ফযীলত ও মর্যাদাপূর্ণ জুম্মার দিনে মোমিনগণের জন্যে কি কি করনীয়?

”হে ইমানদারগণ, জুম্মার নামাযের জন্য আযান দেয়া হলে তোমরা আল্লাহর স্বরণে তাড়াতাড়ি ছুটে যাও এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ কর।” (সূরা জুমুআ: ৯)

সত্যিকার অর্থে জুম্মার দিন মোমিন-মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বের। এ দিনটি অনেক তাৎপর্য বহন করে। এর রয়েছে অনেক ফযীলত ও মর্যাদা। রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধি-বিধান। নিন্মে উক্ত বিষয়গুলো অতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হল। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীন সম্পর্কে জানা ও মানার তাওফীক দান করুন। আমীন।

আল্লাহ্‌ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরিফে ইরশাদ করেন “{মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর।

এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ। অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও” সুরাহ জুম্মাহ শরিফঃ আয়াত শরিফ ৯-১০}

এখন দেখি হাদীস শরিফে কি বলা হয়েছেঃ জুম্মার দিনের মর্যাদা: হযরত আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনযির (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনার থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি বলেছেন, জুম’আর দিন সকল দিনের সর্দার। আল্লাহর নিকট সকল দিনের চেয়ে মর্যাদাবান। কোরবানীর দিন ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়ে বেশী মর্যাদাবান।

আবু হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমরা শেষে এসেছি কিন্তু কেয়ামতের দিন সকলের আগে থাকবো।

যদিও অন্য সকল জাতিগুলো (ইহুদী ও খৃষ্টান) কে গ্রন্থ দেয়া হয়েছে আমাদের পূর্বে, আমাদের গ্রন্থ দেয়া হয়েছে তাদের পরে। অতঃপর জেনে রাখো এই (জুম্মার) দিনটি আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি আমাদের দান করেছেন।

তিনি এ ব্যাপারে আমাদের সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। আর অন্য লোকেরা এ ব্যাপারে আমাদের পিছনে আছে। ইহুদীরা জুম্মার পরের দিন (শনিবার) উদযাপন করে আর খৃষ্টানেরা তার পরের দিন (রবিবার) উদযাপন করে। (বর্ণনায়ঃ বুখারী ও মুসলিম)

জুম্মার দিন মুসল্মানদের জন্যে কি কি করনীয়ঃ

হাদিস শরিফ উনার মধ্যে আছে জুম্মার দিনে আগে ভাগে মসজিদে গেলে দান-খয়রাত বা পশু কুরবানী করার সমতুল্য সওয়াব পাওয়া যায়। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনার থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি বলেছেন,

“যে ব্যাক্তি জুম্মার দিন ফরজ গোসলের মত গোসল করে প্রথম দিকে মসজিদে হাজির হয়, সে যেন একটি উট কুরবানী করল, দ্বিতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি গরু কুরবানী করল,

তৃতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ছাগল কুরবানী করল। অতঃপর চতুর্থ সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে গেল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। আর পঞ্চম সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল।

অতঃপর ইমাম যখন বেরিয়ে এসে মিম্বরে বসে গেলেন খুৎবার জন্য, তখন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা লেখা বন্ধ করে খুৎবা শুনতে বসে যান।” (বুখারীঃ ৮৮১, ইফা ৮৩৭, আধুনিক ৮৩০)

শেয়ার করুন: