মুহিব খান ও খান সাহেব

খান সাহেব ও মুহিব খানকে ফাসিক ও গুমরাহ ফতোয়া দারুল উলুম দেওবন্দের

ইস্তিফতা নং-১৮৬৭। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আমার নাম আহমদ ।আলহামদুলিল্লাহ আমি দারুল উলুম দেওবন্দের ফাযেল। কয়েকদিন আগে কিছু জেনারেল শিক্ষিত লোক আমার কাছে দুই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে যারা ফেসবুক - ইউটিউবে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরি করে আপলোড করে এবং তাদের ভিডিওতে মিউজিক এবং বেপর্দা নারীর ছবি এবং নাটকের মত দৃশ্য থাকে। উপরোক্ত দুই ব্যক্তি সম্পর্কে আমার কাছে সংবাদ আসার পর আমার পরিচিত কতিপয় আলেমদের সাথে পরামর্শ করি এবং ভালোভাবে বাচাই-বাছাইয়ের পর আমরা যে তথ্য পেয়েছি নিম্নে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করছি।

তন্মধ্যে একজন মুহিব খান,

যিনি কবি হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশী হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তিনি ইসলামিক ভালো ভালো কবিতা লেখেন এবং তা দ্বারা লোকদেরকে ইসলামী ঐক্যের প্রতি আহবান করেন, যা অনেক প্রশংসনীয়। কিন্তু কখনো কখনো তিনি ইউটিউব এবং ফেসবুকে নিজের এমন কিছু কবিতার ভিডিও আপলোড করেন, যাতে স্পষ্ট মিউজিকের ব্যবহার রয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ তিনি ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ইং ফেসবুক এবং ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করেন যা আমরা যাচাই বাছাই করে দেখেছি যে ,সেখানে বেপর্দা নারীর ছবি, ঢোল- তবলা এবং বাঁশির আওয়াজ বিদ্যমান।

এছাড়াও তার অন্যান্য ভিডিওতেও মিউজিকের ব্যবহার রয়েছে । কিন্তু মূল বিষয় হচ্ছে তিনি একজন আলেমে দ্বীন।

যে কারণে জনসাধারণকে বোঝানো অনেক কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা কিছু লোকের দৃষ্টিভঙ্গি এমন যে প্রয়োজনবশত শরীয়তে তা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে । যাকে সেসকল লোক দফ বলে ব্যক্ত করে এবং বলে যে তা ব্যবহারের অবকাশ রয়েছে।

দ্বিতীয়জন মহিউদ্দিন হাসান খান,

তিনিও বাংলাদেশী। অনলাইনের সুবাদে পশ্চিমবঙ্গেও তার যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে । যিনি ফেসবুক এবং ইউটিউবে খান সাহেব নামে খ্যাত। তিনি ভিডিওর মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক বিষয় তুলে ধরেন। তিনি এবং তার সাথে দাড়ি টুপি পাঞ্জাবি পরিহিত লোক থাকে। যে কারণে ইসলামী মতাদর্শের লোকেরা তার কার্যক্রমকে নির্দ্বিধায় বৈধ মনে করে থাকেন। কিন্তু তার ভিডিওতে আমরা মিউজিক, বেপর্দা মহিলাসহ আরো অনেক শরীয়ত বিরোধী কার্যক্রম দেখতে পাই। এমনকি সে উমরার সফরেও কৌতুক-ভিডিওতে অভিনয় করে এসেছেন -মা'আযাল্লাহ!

ফ্যান ফলোয়ারের মতে দ্বীন এবং যুগের চাহিদা অনুযায়ী এধরনের ভিডিওয়ের মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াত দেয়ায় কোন অসুবিধা নেই। এটি শরীয়তের ব্যাপক বিধি-বিধানের বহির্ভূত।
এছাড়াও তিনি ইউটিউবের মাধ্যমে টাকা উপার্জন করে থাকেন।

উপরোক্ত বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে জনসাধারণকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, কোন মানুষ দাঁড়ি, টুপি এবং পাঞ্জাবী পরিধান করলেই কৌতুক বৈধ হয়ে যায় না বরং তা দেখা থেকে বিরত থাকুন।
কুরআন, হাদিসে মিউজিক এবং তার সকল উপকরণকে স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। এজন্যই তা হারাম। তাকে দাওয়াতের নামে জায়েজ বলা অথবা দাওয়াতের নামে কৌতুক করা স্পষ্ট ভ্রষ্টতা।অনুগ্রহপূর্বক নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট রূপে তুলে ধরার জন্য দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগে আবেদন করছি। অন্যথায় লোকদের বোঝানো মুশকিল হয়ে যাবে।

(১) যদি কোন ব্যক্তি দ্বীনী দাওয়াতের উদ্দেশ্যে মিউজিক,কিংবা তার কোন উপকরণ। দাড়ি,টুপি ,জুব্বা এবং মহিলাদের ছবিসহ ভিডিও আপলোড করার কোন সুযোগ আছে কিনা? যদি থাকে তাহলে কিভাবে ?আর যদি না থাকে তাহলে দলিলসহ জবাব প্রত্যাশা করছি।

(২) যদি কোন ব্যক্তি এ সকল বিষয় ভালোভাবে জানা সত্ত্বেও তা জায়েজ মনে করে তাহলে তার ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কি? তা সুস্পষ্টরূপে জানতে চাচ্ছি।

(৩) এভাবে কি (ভিডিও আপলোড করে) ইউটিউব -ফেসবুক থেকে টাকা উপার্জন করা জায়েয ?

নিবেদক
আহমদ আব্দুল ক্বাহহার
ঢাকা, বাংলাদেশ।

উত্তর: দ্বীনি দাওয়াতের উদ্দেশ্যে মিউজিক ও নারীর ছবি সম্বলিত ভিডিও তৈরীর বিধি নিষেধ। بسم الله الرحمن الرحيم حامدا ومصليا ومسلما وبالله التوفيق والعصمة
(১) মিউজিক এবং প্রাণীর ছবি বিশেষত নারীর ছবি সম্বলিত ভিডিও তৈরি করা শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয এবং মারাত্মক গুনাহের কাজ। যদিও তা দ্বীনী দাওয়াতের উদ্দেশ্যে হোক। বরং এ উদ্দেশ্যে ঐ সকল নাজায়েয জিনিস ব্যবহার করা আরো বেশি নিন্দনীয়, কেননা এতে দ্বীন কে অপমান করা। যা মারাত্মক অন্যায় কাজ।

(২) যে ব্যক্তি এসব বিষয়ে জানা সত্ত্বেও এ ধরনের কাজ করে সে ফাসেক এবং গোমরাহ। (৩) জায়েয় নাই। ومنها أن يكون مقدور الاستيفاء حقيقة أو شرعا فلا يجوز استئجار الآبق ولا الاستئجار على المعاصي لأنه استئجار على منفعة غير مقدورة الاستيفاء شرعا
الفتاوى الهندية ٤١١/٤الباب الأول ،مطبوعة مكتبة زكريا ،ديوبند والله أعلم بالصواب

শেয়ার করুন: