প্রতি বছর বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দূষিত বায়ু ফুসফুসে ঢুকে তাকে ক্রমশ দুর্বল করে দেয়, যা শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা তৈরি করে। এ থেকে পরবর্তীতে মৃত্যু হয়। এবার আরো যোগ হয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। ফলে আগামী তিন মাস শীতের মৌসুমঅর্থাৎ নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে কী পরিস্থিতি হতে চলেছে তা নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞেরা।
সম্প্রতি ‘ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিয়োলজি’ (ইএসসি)-র জার্নাল ‘কার্ডিয়োভাস্কুলার রিসার্চ’ (সিভিআর)-এ একটি সমীক্ষা প্রকশিত হয়েছে। বায়ুদূষণের কারণে দুর্বল ফুসফুস করোনা সংক্রমিত হলে কী ভাবে তা মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করতে পারে, সেই সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত ভারতে করোনায় যত মৃত্যু হয়েছে, তার ১৭ শতাংশ বায়ুদূষণের (মানুষের দ্বারা সৃষ্ট দূষণ) সঙ্গে সম্পর্কিত। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত ‘কার্ডিয়োভাস্কুলার রিসার্চ’-এর প্রেস অফিসার এমা ম্যাসন বলেন, ‘‘ভারতে দীর্ঘকালীন ভিত্তিতে দূষিত বায়ু ওই ১৭ শতাংশ মানুষের ফুসফুস এবং কার্ডিয়োভাস্কুলার সিস্টেমকে এমন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল যে, যখন তারা করেোনায় সংক্রমিত হয়েছেন, সেই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেননি।’’
জোধপুরের ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস’-এর ‘পালমোনারি মেডিসিন’ বিভাগের অ্যাডিশনাল প্রফেসর নবীন দত্তও বলেন, ‘‘দূষিত বায়ু, অর্থাৎ বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা (পিএম ১০) এবং অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা (পিএম ২.৫) ক্রমাগত শ্বাসযন্ত্র, ফুসফুসে ঢোকার কারণে তা ক্ষতিগ্রস্ত না হলে আক্রান্তদের কেউ কেউ সুস্থও হয়ে উঠতে পারতেন।’’ করোনা সংক্রমণ এই পরিস্থিতিকে আরও সঙ্কটজনক করে তুলেছে।’’
‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব রেসপিরেটরি কেয়ার’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট আর্থার সদাননধম বলেন, ‘‘বায়ুদূষণের কারণে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা না হারালে হয়তো ফুসফুস কভিডের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে পারত। যেহেতু তা ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত, তাই সেই লড়াই সে চালাতে না পেরে কোভিডের কাছে হেরে গিয়েছে!’’
bdview24.com — বিডিভিউ২৪.কম Bangla News from Bangladesh regarding politics, business, lifestyle, culture, sports, crime. bdview24 send you all Bangla News through the day.