হেসেখেলে ফাইনালে টাইগাররা

আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে দ্যা ভিলেজ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ক্যারিবিয়ান বধ করেছে মাশরাফি মুর্তজার দল।সোমবার (১৩ মে) সৌম্য, মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটের দাপুটে জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনালে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ঝড়ো সূচনা করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশেষ করে ওপেনার সুনিল এমব্রিস ছিলেন বেশি ভয়ংকর। অবশেষে ভয়ংকর হয়ে উঠা এই ওপেনারকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে উদ্বোধনী জুটিটি ভাঙেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

উদ্বোধনী জুটিতে এমব্রিস আর শাই হোপ তুলেন ৩৫ বলে ৩৭ রান। এমব্রিস ১৮ বলেই ৪ বাউন্ডারিতে করে ফেলেছিলেন ২৩ রান। ষষ্ঠ ওভারে এসে মাশরাফি তাকে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়েছেন। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ এক ক্যাচ নেন স্লিপে দাঁড়ানো সৌম্য।

এরপর ড্যারেন ব্রাভোকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৩ বলে মাত্র ৬ রান করেন এই ব্যাটসম্যান। তৃতীয় উইকেটে রস্টন চেজকে নিয়ে আবারও প্রতিরোধের চেষ্টা হোপের।

৩৩ রানের এই জুটিটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। মিড উইকেটে ক্যাচটা প্রায় ছুটে যাচ্ছিল। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় মাহমুদউল্লাহ সেটি তালুবন্দী করেন। ১৯ রান করেন চেজ।

ক্যারিবীয় ইনিংসে চতুর্থ আঘাতটিও হানেন মোস্তাফিজই। জোনাথান কার্টারকে ৩ রানে এলবিডব্লিউ করেন বাঁহাতি কাটার মাস্টার। ৯৯ রানে ৪ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

মাঝে বাংলাদেশি বোলারদের বিপক্ষে রান তুলতে রীতিমত ঘাম ঝরছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। টানা ১০৩ বল বাউন্ডারির দেখা পায়নি ক্যারিবীয়রা।

সৌম্য সরকারের করা ইনিংসের ৩০তম ওভারে এসে সেই খরা কাটান জেসন হোল্ডার। ওভারের চতুর্থ বলে একটি চার মারেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক, পরের বলে মেরে দেন আরেকটা।

হোল্ডার আর হোপ মিলেই ক্যারিবীয়দের বড় লজ্জা থেকে বাঁচান। পঞ্চম উইকেটে তারা গড়েন ১০০ রানের জুটি। আরেকটি সেঞ্চুরির পথেই যাচ্ছিলেন হোপ। অবশেষে তাকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান মাশরাফি। ১০৮ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ৮৭ রান করেন এই ওপেনার।

সঙ্গী হারিয়ে হোল্ডারও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। একইভাবে মাশরাফির বলে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীমের কাছে ক্যাচ হন ৭৬ বলে ৬২ রানে থাকার সময়।

এরপর ফ্যাবিয়েন অ্যালেনকে (৭) এলবিডব্লিউ করেন সাকিব। অ্যাশলে নার্স (১৪) আর রেমন রেইফারকে (৭) দুর্দান্ত দুই ডেলিভারিতে ফেরান মোস্তাফিজ।

জবাবে রান তাড়ায় নেমে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল আর সৌম্য সরকার উদ্বোধনী জুটিতে তুলে দেন ৫৪ রান। নবম ওভারে অ্যাশলে নার্সকে মারতে গিয়ে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন তামিম। ঘূর্ণি বুঝতে না পেরে ২১ রানে হয়ে যান বোল্ড।

দ্বিতীয় উইকেটে সাকিবকে নিয়ে ৫২ রানের আরেকটি জুটি সৌম্যর। এরপরই জোড়া আঘাত, বোলার সেই নার্স। তিন বলের ব্যবধানে সেট দুই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরের পথ দেখান ক্যারিবীয় স্পিনার।

সাকিবও তামিমের মতো বেরিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন, শর্ট কভারে ধরা পড়েন রস্টন চেজের হাতে। ৩৬ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২৯ রান করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এক বল পর শর্ট মিডউইকেটে সুনিল এমব্রিসের ক্যাচ হন হাফসেঞ্চুরিয়ান সৌম্য। ৬৭ বলে ৪ চার আর ২ ছক্কায় তখন ৫৪ রানে বাঁহাতি এই ওপেনার।

এরপর ফ্যাবিয়ান অ্যালেনকে রিভার্স সুইপ খেলে সিঙ্গেলের জন্য ছুটেছিলেন মোহাম্মদ মিথুন। নন স্ট্রাইকে থাকা মুশফিকুর রহিম ‘না’ করায় নিজের প্রান্তে ফিরতে যান মিথুন। কিন্তু স্লিপ করে পড়ে যান উইকেটের মাঝে। রান আউটের সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু পয়েন্ট থেকে বলটা উইকেটকিপারের হাতে দিতে পারেননি অ্যাশলে নার্স। তার থ্রোয়ে বল চলে যায় উইকেটকিপারের মাথার ওপর দিয়ে। বেঁচে যাওয়া মিথুন তখন ৭ রানে ব্যাট করছিলেন।

১০৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন মুশফিকুর রহীম আর মোহাম্মদ মিঠুন।

জয়ের বন্দরে পৌঁছানোর একটু আগে ৬৩ রানে বিদায় নেন মুশফিক। শেষ পর্যন্ত সাব্বির-মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে ভর করেই ৫ উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), মেহেদী হাসান মিরাজ, আবু জায়েদ রাহী, মোস্তাফিজুর রহমান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: শাই হোপ, সুনিল এমব্রিস, ড্যারেন ব্রাভো, রস্টন চেজ, জোনাথান কার্টার, জেসন হোল্ডার, ফ্যাবিয়েন অ্যালেন, অ্যাশলে নার্স, শেলডন কোট্রেল, কেমার রোচ, রেমন রেইফার।