স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা বাড়াতে মহানবী সা. যে উপদেশ দিয়েছিলেন

মহান রাব্বুল আলামিনের একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলাম বলছে, পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ স্থাপিত না হলে পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়া যায় না, শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করা যায় না, এমনকি জান্নাতও লাভ করা যাবে না।

তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) মোমিনদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ বৃদ্ধির জন্য একটি চমৎকার পন্থা বাতলে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘তোমরা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার না হবে, তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ স্থাপন করবে।

আমি কি তোমাদের এমন বিষয়ের কথা বলব না, যা করলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ প্রতিষ্ঠিত হবে?

সাহাবিরা বললেন, নিশ্চয় ইয়া রাসুলাল্লাহ! (তিনি বললেন) ‘তোমাদের মধ্যে বহুল পরিমাণে সালামের প্রচলন করো।’
(মুসলিম : ৮১)।

অর্থ্যাৎ স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা বাড়াতে অবশ্যই প্রতিটি মুসলমানকে একে অপরকে সালাম দেয়ার অভ্যাস তৈরি করতেই হবে।

:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

রমজান মাস শেষ হলে আবার কবরের আজাব শুরু হয়?

রমজান মাস শেষ হলে- নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় দেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশনের জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

প্রশ্ন : আমরা জানি যে রমজান মাসে কবরের আজাব বন্ধ থাকে। কিন্তু রমজানের পর তাদের কবরের আজাব কি আবার শুরু হয়, নাকি কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়?

উত্তর : এই মর্মে কোনো হাদিস অথবা কোনো দলিল আসেনি। একটি হাদিস থেকে ওলামায়ে কেরামদের মধ্যে কেউ কেউ একটা বিষয় উৎঘাটন করেছেন। সেটি হচ্ছে এই— রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন রমজান মাস আসে তখন রহমতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় আর জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।’

রাসুল (সা.)-এর হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, কবরের আজাব তো মূলত জাহান্নাম থেকে আসে, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, কবরের আজাবগুলো বন্ধ হয়ে থাকে। এটা একদল ওলামায়ে কেরামের উৎঘাটন। এই উৎঘাটনটুকু যথাযথ নয়।

কারণ হচ্ছে, কবরের আজাব জাহান্নাম থেকে হচ্ছে নাকি অন্য কোনো জায়গা থেকে হচ্ছে, এই সম্পর্কে রাসুল (সা.)-এর হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে, জাহান্নাম থেকে কবরের আজাব হয়, কিন্তু অন্য স্থান থেকে, অন্য কোনো উৎস থেকে কবরের আজাব হয় না, এই মর্মে রাসুল (সা.)-এর কোনো বক্তব্য প্রমাণিত হয়নি।

বরং রাসুল (সা.)-এর সহিহ বুখারীর যে হাদিসটি রয়েছে, সেখান থেকে বোঝা যায় যে, কবরের আজাব শুধু জাহান্নাম থেকে হয় না, বিভিন্ন অপরাধের কারণেও কবরের আজাব হতে পারে। যেটি আল্লাহর নবী (সা.) হাদিসের মধ্যে উল্লেখ করেছেন। তাই কবরের আজাব রমজান মাসে বন্ধ থাকে এই বক্তব্য যথাযথ নয়, সঠিকও নয়।

দ্বিতীয়ত হচ্ছে, যদি ধরে নেওয়া হয় যে, রমজান মাসে কবরের আজাব বন্ধ থাকবে, এর অর্থ হচ্ছে শুধু রমজান মাসের জন্য বন্ধ থাকবে। রমজান মাসের পরে আবার কবরের আজাব শুরু হবে।

যে-ই কবরের আজাবের জন্য উপযুক্ত, তাঁর আজাব বজায় রাখা হবে। শুধু রমজান মাসকে বিশেষ গুরুত্বের কারণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা হয়তো তাঁদের শাস্তি লাঘব করবেন, এটা হতে পারে।

শেয়ার করুন: