প্রজননকালে যৌনসঙ্গী পছন্দের ক্ষেত্রে স্ত্রী ব্যাঙেরা খুবই নাক উঁচু! কিন্তু পুরুষ ব্যাঙদের জবরদস্তির মুখে তাদের পড়তে হয়। তাই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পুরুষদের এড়াতে মৃত্যুর ভান করে স্ত্রী ব্যাঙেরা। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
বার্লিনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম থেকে প্রকাশিত গবেষণার ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
গবেষকেরা বলছেন, এ গবেষণা ইউরোপ অঞ্চলের সাধারণ ব্যাঙের বিষয়ে নতুন ধারণা দিয়েছে। স্ত্রী ব্যাঙেরা সঙ্গমের ক্ষেত্রে খুবই কম আগ্রহী। কারণ, প্রায়ই সঙ্গমের বেলায় এক স্ত্রী ব্যাঙের ওপর অনেক পুরুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা স্ত্রী ব্যাঙের মৃত্যুও ডেকে আনে।
বার্লিনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষণার প্রথম লেখক ড. ক্যারোলিন ডিট্রিচ বলেন, আগে মনে করা হতো, স্ত্রী ব্যাঙেরা সঙ্গী নির্বাচন ও পুরুষ ব্যাঙদের জবরদস্তি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে অক্ষম। কিন্তু এই গবেষণা বলছে, প্রজননের সময় স্ত্রী ব্যাঙেরা পুরুষ ব্যাঙদের জবরদস্তি নীরবে সহ্য করে না।
রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এ গবেষণায় ডিট্রিচ এবং তাঁর সহ–লেখক ড. মার্ক অলিভার রোডেল জানিয়েছেন, পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁরা প্রতিটি পুরুষ ব্যাঙকে দুটি স্ত্রী ব্যাঙের সঙ্গে একটি বাক্সে রেখেছিলেন। দুই স্ত্রী ব্যাঙের মধ্যে আবার একটি বড় এবং অন্যটি ছোট। সঙ্গমের সময় ব্যাঙদের আচরণ ভিডিও রেকর্ড করেন তাঁরা।
ফলাফলে দেখা যায়, সঙ্গম করা ৫৪টি স্ত্রী ব্যাঙের মধ্যে ৮৩ শতাংশই পুরুষের জবরদস্তির শিকার হয়েছে, পুরুষ ব্যাঙেরা তাদের জাপটে ধরেছে। তখন স্ত্রী ব্যাঙ শরীর মোচড়ানোর চেষ্টা করেছে।
সঙ্গমের জন্য পুরুষ ব্যাঙ আঁকড়ে ধরে রাখা ৩৩ শতাংশ স্ত্রী ব্যাঙ বাহু ও পা শক্ত করে প্রসারিত করে মৃত্যুর ভান ধরেছিল। দেখে মৃত বলেই মনে হয়। একই সঙ্গে এ সময় এরা শরীর মোচড়ায় এবং ডাকাডাকি করে। ছোট দৈহিক আকৃতির স্ত্রী ব্যাঙেরা একই সঙ্গে বড় আকৃতিরগুলোর তুলনায় বেশি বেশি এই তিন কৌশল ব্যবহার করে।
স্ত্রী ব্যাঙদের মৃত্যুর ভান করার বিষয়টি আগেও জানা ছিল উল্লেখ করে ডিট্রিচ বলেন, ‘আমি ১৭৫৮ সালে প্রকাশিত রোসেল ভন রোজেনহফের লেখা একটি বই পেয়েছি। বইটিতে এই আচরণের বর্ণনা রয়েছে, যা পরে আর আলোচনায় আসেনি।’
স্ত্রী ব্যাঙদের মৃত্যুর ভান ধরা বিপদ মুহূর্তে প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়ার অংশ হতে পারে। বিশেষ করে ছোট এবং অল্প বয়সী স্ত্রী ব্যাঙের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। প্রজননে কম অভিজ্ঞতার কারণে তুলনামূলক বেশি উদ্বেগ থেকে এরা এমনটি করে থাকতে পারে।
কৌশল তিনটি প্রয়োগ করে অনেক স্ত্রী ব্যাঙই পুরুষদের খপ্পর থেকে মুক্তি পায়। গবেষণায় ২৫ শতাংশ স্ত্রী ব্যাঙ এমন মৃত্যুর ভান করে পালাতে সক্ষম হয়েছে।
তবে গবেষকেরা স্বীকার করেছেন, এই আচরণের অন্য উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। স্ত্রী ব্যাঙদের শরীর মোচড়ানোর মাধ্যমে পুরুষ ব্যাঙটিকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সহায়ক হতে পারে। এটি সম্ভবত, পুরুষ ব্যাঙটির শক্তি এবং সহনশীলতার একটি পরীক্ষা। এমন প্রবণতা অস্তিত্ব টিকে রাখার প্রবণতার অংশ হতে পারে—অর্থাৎ পুরুষটি তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে তাড়াতে পারে কি না বা বহু পুরুষ প্রতিযোগীকে পরাজিত করে স্ত্রী ব্যাঙটিকে জয় করতে পারে কি না তার একটি শক্তি পরীক্ষা।
অবশ্য এই গবেষণার সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এর মধ্যে ছোট স্ত্রী ব্যাঙেরা এই কৌশলগুলো ব্যবহার করে অপছন্দের পুরুষ ব্যাঙকে এড়াতে অন্যগুলোর চেয়ে সফল হয় কি না সে ব্যাপার নিশ্চিত হতে আরও বড় আকারের নমুনা নিয়ে কাজ করতে হবে। এ ছাড়া গবেষণায় প্রতি জোড়া স্ত্রী ব্যাঙের সঙ্গে মাত্র একটি পুরুষ রাখার বিষয়টিও এ গবেষণার একটি দুর্বলতা।
কৌশলগুলো প্রকৃতিতে সফলভাবে ব্যবহার হতে পারে জানিয়ে ডিট্রিচ বলেন, ‘বাস্তবে আমরা প্রায়শই সঙ্গমের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করে থাকি। তবে দেখা যায়, স্ত্রী প্রাণীরা সহজেই পালাতে সক্ষম হয়, কারণ তাদের সেই সুযোগ থাকে।’
গবেষণাটি স্ত্রী ব্যাঙদের আচরণ সম্পর্কে নতুন অন্তর্দৃষ্টি দিয়েছে উল্লেখ করে ডিট্রিচ বলেন, ‘যদি আমরা এই প্রজাতিটিকে একটি সাধারণ ব্যাঙ বলি এবং ভাবি যে, এ ব্যাপারে সব জেনে গেছি, তা ভুল হবে। এর এমন কিছু দিক রয়েছে যা আমরা জানি না এবং সম্ভবত চিন্তাও করিনি।’
bdview24.com — বিডিভিউ২৪.কম Bangla News from Bangladesh regarding politics, business, lifestyle, culture, sports, crime. bdview24 send you all Bangla News through the day.