ইসলাম

ইতিকাফকারী আল্লাহর প্রিয় বান্দা

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বারিতে বিধৌত হয়ে পাপের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত ও শুদ্ধ হওয়ার মাস রমজান। এই রমজানের প্রত্যেক দিন এবং রাতে পাপাচার থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন মহান মাওলা আল্লাহ তাআলা। তারই চূড়ান্ত পর্যায় হচ্ছে জাহান্নাম থেকে নাজাত, যা রমজানের শেষ দশকেই হয়ে থাকে । কারণ শেষ দশকেই অনুষ্ঠিত হয় মহা সুযোগগুলো। তার একটি হচ্ছে ই`তেকাফ, আপরটি হচ্ছে মহিমামণ্ডিত লাইলাতুল ক্বদর। এই দুই সুযোগের সঠিক ব্যবহারে পাপমুক্তি ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির মহা নেয়ামত অর্জিত হয়।

ই`তেকাফ মানেই হচ্ছে অবস্থান করা। আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়্যতে মসজিদে অবস্থানই ইসলামের পরিভাষায় ই`তেকাফ বলে। ই`তেকাফ তিন ধরনের হয়ে থাকে।
১. ওয়াজিব; যে ব্যক্তি ই`তেকাফের নিয়্যত করবে তার জন্য ই`তেকাফ করা ওয়াজিব।

২. সুন্নত; রমজানের শেষ দশকের দশ দিনরে ই`তেকাফকে ই`তেকাফে মাসনুনা বলা হয়। যা কিছু লোক আদায় করলেই ঐ মসজিদ মহল্লার সবাই দায়মুক্ত হয়।

৩. নফল; যে কোনো সময় অল্প-অধিক যতটুকু সময় মসজিদে অবস্থান করবে। তবে শর্ত হচ্ছে মসজিদে প্রবেশ করেই ই`তেকাফের নিয়্যত করতে হবে। এর জন্য কোনো নির্ধারিত সময় নেই। যে কোনো ব্যক্তি নামাজের জন্য মসজিদে গিয়ে যদি ই`তেকাফের নিয়্যত করে এবং কিছু সময় অবস্থান করে যেমন- ওয়াক্তিয়া নামাজের জামায়াতের জন্য মসিজদে প্রবেশ করে, ফজরের নামাজের পর ইশরাক পর্যন্ত অপেক্ষা করা; জুমার দিনে মসজিদে যেয়েই ইমাম সাহেবের আলোচনা শ্রবণ করার পূর্বে ই`তেকাফের নিয়্যত করা। এ সময় মসজিদে অবস্থানের জন্য নফল ই`তেকাফের সওয়াব পাওয়া যাবে।

হযরত ইবনে কায়্যিম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ইতিকাফের মহান লক্ষ্যই হচ্ছে, মাওলার সাথে আত্মার সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। কর্মব্যস্ত জীবন থেকে মুক্ত হয়ে আল­াহর ধ্যান মগ্ন হওয়া। দুনিয়াবি সকল সংশ্রব ত্যাগ করে একমাত্র আল­াহর সান্নিধ্যে এসে নিবিড় বন্ধন তৈরি করা। খুলুসিয়াত ও হৃদ্যতাপূর্ণ ই`তেকাফ রমজানের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। কারণ, ই`তেকাফরে মাধ্যমেই দুনিয়ার সকল বন্ধন ছিন্ন করে আল্লাহর রহমতের ছায়া তলে আশ্রয় নিয়ে নিজেকে আল্লাহর রাহে সমর্পণ করা।

অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ ইতিকাফের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, `এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাইলকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীর জন্য আমার ঘর (বাইতুল­াহ) পবিত্র রাখতে আদেশ করেছিলাম। (সূরা বাক্বারা : আয়াত ১২৫); এ ব্যাপারে হাদিসের এসেছে- `ই`তেকাফকারী সব গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। নেককারগণ যত ধরনের সত্কর্ম করে থাকে, ই`তেকাফকারীর জন্য সেসবের অনুরূপ সওয়াব লেখা হয়।` যদিও সে ই`তেকাফের সময় মসজিদে অবস্থানের কারণে অনেক নেক কাজে অংশ গ্রহণ করা সম্ভব হয় না।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময়ই পবিত্র রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। তিনি ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত ই`তেকাফ করেছেন। পরবর্তীতে উম্মাহাতুল মু`মিনিনগণও (তার সহধর্মিণীগণ) ইতিকাফ করতেন। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রমজানেই দশ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু ওফাতের বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেন।

রমজানের শেষ দশকে ই`তেকাফের একটি মহান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদরের অনুসন্ধান করা। কেবল ২৭ রমজান রাতেই লাইলাতুল ক্বদর হওয়াটা সুনিশ্চিত নয়। শেষ দশকের বেজোড় পাঁচটি রাতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯) যে কোনোটিতেই লাইলাতুল ক্বদর হতে পারে। একজন মানুষ যতক্ষণ ই`তেকাফে থাকেন ততক্ষণ তার পূর্ণ সময়টাই ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়ে যায়। সুতরাং যারা ই`তেকাফে থাকেন সাধারণত তারা ইবাদতের প্রতি অধিক মনোযোগীও হয়ে থাকেন। ফলে যে রাতেই লাইলাতুল ক্বদর হোক শেষ দশকে ইতিকাফকারীরা তার ফজিলত পেয়েই যান। লাইলাতুল ক্বদরের খোঁজেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ই`তেকাফ করতেন বলে হাদিসে উলে­খও পাওয়া যায়।

শবেকদর প্রাপ্তি রমজানের প্রভূত রহমত বরকত মাগফিরাত ও নাজাত এবং অশেষ সওয়াব লাভ এবং পাপ থেকে আত্মরক্ষার লক্ষ্যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামসহ যুগে যুগে পীর-মাশায়েখ, অলি-আউলিয়াসহ তাদের ভক্ত-অনুরক্ত ও মুরিদানগণ সর্বোপরি পরহেজগার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ই`তেকাফ করেছেন প্রবল আশা ও আকাঙ্খা নিয়ে। অফুরন্ত ছাওয়াব ও রহমত লাভের সুযোগ লাভের জন্য সেই কামনাই মহিয়ান গরিয়ান মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে।

লক্ষণীয় বিষয়-
তাইতো আমরা যারা ই`তেকাফ বসতে পারি নাই ই`তেকাফকারীদের সহযোগিতা করব পাশাপাশি লাইলাতুল ক্বরদর তালাশ করতে থাকবো আল্লাহ আমাদেরকে লাইলাতুল ক্বদর দান করুন। আমীন।