এক শর্তে ভারতে ফিরবেন ডা. জাকির নায়েক

প্রায় তিন বছর দেশের বাইরে থাকার পর এবার শর্ত সাপেক্ষে ভারতের ফিরতে রাজি হয়েছেন ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাকির নায়েক।

তার বিরুদ্ধে ভারতে একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বাস করছেন। ২০১৬ সালে মালয়েশিয় সরকার তাকে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ করে দেয়।

দ্যা উইক ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত আমার কোনও দোষ প্রমাণ হচ্ছে ততক্ষণ আমায় গ্রেফতার করা যাবে না। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আমায় এ আশ্বাস দিলে আমি দেশে ফিরতে রাজি।’

এদিকে এনআইএর পক্ষ থেকেও জাকির নায়েকের ফেরার খবর অস্বীকার করা হয়েছে । গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষে মুখপাত্র অলোক মিত্তল সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘এরকম কোনও খবর নেই। খবরের সত্যতা ‌যাচাই করে দেখা হবে।

৫২ বছর বয়সী জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। ধর্ম প্রচারের নামে হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ এনেছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যেও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে জাকিরের বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, তার দেয়া বিভিন্ন বক্তব্যেও প্রকাশ পায় উগ্রবাদ। পেশায় চিকিৎসক হলেও সমকামীদের প্রাণে মেরে ফেলার কথা বলেছিল জাকির নায়েক। একটি প্রচারসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি বলেছিরেন, ‘ওসামা বিন লাদেন আমেরিকার সন্ত্রাস করেছিল। সে একজন বড় সন্ত্রাসবাদী। আমি তার পাশে আছি।’

জাকির নায়েক একটি টিভি চ্যানেল চালাত। যেখানে তার বক্তব্য প্রচার করা হতো। ২০১৬ সালে ঢাকার গুলশনে জঙ্গি হামলায় ২২ জনের প্রাণ যায়। সেই হামলাকারীরা জাকির নায়েকের বক্তব্য শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছিল বলে উঠে আসে।

এরপর থেকেই প্রকাশ্যে আসতে থাকে জাকিরের নানাবিধ কর্মকাণ্ড। সেই সময় থেকেই ভারত ছাড়া জাকির নায়েক। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য মালেয়েশিয়া প্রশাসনের কাছে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু ইন্টারপোল নোটিশ না জারি করার কারণে তা সম্ভব হয়নি।