প্রশ্ন: আমাদের ইমাম সাহেব বলেন যে জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে যে কোরবানি দেবে তাঁর চুল, নখ এ জাতীয় কিছুই কাটা যাবে না। যদি চুল-নখ কাটি, তাহলে নাকি গুনাহ হবে। এটা কতটুকু সহিহ হাদিস সম্মত?
উত্তর: হ্যাঁ, আপনি ইমাম সাহেবের কাছ থেকে যে কথাটি শুনেছেন, সেটি শুদ্ধ। এই মর্মে রাসূল (সা.)-এর সহিহ হাদিস সাব্যস্ত হয়েছে। রাসূল (সা.) স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন।
এটি শুধু ওই ব্যক্তির জন্য, যে কোরবানি করবে। পরিবারের সব সদস্য নয়। যাঁদের পক্ষ থেকে কোরবানি করা হচ্ছে তাঁরা নন, শুধু যে কোরবানি করবে, অর্থাৎ যে কর্তা তিনিই শুধু এই কাজটি করবেন।
একেবারে কোরবানি করা পর্যন্ত তিনি চুল, নখ এগুলো কাটবেন না। যখন কোরবানি করা হবে তখন তিনি চুল, নখ কাটবেন। এটি রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ। এই মাস’আলার মধ্যে আলেমদের দ্বিমত আছে। একদল ওলামায়ে কেরাম এটাকে ওয়াজিবও বলেছেন।
সুতরাং আমরা এটাকে সুন্নাহ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও এর মধ্যে তাহকিক রয়েছে। ফলে আল্লাহর নবী (সা.) নিষেধ করেছেন। রাসূল (সা.) বলেছেন,
‘সে তাঁর নখগুলো কাটবে না এবং চুলগুলো সে ছোট করবে না।’ এখান থেকে যেটা বোঝা যায় সেটা হলো, রাসূল (সা.) এটা নিষেধ করেছেন। তাই গুনাহ হবে, এ কথাটাও সে সঠিক বলেছেন।
হযরত উম্মে সালামা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোরবানি করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি যেন যিলহজ্বের প্রথম দিন থেকে কোরবানি করার আগ পর্যন্ত নখ, চুল না কাটে। (সহীহ মুসলিম ২/১৬০; জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৫২৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৭৯১)
উল্লেখ্য, এই বিধান তখনি প্রযোজ্য হবে যখন অবাঞ্ছিত পশম ও নখ না কাটার সময় ৪০ দিন থেকে বেশি না হয়। কেননা, সহীহ হাদীসে আছে, আনাস রা. বলেন, গোঁফ কর্তন করা, নখ কাটা, বগল পরিষ্কার করা ও নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করার বিষয়ে আমাদের জন্য
সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল যে, আমরা যেন ৪০ দিনের বেশি বিলম্ব না করি। [সহীহ মুসলিম ১/১২৯; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ২৮৭; আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৪৯৬] উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
bdview24.com — বিডিভিউ২৪.কম Bangla News from Bangladesh regarding politics, business, lifestyle, culture, sports, crime. bdview24 send you all Bangla News through the day.