প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে রাতে ফোটে সাদা ফুল। সেই ফুলের তীব্র সুগন্ধ মন কাড়ে। দিনে ফোটা ফুলের বেশির ভাগই রঙিন এবং তুলনামূলক কম সুগন্ধ ছড়ায়। এই তফাতের একটা কারণও আছে।
রাতের আঁধারে ফুলের সুগন্ধে আকৃষ্ট হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে পতঙ্গ। আর সাদা বলে অন্ধকারে পতঙ্গগুলো সহজেই ফুল খুঁজে পায়। কীটপতঙ্গ ফুলের মধু খেতে এসে পরাগায়ণ ঘটায়। এই প্রক্রিয়ায় ফল সৃষ্টি হয়। বিপরীতে দিনের ফুলের আলাদা এমন কোনো বৈশিষ্ট্যের প্রয়োজন হয় না। দিনে ফোটে এমন অনেক রঙিন ফুল সুগন্ধহীন হয়। এমনই এক ভিন্ন সৌন্দর্যের ফুল হলো ব্রাশ ফুল।
ব্রাশ ফুল বহুবর্ষী শক্ত লতা। গেট বা মাচায় একবার লাগিয়ে দিলে দ্রুতই ছড়িয়ে যায়। তারপর একই লতা ফুল দেয় বছরের পর বছর। শুধু প্রতিবছর কেটেছেঁটে ঠিক রাখতে হয়। এর গাঢ় সবুজ পাতা হয় লম্বাটে ধরনের। লতার দুই পাশে দুটি পাতা ছড়িয়ে থাকে। লতার অগ্রভাগে গ্রীষ্ম-বর্ষায় ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। লম্বা পুষ্পমঞ্জরির ওপরের দিকে ফুল ফোটে। কলি দেখতে লাল রঙের, মাছের চোখের মতো। লাল রঙের পাপড়ি-বোঁটা একই সঙ্গে তিন সেন্টিমিটারের মতো লম্বা হয়।
জড়ানো পাপড়ির মধ্যে থেকে সোনালি পুংকেশর ছয়-সাত সেন্টিমিটার লম্বা হয়। সুতার মতো পুংকেশর বাসি হলে লাল রং ধারণ করে। একটি পুষ্পমঞ্জরিতে একসঙ্গে অনেক ফুল ফোটে। ফুলের মঞ্জরি দূর থেকে দেখে মনে হয় লতার ডগায় একটি লাল ব্রাশ। এ কারণেই ফুলটির নাম হয়েছে ব্রাশ ফুল। ব্রাশ ফুলে মধু খেতে মৌমাছিরা লুটোপুটি খায়।
সম্প্রতি রাজধানীর বলধা গার্ডেনে চমৎকার এই ব্রাশ ফুল চোখে পড়ে। এই ফুল ফুটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের বোটানিক্যাল গার্ডেনের গেট ও ভেতরে। মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনেও রয়েছে এই ফুল।
অনেকে অবশ্য এই ফুলকে ‘কম্ব্রেটাম’ নামে চেনে। একসময় দুর্লভ হলেও এখন অনেকেই একে ভালোবেসে লাগায় গেটে বা ছাদে। সুন্দর এই ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Combretum coccineum ব্রাশ ফুল ফুলদানিতে থাকে কয়েক দিন। এ দেশে এর বীজ হতে দেখা যায়নি। চারা করা যায় দাবাকলমে।
bdview24.com — বিডিভিউ২৪.কম Bangla News from Bangladesh regarding politics, business, lifestyle, culture, sports, crime. bdview24 send you all Bangla News through the day.