কে হচ্ছেন বিএনপির নারী এমপি?

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া অন্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি দলটি। সংরক্ষিত আসনে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিএনপির নির্বাচিতরা শপথ নেয়ার পরই দলটির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ওঠে সংরক্ষিত আসনে কে হচ্ছেন দলের নারী এমপি। সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আসন কম পাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী একজন নারীকে সংরক্ষিত এমপি হিসেবে মনোনয়ন দিতে পারবে দলটি। এই একটি পদের বিপরীতে দলটির বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে।

তারা হলেন- বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুই পুত্রবধূ জোবায়দা রহমান ও শর্মিলা রহমান সিঁথি। এছাড়া দলের ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিরিন সুলতানা, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, শামা ওবায়েদ, সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা,

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, মহিলা দলের সভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সাবেক এমপি সৈয়দা আশরাফি পাপিয়া এবং সাবেক এমপি নিলুফার চৌধুরী মনির নাম। তাদের নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

বিএনপির এই নাজুক পরিস্থিতিতে জিয়া পরিবারের অন্য কারও রাজনীতিতে অভিষেক হওয়া উচিত, সে অনুযায়ী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান অথবা প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথিকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হওয়া উচিত। আবার কেউ কেউ বলছেন, খালেদা জিয়ার পুত্রবধূরা সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হলে সেটা তাদের পারিবারিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করবে।

অন্যদিকে তরুণ নেতৃত্বের প্রতি যারা আগ্রহী তারা বলছেন, দলের এই করুণ পরিস্থিতিতে সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারাহানা অত্যন্ত যোগ্য। পারিবারিক ঐতিহ্য, ভয়েস-ভোকাল ও ব্যক্তিত্বের দিক থেকে তিনি এ পদে অন্যদের চেয়ে বেশ এগিয়ে।

দলের অপর একটি সূত্রের দাবি, যেহেতু সংরক্ষিত আসনে দলের পক্ষ থেকে মাত্র একজনকে মনোনয়ন দেয়ার সুযোগ রয়েছে, সেক্ষেত্রে জিয়া পরিবারের কেউ যদি আগ্রহী না হন তাহলে নিপুন রায় চৌধুরী বা আফরোজা আব্বাস মনোনয়ন পেতে পারেন।

কারণ হিসেবে ওই সূত্রের দাবি, দলের কঠোর সমালোচনায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সবসময় সরব থাকেন। খালেদা জিয়াকেও তিনি ‘ব্যর্থ নেত্রী’ বলতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। তার মুখ বন্ধ করতে নিপুন রায়কে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। তা না হলে আফরোজা আব্বাস। কারণ মির্জা আব্বাস দলের জন্য অনেক অর্থ খরচ করেন- এটা তার জন্য পুরস্কার হতে পারে।

সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে রুমিন ফারহানা ও নিপুন রায় চৌধুরী জাগো নিউজকে জানান, দল যদি উপযুক্ত মনে করে, তা হলে দলের যে কোনো সিদ্ধান্ত তারা মানতে প্রস্তুত।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের দলের মধ্যে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি।

কোন বিবেচনায় সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়া উচিত বলে মনে করছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আলোচনা তো হয়নি, আলোচনা হলে জানতে পারবেন।’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেননি। তার আসন শূন্য ঘোষণা হয়েছে। সংরক্ষিত আসনের প্রতি আগ্রহ দেখিয়ে লাভ কী? আর যদি একান্তই দিতে হয় তা হলে জোবায়দা রহমান, শর্মিলী রহমান, আফরোজা আব্বাস, নিপুন রায় চৌধুরী- তারা কেন? দলকে পরিবারতন্ত্রের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে।’

‘জোবায়দা রহমান, শর্মিলী রহমানরা যদি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পান তাহলে অন্যরা রাজনীতি করছেন কেন? আফরোজা আব্বাস, নিপুন রায় কতদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি করেন?

মনোনয়ন দিতে হলে দলের যারা সিনিয়র আছেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, রাজপথে লাড়াই-সংগ্রাম করতে গিয়ে নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়েছেন তাদেরই দেয়া উচিত। বেগম সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, হেলেন জেরিন- এদের বিবেচনায় নেয়া উচিত।’

দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, নির্বাচিতদের শপথ নিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়েও তিনি একক সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। সময়মতো সবই জানতে পারবেন।’

-Jagonews