেজি ৬৩৫ গ্রামের কিছু বেশি। আমাদের দেশে সতর্কতামূলক ৬৫০ গ্রামই হিসাব করা হয়।

কেউ চাইলে সরাসরি গম, খেজুর, পনির, জব ও কিশমিশ দিয়েও ফিতরা আদায় করতে পারেন। কিন্তু সাধারণত আমাদের দেশে বাজারমূল্যই দিয়ে দেওয়া হয়। এ বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সদকাতুল ফিতরের সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ টাকা। আর সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৯৮০ টাকা। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ মনে করে যে ৭০ টাকাই ফিতরার মূল্য। ফলে প্রায় মানুষই ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে ৭০ টাকাই হিসাব করেন।

অথচ ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে উত্তম হলো, নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি মূল্যের খাদ্যবস্তুকে মাপকাঠি ধরে ফিতরা আদায় করা। কেননা সদকার লক্ষ্যই হলো গরিবদের প্রয়োজন পূরণ ও তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ।

তাই বিত্তবান মানুষের জন্য ৪০-৫০ টাকা মূল্যের গমের হিসাবে ফিতরা দেওয়া অত্যন্ত বেমানান। কাজটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত সে প্রশ্ন বিবেকের কাছে থেকেই যায়। যদিও শরিয়তে সর্বনিম্ন মূল্যে ফিতরা আদায় করলেও তা আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু যেহেতু ফিতরা আদায়ের উদ্দেশ্য থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি, তাই সেদিক বিবেচনা করে নিজের অবস্থান অনুযায়ী আদায় করাই আমাদের কর্তব্য।

লেখক: মুহাদ্দিস, জামেয়া ইসলামিয়া, মাইজদী, নোয়াখালী।