রোজার বৈজ্ঞানিক উপকারিতা

রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও হাদীসে কি বলা হয়েছে তা আমরা সবাই কম-বেশি জানি। আসুন আমরা বিজ্ঞান তথা চিকিৎসা শাস্ত্রে রোজা সম্পর্কে কি বলা হয়েছে তা একটু জেনে নিই।

রোজা ফারসি শব্দ। আরবীতে একে বলা হয় সাউমুন বা সিয়াম। মুসলমানরা রোজা রাখলে তাকে বলা হয় সিয়াম। হিন্দু বা বৌদ্ধরা রোজা রাখলে তাকে বলে উপবাস। খ্রিষ্টানরা রোজা রাখলে তাকে বলে ফাস্টিং। আর মেডিক্যাল সাইন্সের ভাষায় রোজাকে বলা হয় “Autophagy” ( অটোফেজি) ।

তবে,মুসলমানদের রোজা রাখার ধরণের সাথে অন্যদের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

Autophagy গ্রীক শব্দ। Auto অর্থ নিজে নিজে এবং Phagy অর্থ খাওয়া। সুতরাং Autophagy মানে নিজে নিজেকে খাওয়া।

রোজা রাখাবস্হায় শরীরের কোষগুলো বাহির থেকে কোনো খাবার না পেয়ে নিজেই নিজের অসুস্হ কোষগুলো খেতে শুরু করে। তখন মেডিক্যাল সাইন্সের ভাষায় তাকে অটোফেজি বলে।

আরেকটু সহজভাবে যদি বলি, আমাদের ঘরে যেমন ময়লা ফেলার ঝুড়ি থাকে অথবা আমাদের কম্পিউটারে যেমন ‘রিসাইকেল বিন’ থাকে, তেমনি আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের মাঝেও একটি করে ঝুড়ি আছে। উল্লেখ্য, মানব শরীরে প্রায় ৬-১০ লক্ষ-কোটি কোষ আছে।

সারা বছর শরীরের কোষগুলো খুব ব্যস্ত থাকার কারণে ময়লার ঝুড়ি পরিষ্কার করার সময় পায়না। ফলে কোষগুলোতে অনেক ময়লা-আবর্জনা জমে যায়।

শরীরের কোষগুলো যদি নিয়মিত তাদের ঝুড়ি পরিষ্কার করতে না পারে, তাহলে কোষগুলো একসময় নিষ্ক্রিয় হয়ে শরীরে বিভিন্ন প্রকারের রোগের উৎপন্ন করে।

ক্যান্সার বা ডায়াবেটিসের মতো জীবন বিধ্বংসী রোগের শুরু হয় এখান থেকেই।

মানুষ যখন খালি পেটে থাকে, তখন শরীরের কোষগুলো অনেকটা বেকার হয়ে পড়ে। কিন্তু তারা তো আর মাদের মতো অলস হয়ে বসে থাকেনা। তাই প্রতিটি কোষ তার ভিতরের আবর্জনা ও ময়লাগুলো পরিষ্কার করতে শুরু করে।

কোষগুলোর আমাদের মতো আবর্জনা ফেলার জায়গা নেই বলে তারা নিজের আবর্জনা নিজেই খেয়ে ফেলে।

মেডিক্যাল সাইন্সের ভাষায় এ পদ্ধতিকেই বলা হয় Autophagy (অটোফেজি) ।

ঠিক এই জিনিসটা আবিষ্কার করার কারণেই জাপানের চিকিৎসক ‘ওশিনরি ওসুমি’ কে ২০১৬ সালে নোবেল কমিটি পুরস্কার প্রদান করেন।

সেই থেকেই প্রফেসর ‘ওশিনরি ওসুমি’ সপ্তাহে দুটি করে রোজা রাখেন।

প্রশ্ন হচ্ছে তাদের কাছে, যারা স্বাস্হ্যের কথা চিন্তা করে রোজা রাখেন না, তারা কিভাবে তাদের শরীরের অটোফেজি করে থাকেন ?

শেয়ার করুন: