পৃথিবীর ৭০% অক্সিজেন আসে মহাসাগর থেকে, আমাজন রেইনফরেস্ট থেকে নয়!

আমাজন রেইনফরেস্টকে সাধারণত “পৃথিবীর ফুসফুস” বলা হলেও, সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই ধারণাটি অতিরঞ্জিত প্রমাণিত হয়েছে। আসলে, পৃথিবীর অধিকাংশ অক্সিজেন উৎপাদন হয় মহাসাগরের ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন দ্বারা। এই ক্ষুদ্র অণুজীবগুলি সূর্যালোকের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন উৎপাদন করে। বিশেষ করে প্রোক্লোরোকক্কাস (Prochlorococcus) নামক একটি সায়ানোব্যাকটেরিয়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ করে, যা আমাদের প্রতিটি পাঁচটি শ্বাসের মধ্যে একটির জন্য দায়ী।

অন্যদিকে, আমাজন রেইনফরেস্টের মোট অক্সিজেন উৎপাদন পৃথিবীর মোট উৎপাদনের ৬-৯% এর মধ্যে সীমাবদ্ধ (কিছু উৎস অনুযায়ী এটি ২০% পর্যন্ত হতে পারে)। তবে, এই উৎপাদিত অক্সিজেনের বেশিরভাগই গাছপালা ও মৃত জৈব পদার্থের পচনের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়, ফলে এর নেট অবদান তেমন নেই। অর্থাৎ, াআমাজন যে পরিমাণ অক্সিজেন উৎপন্ন করে, প্রায় সেই পরিমাণ অক্সিজেন নিজেই ব্যবহার করে ফেলে।

যদিও অক্সিজেন উৎপাদনে আমাজনের সরাসরি অবদান সীমিত, তবুও এর গুরুত্ব অপরিসীম:

  • জৈববৈচিত্র্যের আধার: আমাজন রেইনফরেস্ট অসংখ্য পরিচিত প্রজাতির আবাসস্থল।
  • কার্বন শোষণ: এই বনাঞ্চল বিপুল পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে জলবায়ু পরিবর্তন হ্রাসে সহায়তা করে।
  • জলচক্র রক্ষা: আমাজন বনাঞ্চল বাষ্পীভবনের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর জলীয় বাষ্প সরবরাহ করে, যা বৃষ্টিপাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই কারণে, আমাজন রেইনফরেস্ট অক্সিজেন উৎপাদনে সীমিত অবদান রাখলেও, এটি জৈববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কার্বন শোষণ এবং বিশ্ব জলচক্র রক্ষায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। তাই, এই বনাঞ্চলের সংরক্ষণ আমাদের গ্রহের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ার করুন: