অনেক দেশে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান একটি কারণ। এই রোগের প্রধান ঝুঁকি হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক, যা ধমনী বাধাপ্রাপ্ত এবং উচ্চ মাত্রায় খারাপ কোলেস্টেরলের দরুন হয়। স্ট্রেস অর্থাৎ চাপ, কম চলাফেরা করা এবং বিশেষ করে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য হৃদরোগের দিকে পরিচালিত করে। কিন্তু যদি আপনার খাদাভ্যাস সামান্য পরিবর্তন করেন, তাহলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক কমাতে পারেন।হৃৎপিণ্ডে রক্তসরবরাহকারী ধমনী পরিষ্কার করতে সহায়তা করে এমন কিছু খাবার ও পানীয় এ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো।
স্যামন মাছ : সুস্থ হার্টের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাবারগুলো একটি হচ্ছে, স্যামন মাছ। এই মাছে অনেক স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ প্রতিরোধ করে। এছাড়া হার্টের জন্য অন্যান্য ধরনের মাছও উপকারী। যেমন টুনা, হেরিং এবং ম্যাকেরল।
কমলার রস : বিশুদ্ধ কমলার রস অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় ধমনীর জন্য উপকারী। এছাড়া এটা সকলেরই জানা যে, কমলার রস রক্তচাপ কমায়।প্রতিদিন ২ কাপ কমলার রস পান, আপনার শরীরে সাধারণ ভিটামিন সি’র চাহিদা পূরণ এবং যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন এবং মিনারেল সরবরাহে যথেষ্ট।
কফি : এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে ২-৪ কাপ কফি পান হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ২০ শতাংশ কমায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, কফি আপনার পাকস্থলীতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন ভালো নয়।
বাদাম : বাদামে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর চর্বি বিদ্যমান, বিশেষ করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অসম্পৃক্ত চর্বি। বাদাম শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল স্তর কমায়, এছাড়াও শরীরের জয়েন্টগুলো এবং মস্তিষ্কের স্মৃতির জন্য দরকারী। খাদ্যতালিকায় আখরোট এবং কাজুবাদাম রাখতে ভুলবেন না।
পারসিমন : ফাইবার সমৃদ্ধ ফল পারসিমন কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
হলুদ : হলুদে কারকুমিন নামক একটি উপাদান থাকে, যা অত্যধিক চর্বি জমা প্রতিরোধ এবং টিস্যুর প্রদাহ হ্রাস করে। হলুদ দিয়ে চা পান কিংবা তরকারিতে মশলা হিসেবে খাদ্যতালিকায় নিয়মিত রাখুন হলুদ।
গ্রিন টি : গ্রিন টিতে শক্তি এবং শান্তি উভয় প্রভাব রয়েছে। এই চা পাতায় টিসেটাহিনু নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে সাহায্য করে। দিনে এক বা দুই কাপ গ্রিন টি পান, রক্তনালীর উপকারে যথেষ্ট।
তরমুজ : গ্রীষ্মের এই ফলটি শরীরকে শুধু সতেজ করে তোলে না, পাশাপাশি শরীরে নাইট্রিক অ্যাসিড উৎপাদনে অবদান রেখে রক্ত বাহন প্রসারিত করে। এমনকি তরমুজের এক টুকরো অনেক আশ্চর্য কাজ করে।
পনির : মাঝারি পরিমানে পনির রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ক্র্যানবেরি : পটাসিয়ামের একটি দারুন উৎস ক্র্যানবেরি। আপনি যদি নিয়মিত ক্র্যানবেরি জুস পান করেন তাহলে সুস্থ কোলেস্টেরল স্তর বৃদ্ধি এবং খারাপ কোলেস্টেরল স্তর হ্রাস পাবে। এটা প্রমাণিত যে, দিনে ২ গ্লাস ক্র্যানবেরি জুস পান করলে, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৪০ শতাংশ কমে।
দারুচিনি : দারুচিনি শুধু দারুন মশলা চা বা রান্নার স্বাদ বাড়াতে সীমাবদ্ধ নয়। এছাড়াও এটি উচ্চ কোলেস্টরলের সঙ্গে সংগ্রাম করে ধমনী সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। বাস্তব প্রভাব পেতে, প্রতিদিন ১ চা-চামচ যথেষ্ট।
ডালিম : ডালিমে রয়েছে প্রচুর ফাইটোকেমিক্যাল, যা শরীরের রক্ত সঞ্চালনকে উন্নত করতে স্বাভাবিক নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদনে অবদান রাখে।
পালংশাক : ধমনী পরিষ্কার এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে পালংশাক। এটি পটাসিয়াম এবং ফোলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ। এই উভয় উপাদান হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি হ্রাস এবং পেশী টিস্যু বজায় রাখে।
অলিভ ওয়েল : ইতালীয় এবং গ্রীকদের দীর্ঘকাল সুস্বাস্থ্যের গোপন রহস্য হচ্ছে- উচ্চ মানের অলিভ ওয়েল। খাদ্যতালিকায় অলিভ ওয়েল রাখলে, শরীরে স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং কোলেস্টেরল হ্রাস পাবে। এক গবেষণায় বলা হয়েছে, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৪১ শতাংশ কমাতে পারে অলিভ ওয়েল।
ব্রোকলি : এই সবুজ সবজিটি ভিটামিন কে সমৃদ্ধ, আপনার ধমনীতে ক্যালসিয়াম জমা প্রতিরোধ করবে, যা রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের জন্য দরকারী। ব্রোকলি খুবই পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি সবজি হিসেবে পরিচিত।
অ্যাভোকাডো : পুষ্টিকর ফলগুলোর মধ্যে অ্যাভোকাডো একটি। এই ফলের মধ্যে থাকা ফ্যাট, ভালো এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে, যা আমাদের ধমনীর জন্য অত্যাবশ্যক।
অ্যাসপারাগাস : এই সবজিটি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল ধ্বংস ধরে। শ্বাসকষ্ট এবং ধমনীর প্রদাহ রোধ করে।
bdview24.com — বিডিভিউ২৪.কম Bangla News from Bangladesh regarding politics, business, lifestyle, culture, sports, crime. bdview24 send you all Bangla News through the day.