বৃহস্পতিবার, মে ১৩, ২০২১, ৫:২১ অপরাহ্ণ
জ্যাক স্প্যারো
ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো (ইংরেজি: Captain Jack Sparrow)

জ্যাক স্প্যারো, ইংরেজ জলদস্যু থেকে ওসমানী নৌসেনাপতি

কেজে ভিডস অবলম্বনে, মুহাম্মদ আল-বাহলুল: হলিউডি চলচ্চিত্র ‘পাইরেটস অব দি ক্যারেবিয়ানে’র কল্যাণে ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষের কাছে একটি পরিচিত চরিত্র। চলচ্চিত্রের ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো তার বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার ও হাস্যরসিকতা দিয়ে মুগ্ধ করে রেখেছে এর দর্শকদের। কিন্তু এ চলচ্চিত্রেরর কল্পিত চরিত্রটির অন্তরালের ঐতিহাসিকতা সম্পর্কে এর দর্শকদের খুব অল্পই জানা রয়েছে।

জ্যাক স্প্যারোর জন্ম ১৫৫৩ সালে ইংল্যান্ডের কেন্ট কাউন্টির ফ্যাভারশামে। জন ওয়ার্ড হিসেবে জন্ম গ্রহণ করলেও পরবর্তীতে তিনি জ্যাক স্প্যারো হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেন।

তরুণ বয়সে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করলেও জন সবসময়ই স্বপ্ন দেখতেন সমুদ্র যাত্রার। তার জন্মস্থান ফ্যাভারশাম সমুদ্র তীরবর্তী হওয়ায় এখানে নাবিকদের ব্যপক আনাগোনা ছিল। নাবিকদের সংস্পর্শে তার মাঝেও সাগর পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন দানা বাধতে থাকে। পরবর্তীতে স্পেনিশ আর্মাডার ইংল্যান্ডে তীরবর্তী শহরগুলোতে ব্যর্থ আক্রমনের পর তিনি রানী প্রথম এলিজাবেথের অধীন নৌ-বাহিনীর সাধারণ নাবিক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে তার স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপে আরোহণ করেন।

রাজা প্রথম জেমসের সময় জন ওয়ার্ডকে বন্দী করে বাধ্যতামূলকভাবে জাহাজের শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। জন তার সঙ্গীদের নিয়ে পালিয়ে যান এবং পোর্টসমাউথ বন্দর থেকে একটি জাহাজ চুরি করে ভূমধ্যসাগরের দিকে যাত্রা করেন। পরবর্তীতে তারা ভূমধ্যসাগরে জলদস্যু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং তিনি তার সাথীদের দ্বারা নেতা নির্বাচিত হন। এ সময় জন ওয়ার্ডের নাম পরিবর্তিত হয়ে জ্যাক স্প্যারোতে পরিণত হয়।

জ্যাক স্প্যারো এক মুসলিম নাবিকের সহায়তায় আফ্রিকার তিউনিসে তার মূল ঘাটি স্থাপন করেন। এখান থেকে সহজেই ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রমন করতে তিনি সক্ষম ছিলেন। তিউনিসে থাকাকালীন সময়ে ছোট ছোট চড়ুই পাখির প্রতি তার আকর্ষনের প্রেক্ষিতে স্থানীয়রা তাকে ডাকতো জ্যাক ‘আসফুর’। আরবী আসফুর শব্দ থেকেই তার নামের শেষের স্প্যারো (চড়ুই) শব্দটি গৃহিত হয়েছে।

পরবর্তীতে তিনি দস্যুবৃত্তি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চেয়ে রাজা প্রথম জেমসের কাছে রাজকীয় ক্ষমার আবেদন করেন। কিন্তু প্রথম জেমস তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে তিনি পুনরায় তিউনিসে ফিরে আসেন। ওসমানী সাম্রাজ্যের অধীন আলজেরিয়া অঞ্চলের গর্ভনর তাকে আশ্রয় প্রদান করেন।

১৬০৯ সালে জ্যাক স্প্যারো তার জাহাজের সকল নাবিকদের নিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। তার নতুন নাম হয় ইউসুফ রইস। ইসলাম গ্রহনের পর তিনি ওসমানী নৌ-বাহিনীতে যোগ দেন এবং খ্রিস্টান অধিকৃত স্পেনের অসংখ্য স্পেনীয় ইহুদি এবং মুসলমান অধিবাসীদেরকে উদ্ধার করেন।

১৬১২ সালে তিনি তার নাবিক জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং বাকী জীবন ওসমানী সাম্রাজ্যের অধীন তিউনিসে বসবাস করেন। ১৬২২ সালে তিনি তিউনিসেই মৃত্যুবরণ করেন।

জ্যাক স্প্যারো তার জীবৎকালেই কিংবদন্তীতে পরিণত হন। ১৬১২ সালেই ইংরেজ নাট্যকার রবার্ট ডাবোর্ন তাকে নিয়ে ‘এ ক্রিশ্চিয়ান টার্নড টার্ক’ (A Christian Turn’d Turk) শিরোনামে একটি নাটক রচনা করেন। এছাড়া এর পরবর্তীতে তাকে নিয়ে আরও অনেক নাটক তৈরি করা হয়। হালের হলিউডি চলচ্চিত্র ‘পাইরেটস অব দি ক্যারেবিয়ান’ এ জনি ডেপ অভিনীত চরিত্রটিও তাকে ভিত্তি করে তৈরি করা, যদিও তার কখনই ক্যারেবীয় দ্বীপপূঞ্জে গমনের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, কেউ যদি ‘পাইরেটস অব দি ক্যারেবিয়া’ চলচ্চিত্রটি দেখতে বসেন, তবে এর ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর অন্তরালের ঐতিহাসিক ইউসুফ রইসের কথাও যেন তিনি স্মরণ রাখেন!

শেয়ার করুন: