কদম

আবার এসেছে আষাঢ়

এবারের আষাঢ়ের পদধ্বনি যেন কিছুদিন আগ থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছিল। জ্যেষ্ঠের শেষ দিক থেকে আকাশ থেকে ঝরছে বৃষ্টি। এবার যেন প্রকৃতিতে আষাঢ় একটু আগাম এসেছে। তবে ক্যালেন্ডারের পাতায় হিসেব পূর্ণ হলো আজ।

গত কয়েকদিনের বৃষ্টির মহরাই বলে দিচ্ছিল দেশে শুরু হচ্ছে বর্ষা ঋতু। আজ থেকে কাগজকলমে তা স্বীকৃতি পেল। আজ মঙ্গলবার (১৫ জুন) পয়লা আষাঢ়। দেশে শুরু হলো বর্ষাকালের যাত্রা। শুধু বৃষ্টির দেখা বেশি মিলবে বলেই বর্ষা আমাদের প্রিয় ঋতু নয়, এ সময়ে প্রকৃতির নানা বদলও আমাদের অন্যরকম অনুভূতি দেয়।

ক্যালেন্ডারের পাতার জন্যে অপেক্ষা না করে কিছুদিন আগ থেকেই প্রকৃতিতে দেখা মিলেছে ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’। বৃষ্টিতে ভেজা তরতাজা কদমের দিকে চোখ পরলে আটকে যাবে এখন। শুধু কদম ফুল নয় আরও নানা ফুলের দেখাও মিলবে এ বর্ষাকালে।

আষাঢ়ের সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো প্রকৃতিকে রাখে শীতল। সাথে রয়েছে খালেবিলে পানির উপস্থিতি। দলবেঁধে মাছ ধরার চিত্র। গাছের সবুজ পাতা বেয়ে বৃষ্টির পানি, টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ। কাদা-পানি একাকার। এরকম নানা দৃশ্যের দেখা মিলবে এ মাসে।

ছয় ঋতুর দেশের বর্ষা তাই তো একটু অন্যরকম দাগ কেটে যায়। কবির মনেও সে দাগ কাটে। তাই তো দিনটিকে নিয়ে পদ্মাপারের শিলাইদহের কুঠিতে বসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে বর্ষার নব রাজ্যাভিষেক বেশ রীতিমত আড়ম্বরের সঙ্গে সম্পন্ন হয়ে গেছে। দিনের বেলাটা খুব গরম হয়ে বিকেলের দিকে ভারী ঘনঘটা মেঘ করে এল। …বর্ষার প্রথম দিনটা, আজ বরঞ্চ ভেজাও ভালো- তবু অন্ধকূপের মধ্যে দিনযাপন করব না—। আষাঢ়কে ‘ভারতবর্ষের বর্ষার চিরকালীন প্রথম দিন’ বলে অভিধা দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

ঋতুচক্রে আষাঢ় ও শ্রাবণ এ দুই মাস মিলে বাংলায় বর্ষাকাল। মূলত বছরের প্রায় সিংহভাগ বৃষ্টিই হয় এ মৌসুমে। তাই তো বৃষ্টির এ আগমনী বার্তা বলে দিচ্ছে, সহসাই থামছে না বৃষ্টির কলতান। অবশ্য কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে বৃষ্টির এ প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। কৃষিজমি, মাছের জলাশয় পানিতে ভরতে বৃষ্টি তো চাই-ই।

অনেকেই বলে থাকেন, এই বর্ষাকাল বাংলাদেশের কৃষির জন্যে আশীর্বাদ। পানির সাথে নতুন জীবন ফিরে পায় কৃষিজমির মাটি। ছোট ছোট মাছে ভরে যায় খাল-বিল-নদী-নালা। তবে ভোগান্তিতেও পড়তে হয় মাঝেমধ্যে। তবু এ আষাঢ় আশা নিয়ে আমাদের জীবনে আসুক, এমন প্রত্যাশা সবার।

শেয়ার করুন: