মৃত

জিবরাঈল মারা গেছেন!

সাইদুর রহমান: একজন খ্রিষ্টান যাজক। সে প্রতিদিন এক মুসলিম শায়েখকে দাওয়াত দিত। তাকে বলত, তুমি ইসলাম ছেড়ে দাও, খ্রিষ্টধর্মকে নতুন ধর্ম হিসেবে গ্রহণ কর। ওই খ্রিষ্টান যাজক মুসলিম শায়েখকে আরও বলত, তুমি প্রতিদিন অযথা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়। কিয়াম কর, রুকু কর, সিজদা কর, পুরা মাস রোজা রাখ। তোমার জীবন তো সঙ্কটাপূর্ণ। তুমি তো শুকরের ধারেও যাও না, ইত্যাদি। এগুলোর (ইবাদত) প্রতি তোমার অনুরাগী হওয়ার দরকার নেই।

হে শায়েখ, তুমি যদি এ থেকে পরিত্রাণ পেতে চাও তাহলে তোমাকে বিশ্বাস করতে হবে, আল্লাহ একমাত্র তার পুত্রকে এই পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন এবং তিনি (পুত্র) মৃত্যুবরণ করেছে তোমার গোনাহের কারণে এবং তোমার নাজাতের জন্য। এ বিশ্বাসের পর তোমার মুক্তি। তোমাকে বিশ্বাস করতে হবে, আল্লাহ জমিনে এসে মৃত্যুবরণ করেছেন তোমার গোনাহের কারণে। এভাবে বিশ্বাস কর তাহলে জান্নাতে যেতে পারবে। এই খ্রিষ্টান যাজক প্রতিদিন মুসলিম শায়েখের কাছে যেত এবং উপরোক্ত কথা পুনরাবৃত্তি করত এবং কোনোদিন বিরত থাকতো না।

এভাবে প্রতিদিন যাওয়ায় মুসলিম শায়েখ সহজেই তার থেকে নিজেকে আড়াল করতে পারছিলেন না। তিনি অনেক চিন্তায় মগ্ন হলেন। কীভাবে তার থেকে মুক্ত থাকা যায়। অবশেষে আল্লাহ তায়ালা তার মাথায় সুবুদ্ধি দিলেন। তিনি তার প্রধান সহযোগীকে বললেন, আগামীকাল যখন পাদ্রী আসবে আমি কিছুক্ষণ তার সামনে অবস্থান করব, তারপর তুমি আমার কাছে এসে কানে কানে কিছু বলার ভান করবে।

পরদিন নিয়ম অনুযায়ী পাদ্রী এল। কিছুক্ষণ পর মুসলিম শায়েখের সহযোগি এসে তাকে কানে কানে কথা বলল। সাথে সাথে মুসলিম শেখ প্রচ- কাঁদতে শুরু করে। তখন যাজক জিজ্ঞাসা করল কেন কান্না করছ? মুসলিম বলল, আমি এখন বলতে পারব না। যাজক বলল, তুমি শান্ত হও এবং বল কী হয়েছে? মুসলিম বলল, না বিষয়টি অনেক বড়। বলা যাবে না।

পাদ্রী বলল, দ্রুত বল, আমার শিরা কাঁপছে। এরপর মুসলিম শেখ বলল, আমার কাছে একটি দু:খজনকব খবর এসেছে, ফেরেশতা জিবরাঈল মারা গেছেন! একথা শুনে ওই যাজক ঠাট্টার ছলে হেসে বলল, তুমি কী বোকা নাকি? ফেরেশতারা কখনও মরেন না। মুসলিম শেখ বলল, তাহলে তো তুমি সবচেয়ে বড় বোকা। যদি ফেরেশতা মারা না যান তাহলে তুমি ওই সত্তার ব্যাপারে কীভাবে ধারণা করো যে, তিনি মারা গেছেন। যিনি ফেরেশতাদের সৃষ্টি করেছেন।

নোট: ‘জিবরাঈল মারা গেছেন’ গল্পটি এ শিরোনামে প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার ও দাঈ আহমদ দিদাত বিতর্কচলাকালীন সময়ে বর্ণনা করেছিলেন। আরবি থেকে গল্পটি অনুবাদ করেছেন সাঈদুর রহমান। সম্পাদনা: ওমর শাহ