মুসলমানদের পবীত্র গ্রন্থ কুরআন-এ রয়েছে ৩০ টি পারা, যাতে রয়েছে ১১৪ টি সূরা। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় সূরাটি হলো সূরা বাকারা। এই সূরার ২৫৫ তম আয়াতটিকে বলা হয় গোটা কুরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময় আয়াত। স্বয়ং মহানবী রাসূল (সাঃ) বলেছেন, এটিই হচ্ছে আল কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত।
এটিই হলো আয়াতুল কুরসি। এই আয়াতের মাধ্যমে গোটা মহাবিশ্বের উপর মহান আল্লাহ্’র ক্ষমতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এই আয়াতের মাধ্যমেই মহাবিশ্বের সকল সৃষ্টির উপরে আল্লাহা’র একচ্ছত্র আধিপত্যের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, গোটা কুরআনের এক চতুর্থাংশ রয়েছে এই আয়াতেই।
আর এ কারণেই আয়াতুল কুরসিকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে ঘোষনঅ করেছেন তিনি।
আবু জর জুনদুব ইবনে জানাদাহ (রাঃ) রাসূলকে জিজ্ঞেস করেছিলেন,আপনার প্রতি সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন কোন আয়াতটি নাজিল হয়েছে? রাসূল (সাঃ) বলেছিলেন, আয়াতুল কুরসি।
উবাই বিন কাব থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) উবাই বিন কাবকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তোমার কাছে কুরআন মজীদের কোন আয়াতটি সর্ব মহান? তিনি বলেছিলেন, (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুআল্ হাইয়্যূল কাইয়ূম) তারপর রাসূলুল্লাহ্ নিজ হাত দ্বারা তার বক্ষে আঘাত করে বলেন, ‘আবুল মুনযির! এই ইলমের কারণে তোমাকে ধন্যবাদ।’ [সহীহ মুসলিম]
হজরত আলী (রাঃ) বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহকে (সাঃ) বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসী নিয়মিত পড়ে, তার জান্নাত প্রবেশে কেবল মৃত্যুই অন্তরায় হয়ে আছে।
যে ব্যক্তি এ আয়াতটি বিছানায় শয়নের সময় পডড়বে আল্লাহ তার ঘরে, প্রতিবেশির ঘরে এবং আশপাশের সব ঘরে শান্তি বজায় রাখবেন।’ [সুনানে বায়হাকী]
আয়াতুল কুরসি পাঠের মাধ্যমে গৃহ শয়তানের প্রভাভমুক্ত থাকে বলে অনেকেই এই পবীত্র আয়াত লিখে দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখেন। তবে এর বদলে প্রতিবার নামাজের পর আয়াতটি ঘরে পাঠ করলে সুফল পাওয়া যায় অধিক।
শুধু তাই নয়, কোথাও যাত্রা শুরুর আগে ওজু করে আয়াতটি পড়ে বের হয় বিপদমুক্ত থাকা যায় বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন আলেমরা।
আয়াতুল কুরসির উচ্চারণ : আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম লা তা’খুজুহু সিনাত্যু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিছছামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্। মান যাল্লাযী ইয়াস ফায়ু ইন দাহু ইল্লা বি ইজনিহি ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খল ফাহুম ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম্ মিন ইল্ মিহি ইল্লা বিমা সাআ ওয়াসিয়া কুরসিইউ হুস ছামা ওয়াতি ওয়াল আরদ্ ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুয়াল আলিয়্যূল আজীম।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া?
দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।
bdview24.com — বিডিভিউ২৪.কম Bangla News from Bangladesh regarding politics, business, lifestyle, culture, sports, crime. bdview24 send you all Bangla News through the day.