শায়খুল হাদীস আল্লামা হুসাইন আহমদ রারকোটি

মোস্তাক আহমদ চৌধুরী: আসা-যাওয়ার লীলাভূমি এ পৃথিবী। জন্মিলে মরতে হয়। সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হয়। এটাই চিরাচরিত নিয়ম। কিন্তু কিছু মানুষ মরেও অমর হন। মহামানব হিসেবে মানবহৃদয়ে যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকেন। কর্মগুণে জীবন্ত মানুষগুলোর সংখ্যা বেশি নয়।

এদের আগমনের জন্য বহুকাল অপেক্ষায় থাকতে হয়। এমন ক্ষণজন্মাদেরই একজন শায়খুল হাদিস আল্লামা হুসাইন আহমদ শায়খে বারকোটি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ আলেম, বিদগ্ধ শায়খুল হাদিস, প্রাজ্ঞ বিচারক ও দক্ষ সংগঠক। শায়খের বিশাল বর্ণাঢ্য জীবনেতিহাস থেকে কিঞ্চিত আলোকপাত করছি।

নাম ও পরিচয়: নাম হুসাইন আহমদ। তাঁর পিতার নাম মুনশি মুহাম্মদ আব্দুল গফুর এবং মাতার নাম ফয়যুন নেসা। তিনি স্বীয় মা-বাবার ছয় সন্তানের মাঝে তৃতীয়।

জন্ম: শায়খুল হাদিস আল্লামা হুসাইন আহমদ বারকোটি রাহ. ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলার ঐতিহ্যবাহী গোলাপগঞ্জ উপজেলাধীন ‘বারকোট’ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ধার্মিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

শিক্ষাজীবন: শায়খুল হাদিস আল্লামা হুসাইন আহমদ শায়খে বারকোটি রাহ.র পড়ালেখার সূচনা নিজ গ্রামেই। তৎকালীন ‘বারকোট আহমদিয়া মাদরাসা’ থেকে কৃতিত্বের সাথে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। যা বর্তমানে ‘জামিয়া ইসলামিয়া বারকোট’ নামে সুপরিচিত। বারকোট জামিয়ায় তার প্রিয় শিক্ষক ছিলেন আপন মামা মাওলানা নজীব আলী রাহ. ও ‘বড়হুজুর’ খ্যাত মাওলানা আব্দুল লতীফ রাহ.।

প্রখর মেধা ও তীক্ষ্ণ বোধশক্তির কারণে শৈশবেই তিনি স্বীয় আসাতিযায়ে কেরামের পূর্ণ আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন। চরিত্রগত দিক বিবেচনায়ও তিনি বাল্যকাল থেকেই অত্যন্ত শরীফ ও ভদ্র ছিলেন।

শায়খুল হাদিস আল্লামা হুসাইন আহমদ বারকোটি রাহ. প্রাজ্ঞ উস্তাদবৃন্দের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক শিক্ষা বা মাদারিসে কওমিয়ার বুনিয়াদি জ্ঞান অর্জনের পর তদানীন্তন বৃটিশভারতে সিলেট অঞ্চলের সুপরিচিত দীনি বিদ্যাপীঠ ‘জামিয়া আরাবিয়া হুসাইনিয়া রানাপিং’ মাদরাসায় ভর্তি হন।

আল্লামা মুহিউদ্দীন খান রাহ.র বর্ণনামতে রানাপিং মাদরাসা ছিলো তখনকার ইসলামী আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় উলামা-মাশায়েখ ও প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিসীনে কেরামের মারকায। এখানকার শিক্ষকগণের সকলেই জমিয়তের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

শায়খুল হাদিস আল্লামা হুসাইন আহমদ বারকোটি রাহ. সময়ের অন্যতম সেরা এই বিদ্যাপীঠ থেকেই সকল পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত সম্পন্ন করেন।

রানাপিং জামিয়ায় তাঁর আসাতিযায়ে কেরামের মাঝে উল্লেখযোগ্য হলেন- শায়খুল হাদিস আল্লামা রিয়াসত আলী চৌঘরি রাহ., আল্লামা তাহির আলী তইপুরি রাহ., মাওলানা মুকাম্মিল আলী রাহ., মাওলানা আব্দুর রশীদ রাহ. প্রমূখ প্রাজ্ঞ উলামা ও মাশায়েখে কেরাম।

