‘বাংলাদেশকে সিরিজ বঞ্চিত করায় অস্ট্রেলিয়ার লজ্জা হওয়া উচিত’

ক্রিকেট মাঠে সব দলের সমান সুযোগ যেমন ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশিত; ঠিক তেমনি ক্রিকেটকে পরিচালিত করা প্রতিষ্ঠান এবং অংশগ্রহণ করা সকল দলের মানসিকতায় মিল থাকা জরুরি।

তবে খেলার মাঠের শত বিতর্কের চাইতে বড় হয়ে ওঠে মাঠের বাইরে কর্তা ব্যাক্তিদের অনেক সিদ্ধান্ত। যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় দলগুলোরও ভুমিকা থাকে। কিন্তু তাদের একচোখা নীতি বা মনোভাবের কারণে বৈষম্যের স্বীকার হয় ক্রিকেটে নিজেদের প্রমাণ করতে চলা দলগুলো। এমন ঘটনার শিকার হয়েছে বাংলাদেশ।

২০১৮ সালে আইসিসির প্রকাশিত ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) অনুসারে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আগামী পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের কোন সিরিজ রাখা হয়নি।

যেখানে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টাইগারদের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ৪২ টেস্ট, ৫৬ ওয়ানডে ও ৫৪ টি-টোয়েন্টি রাখা হয়েছে। এছাড়াও ভারতের সঙ্গে হোম এবং অ্যাওয়ে ভিত্তিতে দুটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজে অংশ নেয়ার কথা টাইগারদের।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলার সুযোগ না পাওয়ায় টাইগারদের ক্ষোভ অপ্রকাশিত। তবে ভদ্র লোকের খেলা ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাথে এমন আচরণ করায় খোদ অস্ট্রেলিয়ান বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এমন আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বৃহস্পতিবার ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বেশ আক্ষেপ নিয়েই মাশরাফি বলেছিলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিতলেও হয়তো তারা আমাদের সফরের আমন্ত্রণ জানাবে না!’

ট্রেন্ট ব্রিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৩৩ রান করার পর মাশরাফির সেই আক্ষেপ অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমে ভালোমতোই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। ম্যাচের পর পরই অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমে চলছে দলটির সমালোচনা। আর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছিল ১৬ বছর আগে!

এ বিষয়টিকে ভীষণ হতাশার বলে মনে করেন বিবিসির সাংবাদিক জিম ম্যাক্সওয়েল। আর অস্ট্রেলিয়ার আরেক বিখ্যাত সাংবাদিক মেলিন্ডা ফারেল বলেছেন, ‘এমন আচরণের জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার লজ্জিত হওয়া উচিত। ক্রিকেটের ব্যস্ততম সময়ে শুনতে অবাক লাগলেও এটি সত্যি যে, নটিংহামে ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে গত এক যুগে সব ফরম্যাট মিলিয়ে দশম ম্যাচ।’

তবে দুটি টেস্ট খেলার জন্য আগামী বছর জুনে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে। অথচ বর্তমান ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপিতে) ২০২৩ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ দলের কোনো টেস্ট নেই। যার কারণে বৃহস্পতিবারের ম্যাচের পর মেলিন্ডা ফারেল টুইট করে লিখেন, ‘বাংলাদেশের প্রতি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) যে আচরণ করছে সেটা লজ্জার।’

ট্রেন্ট ব্রিজের ম্যাচটি শেষে বিসিবিতে আলোচনার সময় জিম ম্যাক্সওয়েলও বাংলাদেশের প্রতি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আচরণে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘তারা (বাংলাদেশ) অস্ট্রেলিয়ায় খেলার সুযোগই পায় না। আমার মনে হয়, বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মনোযোগী হওয়া উচিত। যারা ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে চায় তাদের জন্য বিষয়টা ভীষণ হতাশার।’

অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক অ্যাডাম কলিন্স এক টুইটে লিখেন, ‘অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট প্রশাসকরা তাদের (বাংলাদেশ) প্রতি বাজে আচরণ করছে। বর্তমান এফটিপিতে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কোনো দ্বিপক্ষীয় সফরে অস্ট্রেলিয়া আসবে না। লজ্জা, লজ্জা, লজ্জা।’

এছাড়াও বৃহস্পতিবারের খেলার পর অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকটি দৈনিকে ম্যাচের আগের দিন অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে মাশরাফির বলা কথাগুলো বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে। সে সঙ্গে তারা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কঠোর সমালোচনাও করে। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, বাংলাদেশ এখন আর ছোট দল নয়। চলতি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকে তারা দাপটের সঙ্গে হারিয়েছে তারা। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার উচিত টাইগারদের উপযুক্ত মর্যাদা দেওয়া।