গাছের বেঁচে থাকার জন্য বিভিন্ন প্রকার খাদ্যের প্রয়োজন হয়। গাছ মাটি ও বাতাস থেকে তার খাদ্য গ্রহন করে। মাটির বিভিন্ন খাদ্য উপাদান পানির সাথে মিশে গাছের গ্রহন উপযোগী হয়। সাধারণত গাছ মাটি থেকে শেকড় দিয়ে খাদ্য উপাদান গ্রহন করে এবং পাতার ক্লোরোফিল ও সূর্যের আলোর সাহায্যে নিজের খাদ্য তৈরী করে।সরাসরি আউটডোরে মাটিতে লাগানো গাছ এই খাবার বিভিন্ন উৎস থেকে পেয়ে থাকে । কিন্তু পটে লাগানো গাছে এসব খাদ্য উপাদান বুঝেশুনে সরররাহ করতে হয়।
গাছ যে সব খাদ্য উপাদান গ্রহন করে তারমধ্যে ১৬ টি উপাদানকে অত্যাবশ্যকীয় মনে করা হয়।এর মধ্যে গাছ বাতাস এবং পানি হতে কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন গ্রহণ করে ও অন্যান্য ১৩ টি উপাদান মাটি হতে সংগ্রহ করে এবং এই ১৩ টি উপাদান কে বলা হয় খনিজ পুষ্টি (Mineral Nutrients)। গাছের পুষ্টি গ্রহনের পরিমাণের উপরে নির্ভর করে এই পুষ্টি উপাদান কে মোট ২ ভাগে ভাগ করা যায়। নিচে পটের মাটিতে এই পুষ্টি উপাদান গুলোর উৎস আলোচনা করা হলো:
মূখ্য উপাদান (Macro nutrient)
১.নাইট্রোজেন -ভার্মিকম্পোস্ট,কোকোপিট
২.ফসফরাস-ভার্মিকম্পোস্ট,হাড়ের গুঁড়ো ,কোকোপিট,কাঠ কয়লা
৩.পটাশিয়াম-কাঠ কয়লা,কোকোপিট
৪.ক্যালসিয়াম-ভার্মিকম্পোস্ট,হাড়ের গুঁড়ো ,কাঠ কয়লা
৫.ম্যাগনেসিয়াম-ভার্মিকম্পোস্ট,কোকোপিট,কাঠ কয়লা
৬.সালফার-ভার্মিকম্পোস্ট,কাঠ কয়লা
গৌণ খাদ্য উপাদান (Micro nutrient) –
৭.আয়রন-কাঠ কয়লা
৮.জিংক-ভার্মিকম্পোস্ট,কাঠ কয়লা
৯.ম্যাংগানিজ-ভার্মিকম্পোস্ট
১০.কপার-ভার্মিকম্পোস্ট
১১.বোরন-ভার্মিকম্পোস্ট
১২.মলিবডেনাম-ভার্মিকম্পোস্ট
১৩.ক্লোরিন
গাছের পুস্টি যোগাতে প্রয়োজনীয় উপকরন:
ভার্মি কম্পোস্ট(কেঁচো সার): কেঁচো সারে, ইউরিয়া, টিএসপি, ক্যালসিয়াম সালফেট ম্যাগনেশিয়াম সালফেট, জিপসাম, জিঙ্ক সালফেট, কপার সালফেট, মাঙ্গানিজ সালফেট, বোরিক এসিড, অ্যামোনিয়াম মলিবডেট পাওয়া যায়। অর্থাৎ অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যোপাদানের প্রায় সবই আছে ভার্মি কম্পোস্টে। এতে আরো আছে গাছের খাদ্য তৈরিতে সহায়ক ব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনুমাইসিটিজ, এজোটোব্যাক্টর, রাইজোবিয়াম, ফসফেট সলিবুলাইজার, নাইট্রোব্যাক্টর।
কোকোপিট: কোকোপিটে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে । কোকোপিটে দ্রুত পানি ও বাতাস চলাচল করতে পারে ফলে গাছের শিকড় দ্রুত বাড়ে। গাছের শিকড় বাড়ার কারনে গাছও দ্রুত বাড়ে এবং স্বাস্থ্যবান হয় ও ক্ষতিকারক ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে না।কোকোপিটে আছে পানি ধরে রাখার অসাধারন ক্ষমতা ।কোকোপিট ব্যবহার করলে বার বার পানি দেওয়ার ঝামেলা কমে যায় ।গাছের জন্য যতটুকু পানি দরকার ঠিক ততটুকু পানি কোকোপিট ধারন করে রাখে ফলে গাছের শিকড়ে পঁচন ধরে না।
হাড়ের গুঁড়ো: হাড়ের গুঁড়ো থেকে গাছ প্রধানত অত্যাবশ্যকীয় ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম নেয়।
কাঠ কয়লা: এটি মাটির pH মান নিরপেক্ষ রাখে । মাটির পিএইচ মান ঠিক না থাকলে অর্থাৎ এসিড বা ক্ষারের পরিমানে কমবেশি হলে মাটিতে পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান থাকা সত্বেও গাছ তা গ্রহন করতে পারে না ।অ্যাসিড এবং নিরপেক্ষ মাটির জন্য কাঠ কয়লা একটি আদর্শ উপাদান। এতে পটাসিয়াম এবং ফসফরাস ছাড়াও ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, সালফার, ম্যাগনেসিয়াম এবং আয়রন গাছগুলির জন্য সহজে হজমযোগ্য আকারে থাকে।
লাল পাথুরে বালি: ড্রেনেজ মেটেরিয়াল হিসাবে কাজ করে।এটি গাছের গোড়ায় অতিরিক্ত পানি জমে থাকতে দেয় না।
ফাঙগিসাইড: ফাংগাল এ্যাটাক থেকে গাছকে রক্ষা করে।
কার্বোফুরান: এটি ক্ষতিকর পোকা মাকড় প্রতিরোধক এবং প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে। অর্থাৎ মাটিতে ক্ষতিকারক পোকা, নেমাটোড, শামুক ইত্যাদি দমন করে। পোকা লাগার আগে ব্যবহার করলে পোকা লাগবেনা এবং পোকা লাগার পর ব্যবহার করলে পোকা মারা যায়। ইনডোর প্ল্যান্টের জন্য নিদৃষ্ট পরিমানে বেলে দোয়াশ মাটি, ভার্মি কম্পোস্ট, কোকোডাস্ট, মোটা বালি ,কাঠ কয়লা, হাড়ের গুড়া, কার্বোফুরান,ফাঙগিসাইড ব্যবহার করে কার্যকর মিডিয়া তৈরী করা যায়। এই মিডিয়ায় পোথোস, ফিলোডেনড্রন, আইভি ইত্যাদি গাছ নিশ্চিন্তে লাগানো যায়।
আমি ব্যাক্তিগতভাবে আগে আমার ইনডোর প্ল্যান্টের মিডিয়ায় মাটি ব্যাবহার করতাম না । এখন ইনডোর প্ল্যান্টের পটিং মিক্সে নিদৃষ্ট পরিমানে গার্ডেন সয়েল ব্যাবহার করে বেশ ভালো ফল পাচ্ছি।
লেখক: সেহরিন মিম্মি আপু, বাংলাদেশ প্ল্যান্টবুক
bdview24.com — বিডিভিউ২৪.কম Bangla News from Bangladesh regarding politics, business, lifestyle, culture, sports, crime. bdview24 send you all Bangla News through the day.