বিশ্ব ইজতেমা

কি হবে বিশ্ব ইজতেমার ভবিষ্যৎ? কেন বিভক্ত তাবলীগ জামাত?

কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে এবং যা উত্তম তা আমল করতে আল্লাহ বলেছেন, অথচ মাওলানা সাদ কোথায় কী বলেছে তা মনোযোগ দিয়ে না শুনে তাবলিগ জামাত বিভক্ত হওয়া শুরু করল?

তার কথা যারা শুনতে চায় শুনবে, যাদের ভালো না লাগে তারা শোনবে না, কোরআন শরিফ বুঝে পড়া, দাওয়াত আগে, না নামাজ আগে, জাকাত মাদ্রাসায় দেয়া না দেয়া, কোরআন শিক্ষা দিয়ে হাদিয়া নেয়া বা না নেয়া, এসব বিষয় সব ওলামা-কেরাম ওয়াজ নসিহত করেন।

কিন্তু আলোচ্য বিষয়ে বলেছেন মাওলানা সাদকে দোষারূপ করে তাবলিগ জামাতকে বিভক্ত করাকে মনে করে দেয় হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কথা। বর্তমান তুরস্ক, ইয়েমেন, ইরাক, আফগানিস্তান, পকিস্তানের কথা, মুসলমান মুসলমানকে হত্যা করার কথা।

সৌদি সংস্কৃতি ও তথ্যমন্ত্রী ড. আওয়াদ বিন সালেহ আল আওয়াদ বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। এক পর্যায় আফসোস করে বলেছিলেন নিজেরা নিজেদের মধ্যে দ্বিমতের কারণে গত কয়েক বছরে ইরাকে ৯ লাখ, সিরিয়ায় ৬ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

বাস্তুচ্যুত হয়েছে এ অঞ্চলের এক কোটি ২০ লাখ মানুষ (যুগা ন্তর ১১-৫-২০১৭ইং)। ভাই, মুসলমান এক হওয়ার একটি মাত্র রাস্তা তাবলিগ জামাত যা সেবা, ধৈর্য, অহিংসা শিক্ষা দেয়। সব অভিযোগ মাওলানা সাদ এর আগে ‘রুজু’ করেছেন। বেশি ‘জেদাজেদি’ করা ভালো না। আবার সবাই এক হওয়ার চেষ্টা করুন। মাওলানা সাদ বক্তব্য প্রত্যাহার করলে এখন আর বাড়াবাড়ি করে কী লাভ?

রোম আয়াত- ৩২ : মিনাল্লাজিনা ফাররাকু দীনাহুম ওয়াকানু শিয়াআন, কুল্লু হিজবিমবিমা লাদাইহিম ফারিহুন (৩২) অর্থাৎ যারা নিজের ধর্মকে খণ্ড বিখণ্ড করে ফেলে এবং নানা ফের্কায় বিভক্ত হয়েছে।

প্রত্যেক দল নিজেদের পন্থায় গর্বিত ও মত্ত যা তাদের কাছে আছে। এ জন্যই মুসলমান এক হতে পারছে না। যার কাছে যা আছে তার কাছে সেটাই উত্তম মনে করছে সবাই।

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের কত বড় সম্পদ আমরা ফের্কাওয়ালারা না বুঝলেও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বোঝে। তাই টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিদেশি মেহমান তথা মাওলানা সাদসহ সব মেহমানের নিরাপত্তা দেয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একান্ত দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে সাদ হুজুর না এলে বিদেশি মেহমানরা আসবেন না। বিদেশি মেহমান না এলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সম্মেলন বিশ্ব ইজতেমা গৌরব হারাবে। [শেষ] লেখক: তিন চিল্লা লাগানো ফেনীর সাথী ভাই

শেয়ার করুন: