বাংলাদেশে তৈরি সোলার চার্জিং পদ্ধতিতে গাড়ি চলবে জ্বালানি ছাড়াই

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সফলতার মুখ দেখতে চলেছে হাইব্রিড গাড়ির প্রকল্প। এই প্রকল্পের গাড়ি প্রচলিত ধারায় জ্বালানি দিয়ে চলবে।জ্বালানি শেষ হলেও সমস্যা নেই। সোলার চার্জিং পদ্ধতিতে – দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সফলতার মুখ দেখতে চলেছে হাইব্রিড গাড়ির প্রকল্প। এই প্রকল্পের গাড়ি প্রচলিত ধারায় জ্বালানি দিয়ে চলবে।জ্বালানি শেষ হলেও সমস্যা নেই। গাড়ির গতি বন্ধ হবে না। কারণ, সোলার চার্জিং পদ্ধতি সংযুক্ত থাকবে গাড়িতে। ভাবছেন, বৈরি আবহাওয়ায় টানা সূর্যের আলো না থাকলে, কি হবে?

তারও রয়েছে সহজ সমাধান। ইলেক্ট্রিক্যাল প্লাগ-ইন। মোবাইল ফোন চার্জ করার মতো বিদ্যুৎ অথবা ব্যাটারিতে চার্জ করে নিলেই সচল থাকবে গাড়ি।রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একদল গবেষক এই হাইব্রিড গাড়ি উদ্ভাবন করেছেন। যে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের এই হাইব্রিড গাড়ি উদ্ভাবন প্রকল্প পান রুয়েটের অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক। ২০১৭ সালের আগস্টে প্রকল্পের মূলকাজ শুরু হয়। এই প্রকল্পে ব্যাটারি দিয়ে সহযোগিতা করেছে Gaston।মাত্র দুই বছরের পরিশ্রমে গবেষকদল একসঙ্গে গ্রাহকের চাহিদা মতো দেশে প্রথম ৩টি হাইব্রিড গাড়ি উদ্ভাবন করেছে।

অধ্যাপক ড. এমদাদুল হকের সঙ্গে এই প্রকল্পে যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক ফজলুর রশীদ, ২০১৩-১৪ বর্ষের মাহবুবুর রহমান, ওবায়দুল হাসান, তানভির রহমান, তরিকুল ইসলাম ও ২০১৪-১৫ বর্ষের শিক্ষার্থী ইসমাইল হক ফরিদ।

গাড়িটির বিষয়ে গবেষক দলের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘ব্যাটারি ব্যবহার করেও ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি পাওয়া সম্ভব হবে। আর একবার চার্জ হলে জ্বালানি ছাড়াই টানা ২৫০ কিলোমিটার রাস্তা যাওয়া সম্ভব হবে।’ আরেক শিক্ষার্থী ওবায়দুল হাসান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘একটি পরিত্যক্ত গাড়িকে হাইব্রিড গাড়িতে রূপান্তর করে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব। এজন্য খরচ পড়বে মাত্র ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা।’

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের সব জ্বালানি শেষ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এজন্য উন্নত বিশ্বের দেশগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা বিকল্প বের করছে। আমরাও সেই দিকটি বিবেচনা করে চেষ্টা করেছি। প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। এখন এটি কতদ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব, সেটিই দেখার বিষয়।’