হাসপাতালের বিল পরিশোধের পর স্বামী জানলেন স্ত্রী মারা গেছে

ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মিলি আক্তার নামে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ শহরের এক হাসপাতালের বিরুদ্ধে। ওই নারীর মৃত্যুতে শোকাহত স্বজনরা বিক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতাল ভাঙচুর চালিয়েছে। গত সোমবার দুপুরের দিকে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় কেয়ার জেনারেল হসপিটালে এ ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, মাথা ব্যথা নিয়ে রোববার রাতে কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ফতুল্লার শিবুমার্কেট পশ্চিম লামাপাড়া এলাকার মো. শাহ আলমের স্ত্রী মিলি বেগম। পরদিন বিকালে তিনি মারা যান।

তবে অভিযোগ উঠেছে, রোগীর অবস্থা খারাপ জানিয়ে দ্রুত ঢাকায় নিতে হবে বলে রোগীকে অ্যাম্বুলেসে তুলে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর পর স্বজনরা দুই দিনের চিকিৎসা বিল মিটিয়ে দেয়ার পর জানতে পারেন রোগী আগেই মারা গেছেন।

ঘটনার বিবৃতি দিয়ে নিহতের স্বামী শাহ আলম বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করছিল আমার স্ত্রীর। এজন্য তাকে মেডিসিন ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাহের আলীকে দেখাই। তার পরামর্শ অনুযায়ী রাত পৌনে ১১টায় কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করি।

তিনি বলেন, ব্যথা না কমায় সোমবার ৩টার দিকে ডাক্তার ডাকতে গেলে হাসপাতালের লোকজন ওষুধ আনতে পাঠায়। ওষুধ নিয়ে এসে দেখি হাসপাতালের বাইরে দাঁড়ানো অ্যাম্বুলেন্স। হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, আমার স্ত্রীকে ওই অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়েছে। বিল পরিশোধ করে তাকে দ্রুত ঢাকায় নিতে হবে। আমি বিল পরিশোধ করার পর হাসপাতালের আরেক কর্মকর্তা বলে, আমার স্ত্রী মারা গেছেন।

শাহ আলম অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসায় আমার স্ত্রী মারা গেছে। সোমবার বিকালে না বলে সকালে ঢাকায় নিতে দিলে আমার স্ত্রী মারা যেত না। ওরা টাকার জন্য আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলছে। আমি এর বিচার চাই।

হাসপাতালের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আবু বক্কর বলেন, ডা. জাহের আলীর নির্দেশে রোগীকে ভর্তি করা হয়। তিনি হাসপাতালে না থাকায় তার পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে স্যালাইনসহ অন্যান্য ওষুধ দেয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে ব্রেইন স্ট্রোক করার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজনরা বলছেন, আমাদের ধারণা মিলি আক্তার তিনটার আগেই মারা গেছেন। বিষয়টি তারা আড়াল করেছেন।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। নিহতের লাশ স্বজনেরা বুঝে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে নিহতের স্বজনদের কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেনি।