টুপি পরিধান করা সুন্নাত, মুস্তাহাব। অনেক হাদীস আছে যেখানে বলা হয়েছে যে, মুহাম্মাদ (সা) সব সময় টুপি পরতেন এবং তার সাহাবীরাও।
ইবনে ওমর (রা) বলেন, রাসূল (সা) সাদা টুপি পরতেন; তাবারান অনুযায়ী ইমাম সুয়ুতি বলেন, রাসূল (সা) সাদা টুপি পরতেন। (সিরাজ আল মুনির, ১১২)
আরেক হাদীসে বলা হয়েছে, আনাস বিন মালিক (রা) সাদা টুপি দিয়ে তার মাথা ঢেকে রাখতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৮০২)
সমস্ত আলেমগণ একমত যে, টুপি পরা মুস্তাহাব এবং চার ইমামের সকলেই বলেন যে, সলাত আদায়ের সময় টুপি পরিধান করা মুস্তাহাব এবং না পরিধান করাটা মাকরূহ।
সুতরাং টুপি পরিধান করা মুস্তাহাব। কারণ এটা রাসূল (সা) করেছেন।
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
চীনে রোজা পালনে নিষেধাজ্ঞা, মুসলমানদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ!
বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে চীন বেশ পরিচিত। অথচ তারা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার দিক দিয়ে এ দেশটি শীর্ষে। তারা সে দেশের মুসলমানদের রোজা রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। চীনের শিনঝিয়াং প্রদেশে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহার করা জরুরি।
অন্যান্য বছরের মতো এবারও চীনের মুসলিম অধ্যুষিত শিনঝিয়াং অঞ্চলে সরকারি চাকুরিজীবী, শিক্ষার্থী এবং শিশুদের ওপর রোজা রাখায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির সরকার। চীনের শিনঝিয়াং প্রদেশে প্রায় এক কোটি মুসলমান বসবাস করেন। কিন্তু গত কয়েক বছরের মতো এবারও তাদের রোজা রাখা ও ধর্মীয় রীতি পালনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির সরকার।
১৭ মে চীনা সরকারি ওয়েবসাইটগুলোয় এই নির্দেশিকা জারি করা হয়। নির্দেশিকায় কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি চাকরিজীবী, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা রোজা রাখতে পারবেন না। পাশাপাশি মুসলিম মালিকদের রেস্তোরাঁ খোলা রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। শিনজিয়াং অঞ্চলে মূলত চীনের মুসলিম উইঘুর সম্প্রদায়ের মানুষরা বসবাস করেন।
কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলে রোজা রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে চীনের কমিউনিস্ট সরকার। শিনজিয়াংয়ের জিংহি কাউন্টির সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘পুরো রমজান মাসে হোটেল, রেস্তোরাঁসহ যাবতীয় খাবারের দোকান খোলা রাখতে হবে। এমন নানামুখী স্বৈরাচারি নির্দেশ মুসলমানদের উপর প্রায়ই নেমে আসে । যে কারণে দেশটিতে প্রায়ই দাঙ্গা বাধে।
উইঘুরের মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ বিষয়ে মন্তব্য করেছে যে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে জাতিগত উত্তেজনা বাড়বে। গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে জাতিগত দাঙ্গায় শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের এ বিষয়টি স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের যারপরনাই ব্যথিত করেছে। মুসলমানদের উপর কমিউনিস্টরা কতটা রুষ্ট, বিষয়টি তার প্রমাণ।
মিয়ানমারের মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা ও নির্যাতনের পর দেশত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় বয়ে গেলেও চীন ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়। সব দেশ তাদের ফেরত নেয়া এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের দাবিতে ঐকমত্য পোষণ করলেও চীন এর বিপক্ষে কেন ছিল, সে দেশে মুসলমানদের রোজা পালনে বাধা দেয়ায় তা স্পষ্ট হয়ে গেছে।
ধর্ম-কর্ম করা ব্যক্তির মৌলিক অধিকার। যে বা যারা এ অধিকারে হস্তক্ষেপ করবে, তারা স্বৈরাচার। এটা ওই ব্যক্তির মানবাধিকারেরও লঙ্ঘন। আধুনিকতার এ যুগে যা কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না। ধর্ম পালন করা যে কোনো মানুষের নিজস্ব বিষয়। এখানে জনগণের প্রতি আস্থাশীল রাষ্ট্রের সহযোগিতা করাই উত্তম। এর ব্যতিক্রম মানেই স্বৈরাচারের লক্ষণ।
অস্ত্র-অর্থ, ধন-সম্পদ আর জনবল চীন অনেক এগিয়ে। কিন্তু মানবিক দিয়ে দিয়ে তারা কতটা নীচে, সে দেশের মুসলমানদের রোজা রাখতে নিষেজ্ঞা জারি এবং মিয়ানমারের মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হওয়ায় প্রমাণ করে চীন পরমত সহিঞ্চু নয়। বরং মুসলিম নিপীড়নের পক্ষের শক্তি। ওরা হাল জামানার হিটলার। মানুষের মৌলিক ও মানবিক অধিকারের বিরুদ্ধ শক্তি।
চীনের মুসলমানদের শুধু নয়, সব ধর্মের মানুষ সেখানে যাতে নির্বিঘ্নে ধর্ম পালন করার সুযোগ করে দেয়া জরুরি। কথায় আছে, ধর্ম যার যার, দেশ সবার। যে দেশে সংখ্যালঘুরা যত স্বাধীনতা ভোগ করবে, মানব উন্নয়ন সূচকে সে দেশ ততটা এগিয়ে। অস্ত্র-অর্থ, ধন-সম্পদে চীন যত এগিয়ে, তার সবকিছুকে ম্লান করে দিচ্ছে, সে দেশের মুসলমানদের প্রতি করা বিমাতাসুলভ আচরণ।
চীনে মুসলমানদের রোজা পালনসহ ধর্মীয় কার্যাদি পালনের সব বাধা দূরীকরণে মুসলিম দেশগুলো এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সোচ্চার হওয়া সময়ের দাবি। মুসলিম-প্রধান দেশ ও পার্শ্ববর্তী দেশ, সর্বোপরি বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। সে দেশের মুসলমানরা যাতে কাল থেকে বাধাহীনভাবে রোজাসহ ধর্মীয় কার্যাদি পালনে সক্ষম হন, সে জন্য চীন সরকারের উপর চাপ প্রয়োগে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ থাকল।
bdview24.com — বিডিভিউ২৪.কম Bangla News from Bangladesh regarding politics, business, lifestyle, culture, sports, crime. bdview24 send you all Bangla News through the day.