ফক্সটেল অর্কিড

রাস্নার গাছের যত্ন ও উপকারিতা

রাস্না বা ধ্রুপদী মালা বা ফক্সটেল অর্কিড। দেখলে মনে হয় কৃত্রিমভাবে কেউ গাছটিকে ফুল দিয়ে সজ্জিত করেছে। অদ্ভুদ সুন্দর দেখতে এই ফুলগুলো কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদ সংলঘœ রাস্তা ও নদীর ধারে সারিবদ্ধ ভাবে কয়েকটি অর্ধশতবর্ষী বৃষ্টি (রেইনট্রি) গাছগুলোকে আকঁড়ে বেঁচে আছে অনেক দিন ধরে। তার রূপ ও সৌন্দর্য্যের পূর্ণ বিকশিত হওয়ার উপযুক্ত সময় বসন্তকাল। রাস্না শুধু সৌন্দর্য্যইে নয় নানান ঔষধি গুণেও সমৃদ্ধ। সরাসরি সূর্যালোক বা অতিরিক্ত পানি এদের বেঁচে থাকার জন্য ক্ষতিকর।

পরিচিতিঃ নল রাস্না একটি ভূমিজ অর্কিড। পাহাড়ে জন্মে এ অর্কিড। রাস্নার বৈজ্ঞানিক নাম arundina graminifolia।

বর্ণনাঃ উদ্ভিদ বহুবর্ষজীবী, স্থলজ বীরুৎ। কাণ্ড ১০০ সেন্টিমিটােরর বেশি লম্বা। ঘাসসদৃশ অনেক পাতাবিশিষ্ট। পাতা ও গাছ দেখতে নল ঘাসের মতো। ফুলটির ছড়াগুলো প্রায় ৩-৪ হাত পর্যন্ত লম্বা হয়। এক জায়গা থেকেই ১০-১৫টি ছড়া বের হয়। যখন ফুল হয় তখন কোন পাতা থাকেনা। যখন পাতা থাকে তখন কোন ফুল থাকেনা। যখন বীজ হয় তখন কোন ফুল থাকেনা। বর্ষাকাল আসলেই পাতা গজাতে শুরু করবে।” ফুলের রঙ হালকা গোলাপী ও বেগুনী রঙের সংমিশ্রণ। চার-পাচঁটি পাপড়িযুক্ত।

উৎপত্তিঃ আসাম, বাংলাদেশ, পূর্ব হিমালয়, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলংকা, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, লাউস, মালয়েশিয়া, বর্ণী, জাভা, সুমাত্রা, অস্ট্রেলিয়া।

বিস্তৃতিঃ এটি বাংলাদেশের রাঙামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি ও সিলেট জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে আছে।

রাস্না গাছের উপকারিতাঃ আদিবাসীরা রাস্নার শিকড় দিয়ে পেস্ট তৈরি করে বাত ও ব্যথা নিরাময় করে। সর্প দংশনের চিকিৎসায় শিকড়ের নির্যাস ব্যবহার করা হয়। শরীরের চর্ম রোগ দূর করার জন্য রাস্নার শিকড় উপকারি। এটি তৈরি করার জন্য রাস্নার পাশাপাশি মেহেদী গাছের ছাল, ঢারু হরিত্রা ফল, স্থল পদ্ম ফুল, মশুরের ডাল একসাথে পেস্ট করতে হয় এবং সারা শরীরে অথবা যে অংশে চর্মরোগ আছে সেই স্থানে ১০-১৫ মিনিট মেখে রাখতে হয়। রাস্নার শিকড়ের নির্যাস রূপ চর্চার জন্য ব্যবহার করা হয়।

প্রকৃতিকে তার নিজস্ব স্বকীয়তায় টিকে থাকার সুযোগ দিলে প্রাকৃতিকভাবেই তার সর্বস্ব দিয়ে সজ্জ্বিত করবে এবং সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখবে প্ররিবেশ ও প্রতিবেশের মাঝে। তাই আসুন প্রকৃতির প্রতি সহিংসতা বন্ধ করি এবং সংরক্ষণে যত্নশীল হই।