স্যানিটাইজার

স্যানিটাইজার ব্যবহারে বাড়ছে চোখের সমস্যা

করোনার সংক্রমণের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার। স্কুল, কলেজ, হোটলে, শপিং মল, রেস্তোরাঁ সর্বত্র দেখা যায় এর ব্যবহার। জীবাণুর সাথে লড়াইয়ে স্যানিটাইজার কাজের হলেও এর ফলে শিশুদের নানা ধরনের ত্বক ও চোখের সমস্যা দেখা দেয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক সময়ই শিশুরা নিজের খেয়ালে মুখে বা চোখে হাত দেয়। তাদের হাতে লেগে থাকা স্যানিটাইজার চোখে বা মুখে গেলে বিষক্রিয়া ঘটতে পারে। এমনকি অনেক সময় শিশুরা ভুল করে স্যানিটাইজার খেয়ে ফেলে। যা মারাত্মক ক্ষতিকর।

সম্প্রতি ফ্রান্সের কিছু শিশুর চোখে স্যানিটাইজারের কারনে রাসায়নিক জখম পাওয়া গেছে। শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অপূর্ব ঘোষ বলছেন, ‘‘হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৭০ শতাংশ অ্যালকোহল থাকে। এই মাত্রা অত্যন্ত কড়া। করোনার কারণে সকলেই বাধ্য স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে। কিন্তু এটা মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। বিশেষ করে, শিশুদের চোখ আর ত্বকের জন্য।’’

এছাড়াও, ত্বকে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে। তার মধ্যে অনেকগুলোই উপকারী। সেগুলো মারা গেলে শরীরের ক্ষতি হয়। স্যানিটাইজার একসঙ্গে ভাল-মন্দ সব ব্যাকটেরিয়াকেই মেরে ফেলে’, বলেন ডা. পিয়ালি।

এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ‘‌২০১৯ সালে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের কারণে চোখে রাসায়নিক আঘাত হয়েছে মাত্র ১.‌৩ শতাংশ শিশুদের মধ্যে। কিন্তু ২০২০ সালের শেষে গিয়ে দেখা যাচ্ছে এই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.‌৯ শতাংশ।

চিকিৎসকদের একাংশের মত ধীরে স্যানিটাইজার ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। বাজারে যত স্যানিটাইজার পাওয়া যায়, তাদের গুণমানের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। আবার কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, শিশুদের ক্ষেত্রে স্যানিটাইজারের পরিবর্তে হাতে গ্লাভস পরিয়ে রাখা অনেক নিরাপদ।