হযরত মূসা আ. আল্লাহর অনেক বড় প্রিয়পাত্র ছিলেন। তিনিই একমাত্র নবী ছিলেন যিনি দুনিয়াতেই আল্লাহর সাথে কথা বলেছেন। তিনি শারীরিকভাবে অত্যন্ত সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। মূসা আ. এর বিষয়ে অনেক আশ্চর্যজনক ঘটনা রয়েছে।
যেমন, হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মৃত্যুর সময় ফেরেশতাকে হযরত মূসা আ. এর নিকট পাঠানো হলো। ফেরেশতা মূসা আ. এর নিকট আসলে তিনি তাকে চপেটাঘাত করলেন। ফেরেশতার চোখ অন্ধ হয়ে গেল।
ফেরেশতা আল্লাহর নিকট ফিরে গিয়ে বললেন, আপনি এমন লোকের কাছে আমাকে প্রেরণ করেছেন যিনি মৃত্যুবরণ করছে ইচ্ছুক নন। আল্লাহ তার চুক্ষু ভালো করে দিলেন। অত:পর ফেরেশতাকে বললেন, তুমি পুনরায় তার নিকট গিয়ে তাকে একটি ষাড়ের পিঠে হাত রাখতে বল।
এরপর তাকে একথা বলো যে, যতটুকু স্থানে তার হাত পড়বে প্রতিটি পশমের বদলে তাকে এক বছর আয়ু দান করা হবে।
মুসা আ. আল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আমার প্রভু ! তারপর কি হবে ? তিনি বললেন, অবশ্যই মৃত্যু হবে। একথা শুনে হযরত মুসা আ. বললেন, তবে তো এখনই শ্রেয়। (সহিহ বুখারি, হাদীস নং ১২৫৮) হযরত মুসা আ. এর ইন্তেকালের ঘটনা।
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
গরুর গোস্ত সম্পর্কে মহানবী (সাঃ)’র সতর্কতা
গরুর গোশত সবারই প্রিয়। অন্যান্য ভোগযোগ্য হালাল পশুর চেয়ে গরুর চাহিদাই বেশি। একতো সহজলভ্য অন্যদিকে কড়া দাম। গরুর গোশত তাদের কাছে মজাদার ও প্রিয় যারা দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্ত। কিন্তু এ শ্রেণির মানুষের সংখ্যা নিতান্তই কম।
প্রতিদিনই প্রতি ঘরে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ডায়বেটিস, হৃদরোগ, হাই-পেসারসহ সব দুরারোগ্য ব্যাধিতে ডাক্তাররা বিশেষত গরুর গোশত খেতে নিষেধ করে থাকেন।
এখন দেখা যাক, ইসলাম কী বলে ? এ বিষয়ে ইসলামের সমাধান কী ? এত বড় ক্ষতিকর জিনিসই যদি হয় তাহলে ইসলামে কী এর কোনো ব্যাখ্যা নেই। অবশ্যই আছে। আজ থেকে চৌদ্দশত বছর পূর্বে মানবতার নবী, উম্মতের প্রতি দয়াল নবী মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গরুর গোশতের ব্যাপারে উম্মতকে সর্তক করে গেছেন।
কিন্তু আমরা শরীয়তের অন্যান্য বিষয়ের মত এ বিষয়টিও আমরা অবহেলা করেছি। যার দ্রুন মারাত্মক ব্যাধি আমাদের সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। গরুর গোশত খাওয়া হালাল। কিন্তু যেহেতু খেলে ক্ষতি হয় এজন্য এর থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
হযরত হাকেম এবং আবু নাঈম (র.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, “তোমরা অবশ্যই গরুর দুধ পান করো। কেননা তাতে শিফা ( আরোগ্য) রয়েছে অনুরুপভাবে এর ঘি ভক্ষণ করো। কেননা তা শিফা দানকারী (আরোগ্য দানকারী)। তবে এর গোশত থেকে বিরত থাকো। কেননা তাতে রোগব্যাধি রয়েছে।” (সূত্র : হাশিয়া মুসনাদে ইমাম আযম)
নবীজির এ নির্দেশনা আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে বলে গেছেন। যার সত্যতা আজ দিবালোকের ন্যয় স্পষ্ট হয়ে গেছে। তার এই নির্দেশনা নিয়ে গবেষণা করেছেন আধুনিক যুগের গবেষকরা। মেডিক্যাল গবেষকরা স্বীকার করেছেন গরুর গোশতে এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। এ ব্যাকটেরিয়া টি.বি. (যক্ষা) রোগ এবং হৃৎপি-ের মারাত্মক রোগ হয়ে থাকে।
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞগন এ বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান চালিয়ে এ তথ্য আবিষ্কার করেছেন যে, গরুর গোশত যেমন হৃৎপি-ের ফোঁড়ার কারণ হয়ে থাকে অনুরুপভাবে এর ফলে মস্তিষ্কের এক প্রকার মারাত্মক রোগ দেখা দেয়। যাকে মেডিক্যাল বিজ্ঞানে মেড-কাউ ডিজিজ বলা হয়।
ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টিফেন ডোরাল এক বক্তব্যে এ কথার সত্যায়ন করেছেন যে, গরুর গোশত ভক্ষণ ও ব্যবহারে এমন এক প্রকার রোগ অস্তিত্ব লাভ করে, যার নাম সি.জি.ডি।
এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি দেওয়ানা ও মাতাল হয়ে যায়। স্মরণশক্তি হারিয়ে ফেলে । এমনকি কোন কোন রোগী আত্মহননের পথ বেছে নেয়।ইংল্যান্ড, ইন্ডিয়া,কানাডা,তাইওয়ান এবং আফ্রিকার গরুতে এ রোগ অধিক হারে দেখা যায়।
এ কথাটি সর্বস্বীকৃতি লাভ করেছে যে, গরুর গোশত ভক্ষণে হৃদরোগ অতি মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। এমনকি হৃৎপি-ের ধুপ ধুপানী স্থবির হয়ে পড়ে। সুইডেনে টি.বি রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর একমাত্র কারণ অধিক মাত্রায় গরুর গোশত ভক্ষণ। অতঃপর যখন গরুর চিকিৎকসা হলো তখন বিস্ময়কর পন্থায় এতে পরিবর্তন সাধিত হলো এবং নতুনদের আক্রান্ত হওয়া বন্ধ হয়ে গেল।
অস্ট্রেলিয়াতে গরুর ফার্মগুলিতে রীতিমত মাসিক চেক আপের প্রচলন রয়েছে এবং সেখানে দৈনিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তারা এ বিষয়ের প্রতি জোর দিচ্ছে যে, যদি গরু সুস্থ থাকে তাহলে মানুষও সুস্থ থাকবে।
bdview24.com — বিডিভিউ২৪.কম Bangla News from Bangladesh regarding politics, business, lifestyle, culture, sports, crime. bdview24 send you all Bangla News through the day.