অ্যালার্জি

পানিতে অ্যালার্জি

‘অ্যাকুয়াজেনিক আর্টিক্যারিয়া’ নামে একধরনের অ্যালার্জি আছে। এর কারণে বৃষ্টির পানি হাতে-পায়ে লাগলে লাল দানা উঠে চুলকানি শুরু হয়। অনেকক্ষণ চুলকানোর পর ঠিক হয়। গোসল করলে, কাপড় বা থালা-বাটি ধুলেও চুলকানি শুরু হয়। মোটকথা, গায়ে পানি পড়লেই চুলকানি হবে।

এ ধরনের চুলকানির সঙ্গে পানির তাপমাত্রার কোনো সম্পর্ক নেই। লাল দানাগুলোর আকার হতে পারে ১ থেকে ৩ মিলিমিটার পর্যন্ত। শরীরের ওপরের অংশে এগুলো বেশি পরিমাণে ওঠে। বিশেষ করে গলায়, ঘাড়ে ও হাতে। এ সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা নেহাত কম নয়।

এ ধরনের রোগীরা গোসলের আগে অ্যান্টিহিস্টামিনজাতীয় ওষুধ খেতে পারেন। আর হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজলে বাসায় ফিরে অ্যান্টিহিস্টামিনজাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। শরীরে দানা উঠলে মমেটাসন, হাইড্রোকর্টিসন ক্রিমও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এগুলো মুখে লাগানো যাবে না।

পানির সংস্পর্শে এলে ত্বকে একধরনের প্রতিক্রিয়া থেকে অ্যালার্জি হতে পারে। পারিবারিক ইতিহাসের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। রোগটি ছোঁয়াচেও নয়। যাঁদের ত্বক বেশি সংবেদনশীল, তাঁরাই এতে আক্রান্ত হন।

এখনো ‘অ্যাকুয়াজেনিক আর্টিক্যারিয়া’র স্থায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি বের হয়নি। উপশমের জন্যই চিকিৎসা দেওয়া হয়। পানি এড়িয়ে চলা ছাড়া এর প্রতিরোধ সম্ভব নয়।

পানির সংস্পর্শ এড়াতে যা করতে পারেনঃ ছাতা নিয়ে রাস্তায় বের হতে পারেন, সম্ভব হলে রেইন কোট পরে নিন, ব্যাগে সব সময় অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ রাখতে পারেন, প্রতিবার পানি পড়ার পর মুছে ফেলার জন্য ছোট তোয়ালে ব্যবহার করতে পারেন, প্লেট-বাটি ধোয়ার সময় গ্লাভস ব্যবহার করুন, কম সময়ের মধ্যে গোসল করে ফেলুন, গোসলের আগে তেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি গায়ে মেখে নিতে পারেন। এতে চুলকানির মাত্রা কম হবে।

অনেক সময় শীতকালে পানির তাপমাত্রা কম হলেও হাতে লাল লাল দানা ওঠে। সকালে ও রাতে পানি ধরলেই চুলকানি শুরু হয়। এর সঙ্গে ‘অ্যাকুয়াজেনিক আর্টিক্যারিয়া’র সম্পর্ক নেই। এটা একধরনের ঠান্ডাজনিত অ্যালার্জি। এর কোনো স্থায়ী সমাধান নেই। পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। এটা যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এটা ঠিক হয়ে যায়। এ ধরনের অ্যালার্জিতে যতটা সম্ভব শরীর গরম রাখার চেষ্টা করতে হবে।