কর্মজীবন: দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করার পর থেকেই শায়খুল হাদিস আল্লামা হুসাইন আহমদ বারকোটি রাহ. রানাপিং জামিয়ায় হাদিসের উস্তাদ হিসেবে নিয়োজিত হন। উল্লেখ্য, তাঁর প্রখর মেধা ও যোগ্যতাবলে তিনি রানাপিং মাদরাসার ছাত্র থাকাবস্থায়ই মাদরাসার মুতাওয়াসসিতাহ ও সানাবিয়্যাহ বিভাগে পাঠদান করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন।

অতঃপর নিয়মতান্ত্রিক উস্তাদ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে প্রায় ২৩ বছর অত্যন্ত সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেন। এখানে হাদিসের উল্লেখযোগ্য কিতাবাদি ছাড়াও অপরাপর শাস্ত্রের দুর্বোধ্য গ্রন্থাবলির পাঠদান করেন।

শায়খে বারকোটি রাহ. জামিয়া আরাবিয়া হুসাইনিয়া রানাপিং ছাড়াও ইছামতি দারুল উলুম কামিল মাদরাসা কালিগঞ্জ, মাথিউরা সিনিয়র ফাযিল মাদরাসা, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম দেউলগ্রাম, জামিয়া হুসাইনিয়া হাফিযিয়া সৈয়দপুর, জামিয়া কাসিমুল উলুম দরগাহ, জামিয়া আসআদুল উলুম রামধা, জামিয়া কাসিমুল উলুম মেওয়া, জামিয়া হুসাইনিয়া দারুল উলুম ঢাকাদক্ষিণসহ সিলেটের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন মাদরাসায় সুদীর্ঘ ৬৩ বছর যাবত বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফসহ দরসে নেযামির বিভিন্ন জটিল ও দুর্বোধ্য কিতাবাদির পাঠদান করেন।

অন্যান্য মাদরাসায় অধ্যাপনার পাশাপাশি এলাকাবাসীর আন্তরিক দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে জামিয়া ইসলামিয়া বারকোটের মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আমৃত্যু তিনি এই দায়িত্বভার অত্যন্ত সার্থকতার সাথে পরিচলনা করেন।

কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি দারুল উলুম দেউলগ্রাম মাদরাসার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, ইছামতি মাদরাসার মুহাদ্দিস, দরগাহ মাদরাসার মুহাদ্দিস, মেওয়া মাদরাসার শায়খুল হাদিস, সৈয়দপুর মাদরাসার শায়খুল হাদিস, রামধা মাদরাসার শায়খুল হাদিস, ঢাকাদক্ষিণ মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত সিলেট নগরীর মিরাপাড়াস্থ হযরত শাহ করার রহ. মাদরাসার প্রতিষ্ঠালগ্নেই তিনি মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনীত হন। আজীবন তিনি এ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন মাদরাসার পৃষ্ঠপোষক ও পরামর্শক হিসেবে তিনি জীবনভর ইলমে নববির খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন।

শায়খুল হাদিস আল্লামা হুসাইন আহমদ বারকোটি রাহ. ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে পূর্ববাংলার সর্বপ্রাচীন বেসরকারি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড আযাদ দীনি এদারায়ে তা’লিম বাংলাদেশ-এর পরীক্ষানিয়ন্ত্রক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তিনি ছয়বছর পর্যন্ত অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে এ মহান দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়ে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট দশবছর অত্যন্ত সুচারুরূপে এ দায়িত্ব আঞ্জাম দেন।

শায়খুল হাদিস আল্লামা হুসাইন আহমদ শায়খে বারকোটি রাহ. ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯শে মার্চ আযাদ দীনি এদারায়ে তা’লিম বাংলাদেশের সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে এদারা বোর্ড সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। তিনি ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত সদরে এদারার পদ অলঙ্কৃত করে রেখেছিলেন।

রাজনৈতিক জীবন: আল্লামা হুসাইন আহমদ শায়খে বারকোটি রাহ. রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন। তিনি দেশ স্বাধীনের পূর্ব থেকেই জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের ৭ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরি রাহ. জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের মনোনয়নে খেজুরগাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন।

