শেখবাড়ি জামে মসজিদ
শেখবাড়ি জামে মসজিদ, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ

বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ১৬৮ বছরের প্রাচীন মসজিদ

► মসজিদটি ১৮৫৪ সালে স্থাপিত হয়। সে হিসেবে মসজিদের বয়স ১৬৮ বছরের বেশি। প্রাচীন এই মসজিদটি শেখ পরিবারের আধ্যাত্মিক জীবনের স্মৃতি বহন করে

► মসজিদটি এক সময় শাল কাঠের খুঁটি ও টিনের ছিল, পরবর্তী সময়ে তা পাকা করা হয়

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শেখ পরিবারের স্মৃতিচিহ্ন শেখবাড়ি জামে মসজিদ। এর প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুর পূর্বপুরুষ জমিদার শেখ কুদরতউল্লাহ। বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের আঙিনার মধ্যে একটি বড় মসজিদ স্থাপিত হলেও এই মসজিদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। মসজিদের গেটের ওপর লাগানো নেমপ্লেট থেকে জানা যায়, এই মসজিদটি ১৮৫৪ সালে স্থাপিত হয়।

সে হিসেবে এই মসজিদের বয়স ১৬৮ বছরের বেশি। প্রাচীন এই মসজিদটি শেখ পরিবারের আধ্যাত্মিক জীবনের স্মৃতি বহন করে। মসজিদের বর্তমান ইমাম হাফেজ কাজি ইয়াদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর বাবা শেখ লুত্ফুর রহমান (রহ.), দাদা শেখ আব্দুল হামিদ (রহ.) রাও এই মসজিদে নামাজ পড়তেন। শুধু তা-ই নয়, মুজাহিদে আযম আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.) ও মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (রহ.) প্রমুখ এই মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন বলে মসজিদের পেশ ইমামের কাছ থেকে জানা যায়।

শেখ পরিবারের গোড়াপত্তন হয় একজন ধার্মিক পুরুষের মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীতে তিনি লেখেন, ‘শেখ পরিবারের গোড়াপত্তন করেন এক ধার্মিক পুরুষ, হয়তো সেই ধারাবাহিকতায় তাঁদের পরিবারে ধর্মানুরাগ বরাবরই ছিল। এ বিষয়ে তাঁর আত্মজীবনীতে তিনি লেখেন, ‘শেখ বোরহানউদ্দিন নামে এক ধার্মিক পুরুষ এই বংশের গোড়াপত্তন করেছেন বহুদিন আগে। শেখ বংশের যে একদিন সুদিন ছিল তার প্রমাণস্বরূপ মোগল আমলের ছোট ছোট ইটের দ্বারা তৈরি চকমিলান দালানগুলো আজও আমাদের বাড়ির শ্রীবৃদ্ধি করে আছে। ’ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী : পৃ.৩)

সম্ভবত শেখবাড়ির মসজিদের পাশে অবস্থিত মোগল স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি নান্দনিক স্থাপনাটির কথাই তিনি তাঁর আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন।

মসজিদের বর্তমান সভাপতি শেখ বোরহানউদ্দিন (যার নাম শেখ বংশের গোড়াপত্তনকারীর সঙ্গে মিলে যায়) বলেন, ‘মসজিদটি এক সময় সাল কাঠের খুঁটি ও টিনের ছিল, পরবর্তী সময়ে এরশাদের আমলে তা পাকা করা হয়। বর্তমানে মসজিদের যে স্থাপনাটি আছে, সেটা বর্তমান কমিটির উদ্যোগে করা হয়েছে। ’ মসজিদের বর্তমান স্থাপনাটি বেশ দৃষ্টিনন্দন। ভেতরে ও বাইরে নান্দনিক টাইলস, সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও পরিচ্ছন্ন।

মসজিদের ইমামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মসজিদটি পাঁচ শতক জমির ওপর রয়েছে। এতে এলাকার মুসল্লিদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আগত কোনো কোনো দর্শনার্থীও নামাজ পড়েন। জুমার নামাজে মসজিদের বাইরের আঙিনায়ও মুসল্লিদের ভিড় জমে।

এ ছাড়া প্রতিদিন সকালে এখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের অধীনে কোমলমতি শিশুদের কোরআন শিক্ষা দেওয়া হয়। মসজিদকেন্দ্রিক এই মক্তব পরিচালনায় রয়েছে আলাদা শিক্ষক। প্রতিদিন এলাকার কোমলমতি শিশুরা এখান থেকে বিশুদ্ধ কোরআন শিক্ষা করে। মসজিদের সামনেই বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ, মসজিদের ইমাম সাহেবকে প্রশ্ন করেছিলাম, এখানে কি বঙ্গবন্ধুর ঈসালে সাওয়াবের জন্য কোনো ব্যবস্থা করা হয়েছে? উত্তরে তিনি বলেন, তিনিসহ এখানে আরো একাধিক আলেম দায়িত্বে আছেন, যাঁরা প্রতিদিন বঙ্গবন্ধুর ঈসালে সাওয়াবের নিয়তে কোরআন তিলাওয়াত করেন।