ফক্সটেল অর্কিড

অর্কিড বিষয়ক প্রশ্ন ও উত্তর

শুভ সালাতিন

১. ঘরে কোথায় অর্কিড রাখা ভালো? অর্কিড রাখতে হয় ঘরের ভিতরে জানালার পাশে। দক্ষিণ কিংবা পূর্বমুখী জানালা বেশী উপকারী। পশ্চিমমুখী জানালায় সাধারণত বিকেলের দিকে গরম অনূভুত হয় আর উত্তররর জানালা বেশ অন্ধকার থাকে। জানালায় পর্দা থাকা ভালো, এতে মাত্রা সহনীয় থাকে। অতিরিক্ত আলোয় পাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়- তাই ঋতুভেদে অর্কিড গাছের অব®হান পরিবর্তন করা বাঞ্ছনীয়। গাছকে জানালার কাছে বা দুরে সরিয়ে আলোর তারতম্য ঘটানো যায়। মনে রাখতে হবে অর্কিডের পাতা যেন জানালার গ্লাসকে স্পর্শ না করে। শীতকালে অর্কিডের পাতা জানালা স্পর্শ করলে জমে যেতে পারে।

পাতার রঙ দেখে বোঝা যায় গাছটি সঠিক আলো পাচ্ছে কি না? পাতার রঙ যদি গাঢ় সবুজ হয় তাহলে গাছটি পর্যাপ্ত আলো পা্েছ না। ঘাসের মতো সবুজ রঙ ( হাল্কা অথবা মিডিয়াম সবুজ সাথে হলদে আভা ) হলে বুঝতে হবে অর্কিড গাছটি ফুল ফোটাঁনোর জন্য পর্যাপ্ত আলো পাচ্ছে।

২. অর্কিডে কিভাবে পানি দিব? অর্কিডে অতিরিক্ত পানি দেওয়ার চেয়ে খুব কম মাত্রায় দেওয়া ভালো । অতিরিক্ত পানিতে শিকড় পচে যায়। অতিরিক্ত পানির ফলে গাছের পাতা ঝরে যেতে পারে এমনকি অর্কিড গাছটি মরেও যেতে পারে। সবচেয়ে প্রচলিত মতে গাছ শুকিয়ে যাওয়ার এক দিন পূর্বে পানি দিনর্। শুষ্ক অর্কিডসহ টবের ওজন সাধারণত কম হবে ভেজা থাকার চেয়ে। ভেজা ও শুকনো টবের ওজন ভালোভাবে বুঝতে পারলে পানি দেওয়া সহজ হয়। একটি পেন্সিল চোখা করে ছেঁচে নিন এবং পেন্সিলটি টবের ভিতর মিডিয়াতে ঢুকিয়ে দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। যদি পেন্সিলসহ শীশটি আর্দ্র মনে হয়, তাহলে পানির প্রয়োজন নেই। টবের মিডিয়ামের ভিতর হাত দিলে যদি আর্দ্রতা অনূভূত হয়, তাহলে পানি দেওয়ার প্রয়োজন নাই।

সকালে পানি দেওয়া সবচেয়ে ভালো। সকালে পানি দিলে সারাদিনে গাছটি পযাপ্ত পানি টেনে নিবে এবং দিনের তাপমাত্রায় অতিরিক্ত পানি তাপে শোষিত হবে। রাতে পানি দেওয়া উচিৎ নয়। এতে ফাঙাসের উপদ্রব হতে পারে। ঘরের তাপমাত্রা যদি বেশী হয় এবং আর্দ্রতা কম হয় (সাধারণত গ্রীষ্মকালে) তাহলে বেশ কয়েকবার পানি দেওয়া যেতে পারে। ঘওে পালিত অর্কিডের ক্ষেত্রে টবসহ অর্কিডটি রান্না ঘরের সিংকে মিনিট সাতেক ডুবিয়ে রেখে তুলে ফেলুন।

কিভাবে ভালো অর্কিড কিনবো? একটি অর্কিড কেনার সময় যেসব বিষয়ে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে সেগুলো হলো:-

(১) মিডিয়াতে অর্কিডটির শিকঁড় থাকতে হবে। গাছটি যেন মিড়িয়াতে শক্তভাবে দাড়িয়ে থাকে। চারা কেনার চেয়ে কলিসহ ফুল ফোঁটা অর্কিড গাছ কেনা ভালো। পাতার রঙ মধ্যম সবুজ কিনা দেখতে হবে। দৃশ্যমান কীট-পতংগমুক্ত হতে হবে।

(২) ফুল যেন টাটকা থাকে । ফাংগাসের স্পট থাকা চলবে না। সব ফুল ফঁটে গেছে, এরকম অর্কিডের চেয়ে দু-একটি কলি রয়েছে এরকম অর্কিড গাছ কেনাই শ্রেয়। সব ফুল ফোটা থাকলে, ফুলের আয়ুকাল বোঝা যায় না। পাত্র যেন পরিষ্ক্রা পরিচ্ছন্ন থাকে। টবের গায়ে শ্যাওলা থাকলে পরিষ্কার করে দিতে বলুন বিক্রেতাকে।

(৩) কেনার সময় বিক্রেতার সাথে দরকষাকষি করুন। কখনও একদামে কিনবেন না।

অর্কিড কি পরগাছা জাতীয় গাছ? অর্কিড পরগাছা নয় । অর্কিড পুরানো গাছ, পাথর খন্ড বা গাছের ডাল আঁকড়ে ধরে আদ্রতা শুষে নেয়। অর্কিড পানি,বাতাস ও আলো থেকে খাবার তৈরী করে। অর্কিডকে যে গাছ ধারন করে, তা মরে যায় না।এ থেকেই প্রমাণিত হয় অর্কিড পরগাছা নয়।

অর্কিড পালন কি খুবই কঠিন? আপনার যদি একখন্ড খোলা বারান্দা বা ছাদ থাকে , তাহলে খুব সহজেই অর্কিড চাষ করা যায়। অর্কিড চাষের জন্য প্রয়োজন আলো, বাতাস আর তরল সার আর যতœ। নিয়মকানুন সঠিকভাবে
জানলে অর্কিড সহজেই চাষ করা যায়।

আমাদের দেশে কোন অর্কিডগুলো জনপ্রিয়? আমাদের দেশে বনে-বাদাড়ে আম, বেল, জাম,তেতুল ও বিশাল আকারের পুরানো রেইনট্রি-তে দেশী অর্কিড ঝুলে থাকতে দেখা যায়। দেশী অর্কিডের মধ্যে রয়েছে ভ্যান্ডা,পিয়েরারডি,ভ্যান্ডাটারেট,এরাডাউস,ফক্সটেইল। এই অকিডগুলো বাগানের বেড়া দেওয়ার জন্য আর্দশ।মার্চ মাস থেকে ফুল ফোঁটা শুরু হয়। বিদেশী অর্কিডগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যাটালিয়া, অনসোডিয়াম,ভ্যান্ডা,ফেলোনপসিস,ড্যান্সিংডল ইত্যাদি।

অর্কিড কি জংগলী ফুল? বেশ কিছু অর্কিড এসেছে জংগল থেকে। বিভিন্ন দেশে তাদের নিজস্ব অর্কিড আছে। থাইল্যান্ড,মালয়েশিয়া,ভারত,ভূটান,বাংলাদেশের নিজস্ব অর্কিড রয়েছে।
আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড-এর নিজস্ব অর্কিড রয়েছে।