তখন জমিয়ত নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে শায়খে বারকোটি রাহ.কে হযরত বায়মপুরি রাহ.র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি নির্বাচিত করেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এ দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি সংগঠনের বিভিন্ন গুরুদায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলা জমিয়তের সভাপতির দায়িত্ব অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে পালন করেন।

মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি১৯৯৬ ইংরেজী থেকে ২০১৫ ইংরেজী পযরন্ত দীর্ঘদিন জমিয়তের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতির পাশাপাশি সিলেট জেলা শাখার অন্যতম সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজনীতি করতেন মানুষের জন্যে, দেশের জন্যে, ইসলামের জন্যে। দুনিয়াবি কোন স্বার্থ হাসিলের জন্যে নয়।

আধ্যাত্মিক জীবন: আল্লামা হুসাইন আহমদ শায়খে রারকোটি রাহ. যাহেরি ইলমের পাশাপাশি বাতেনি ইলম তথা আত্মশুদ্ধির সাধনায় গভীরভাবে মনোযোগি ছিলেন। তিনি প্রথমে শায়খুল ইসলাম আওলাদে রাসুল আল্লামা সাইয়িদ হুসাইন আহমদ মাদানি রাহ.র নিকট বাইআত গ্রহণ করেন এবং তাঁর বাতলে দেয়া পথে তাসাউফ-তাযকিয়ার চর্চা করতে থাকেন।

শায়খুল ইসলামের ইন্তেকালের পর তাঁরই ইজাযতপ্রাপ্ত একান্ত শিষ্য কাইদুল উলামা আল্লামা হাফিয আব্দুল করীম শায়খে কৌড়িয়া রাহ.র নিকট বাইআত হন এবং দীর্ঘ সাধানার পর ইজাযত লাভ করেন। শায়খে বারকোটি রাহ. ছিলেন শাইখুল মাশাইখ। তাঁর শাগরেদদের মধ্যে রয়েছেন অনেক পীর-মাশায়েখ ও বুযুর্গ ব্যক্তিবর্গ।

যোগ্যতা ও বিচক্ষণতা: হযরত শায়খে বারকোটি রাহ. ইলমে হাদিস, তাফসির, ফিকহ, আকায়েদ (তর্কশাস্ত্র), মানতিক (যুক্তিবিদ্যা), ফালসাফা (দর্শন), ইত্যাদি জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখায় সমানভাবে পারদর্শী ছিলেন। ইলমে নাহব (আরবি ব্যাকরণ), বালাগাত-মা’নী (আরবি ভাষালঙ্কার) শাস্ত্রেও তিনি বিশেষ দক্ষতার প্রমাণ রেখেছেন।

সীরাতে নববী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেরর ওপর তিনি অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। ‘মাগাযি’ বা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ‘যুদ্ধবিগ্রহ ও রণকৌশল’ সংক্রান্ত জ্ঞানে তিনি অসাধারণ প্রতিভার সাক্ষর রেখে গেছেন।

অত্যন্ত যুগসচেতন, বিচক্ষণ, তীক্ষ্ণবোদ্ধা, যুক্তিবাদী, বিতার্কিক ও দূরদর্শী আলেম হিসেবে তিনি সর্বমহলে স্বীকৃত ও সমাদৃত ছিলেন। আল্লাহ পাক তাঁকে জ্ঞানের পাশাপাশি বুদ্ধির এক বিশাল ভাণ্ডার দান করেছিলেন।

আল্লামা আব্দুল হামিদ (লুগাতি হুযুর) রাহ. ছিলেন তাঁর চাচাতো ভাই। যাঁকে যিন্দা কুতুবখানা বলা হতো। একদা এক খোশগল্পে শায়খে বারকোটি রাহ. বলেছিলেন, “মেধার বলে কেউ ধনী হলে আব্দুল হামিদ সাহেব ধনী হয়ে যেতেন আর বুদ্ধির বলে কেউ ধনী হলে আমি ধনী হয়ে যেতাম।”

বিভিন্ন জটিল সমস্যা নিরসনে শায়খে বারকোটি রাহ. ছিলেন আলেমসমাজের আশ্রয়স্থল। উদ্ভূত কঠিন পরিস্থিতিতে তার বুদ্ধিদীপ্ত সমাধানে জাতি উপকৃত হয়েছে বারবার। তিনি ছিলেন প্রজ্ঞার এক অতুলনীয় পাহাড়।

১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচন। জমিয়তের প্রার্থী খাদেমে শায়খে বাঘা হাজি ময়না মিয়া। এদিকে আল্লামা শায়খে বারকোটি রাহ. জমিয়তের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক। নির্বাচনি শেষ জনসভায় উপস্থিত সিলেটের শীর্ষ উলামা-মাশায়েখ। প্রার্থী বক্তব্য দিতে পারেন না বিধায় শায়খে বারকোটি রাহ. শায়খে গড়কোরনি রাহ.কে মাগরিবের ১০ মিনিট আগ পর্যন্ত বক্তব্য শেষ না করতে বললেন। কথা মতো হযরত বক্তব্য দিতে থাকলেন।

বক্তব্য শেষে শায়খে বারকোটি রাহ. দাড়িয়ে বললেন, “হযরতের বয়ানের পর আর কোন বয়ানের দরকার আছে কি?” সবাই বললেন “না।” শায়খে বারকোটি বললেন, “তাহলে আমাদের প্রার্থী একটি কেরাত পড়বেন, আর হুযুর দোয়া করবেন।” প্রার্থী দাড়িয়ে সালাম করে দুই হাত বেধে সুরা ইখলাস তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর হুযুরের দোয়ার মাধ্যমে সমাপ্ত হল নির্বাচনী শেষ জনসভা।

আশির দশকের প্রথমদিকে ফুলতলিপন্থিদের হামলার শিকার হয় কওমি অঙ্গন। জগন্নাথপুরে দুটি কওমি মাদরাসা জ্বালিয়ে দেয়া হয়। ফুলতলিপন্থি উগ্র সমর্থকদের হামলায় শাহাদাত বরণ করেন একজন কওমি আলেম। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। শক্ত প্রতিরোধব্যবস্থা না থাকায় উগ্রপন্থিদের হামলা বাড়তে থাকে। তখন শায়খে বারকোটি রাহ. ছিলেন সৈয়দপুর মাদরাসার শায়খুল হাদিস।

উদ্ভূত এ নাজুক পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে সিলেটের সর্বস্তরের কওমি উলামা-মাশায়েখ পরামর্শ সভায় বসেন। ঐতিহ্যবাহী দারুসসালাম মাদরাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে আল্লামা হুসাইন আহমদ শায়খে বারকোটি রাহ.র বুদ্ধিবৃত্তিক মতামতের ভিত্তিতে অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন ‘বাংলাদেশ মুসলিম ছাত্র পরিষদ’ গঠিত হয়। এ সংগঠনের মাধ্যমে কওমি শিক্ষার্থীরা উগ্রপন্থিদের মোকাবেলায় শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

ইন্তেকাল ও ঐতিহাসিক জানাযা: আল্লামা হুসাইন আহমদ শায়খে বারকোটি রাহ. দুবছরের অধিককাল শয্যাশায়ী থাকার পর গত ১১ই আগস্ট ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ শনিবার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, পাঁচ ছেলে, তিন মেয়ে ও অসংখ্য ভক্ত-শিষ্য রেখে যান। তাঁর পাঁচ ছেলেই আলেম। সবাই দীনি খিদমাতে নিয়োজিত আছেন।

হুসাইন আহমদ বারকুটির কবর ; source Jabir Zulfiqar

হযরতের জানাযার নামায ১২ই আগস্ট রোববার বাদ আসর বারকোট জামেয়া মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাযের ইমামতি করেন হযরতের বড় জামাতা হাফিয মাওলানা আযদুদ্দিন নোমান। জানাযায় এক ঐতিহাসিক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে জানাযাস্থলে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত বারকোট মাদরাসা ও আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।

বারকোট এলাকা সেদিন এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এলাকাবাসী এক ঐতিহাসিক জানাযার প্রত্যক্ষ সাক্ষাত লাভে ধন্য হয়। জানাযা শেষে মরহুমকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। শায়খে বারকোটির ইন্তেকালে জাতি হারালো ইলম ও হেকমতের এক অতুলনীয় ভাণ্ডার। আল্লাহ পাক যেনো মরহুম শায়খকে জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসী হিসেবে কবুল করেন এবং আমাদেরকে নি’মাল বদল দান করেন। আমীন।