হযরত উমর রা. যে পথে হাঁটতেন সে পথে শয়তান হাঁটতো না

মুসলমানদের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর রা.। ইসলামের প্রথম সময়ে ইসলাম গ্রহন করেছেন। খেলাফতে রাশেদার শাসন আমলে হযরত ওমার রা. এর সময়েই ইসলামের বিস্তৃতি লাভ করেছে সবচেয়ে বেশী।

প্রায় অর্ধ জাহান শাসন করেছিলেন ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে। তার অতুচ্চ মর্যাদা সর্ম্পকে হাদীসে এসেছে, সা’দ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, উমার (রা.) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলে তখন কুরায়শ মহিলারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আলাপরত ছিল এবং উচ্চস্বরে তারা বেশি বেশি কথা বলছিল।

যখন উমার (রাঃ) অনুমতি চাইলেন, এরা উঠে আড়ালে চলে গেলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসছিলেন। উমার বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহর আপনার মুখকে হাস্যোজ্জ্বল রাখুন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এদের ব্যাপারে আশ্চোর্যবোধ করছি যারা আমার কাছে বসা ছিল। আর তোমার শব্দটি শোনামাত্রই আড়ালে চলে গেল। উমার (রা.) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকেই তো এদের বেশি ভয় করা উচিত। এরপর উমার (রা.) বললেন, ওহে! নিজের প্রাণের শক্ররা! তোমরা আমাকে ভয় কর আর আল্লাহর রাসুলকে ভয় কর না! তারা বললো, হ্যাঁ, তুমি তো আল্লাহর রাসূলের চেয়ে বেশি কঠোর এবং রাগি।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! শয়তান যখন তোমাকে কোন পথে চলতে দেখে, তখন সে তোমার পথ ছেড়ে অন্য পথ ধরে চলে। মুসলিম হাদীস নং ৫৯৮৫

অন্য আরেক হাদীসে ওমর রা. এর মর্যাদা সর্ম্পকে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি স্বপ্লে দেখলাম যেন ক‚পের চাক্কির বালতি দ্বারা একটি কুয়া থেকে পানি উঠাচ্ছি। তখন আবূ বকর এসে এক বালতি বা দুই বালতি তুললেন।

তাঁর উত্তোলনে ছিল দূর্বলভাব। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। এরপর উমার এসে পানি তোলা শুরু করলেন। আর বালতিটি বিরাট আকার ধারণ করল। লোকদের মাঝে এত বড় সবল জওয়ান আমি আর দেখি নি যে, তার মত কাজ করে। এমন কি লোকেরা তৃপ্তি লাভ করল এবং সেখানে উটশালা বানিয়ে ফেলল। মুসলিম হাদীস নং ৫৯৮০

শেয়ার করুন: