সমাজে বাল্যবিবাহের করুণ-ভয়ংকর দুরবস্থার উদাহরণ অহরহ দেখা যায়। বাল্যবিবাহ মাঝে মধ্যে এমন সব ভয়ংকর অবস্থা বয়ে নিয়ে আসতে পারে যা অতি দুর্ভাগ্য। বাল্যবিবাহের কুফল শুধু একটি পরিবারের উপর নয়, সমাজ তথা রাষ্ট্রের উপর ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেনে।
মেয়ের বয়স যত কম হবে ‘তত বেশি পণ’ পাবেন সেই কনের বাবা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেনে- এই প্রথাটি প্রচলিত আছে। আর এই ‘লোভনীয়’ সুযোগটি হাতছাড়া করতে চান না মেয়ের বাবা রাও। তেমনি এই লোভে পা দেন মামেদ আলী নামে এক বাবা। ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাতান প্রদেশের ৮ বছর বয়সী শিশু রাওয়ানের বাবা মামেদ আলীও ‘লোভনীয়’ সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাননি।
তাইতো কিছু অর্থের জন্য নিজের মেয়ের চেয়ে বয়সে ৫ গুণ বড় পাশের গ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেন তার শিশু কন্যাকে। যার সঙ্গে শিশু রাওয়ানের বিয়ে হয়েছিল সেই বরের বয়স ছিল ৪০ বছর।
যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্টের বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী ইয়েমেনের হারদ গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। সেদিন জোর করে ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির সঙ্গে শিশু রাওয়ানকে বিয়ে দেয়া হয়।
শিশু রাওয়ান বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় ঘুমিয়ে পড়েছিল। এরপর বরের কোলে চেপেই শ্বশুর বাড়ি যায় ঘুমন্ত শিশুটি। সেদিনের সে ঘুম যে চিরঘুম হবে, তা হয়তো বুঝতে পারেননি মেয়েটির অর্থ লোভী বাবা।
পরের দিন খবর পান বিয়ের রাতেই মারা গেছে রাওয়ান। বাবা মামেদ আলী ছোট্ট রাওয়ানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরের দিন থানা-পুলিশ করে ময়নাতদন্ত করিয়েছিলেন। সেখান থেকে জানা যায়, বিয়ের রাতে ধর্ষণের ফলে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে মারা গেছে শিশু রাওয়ান।
যদিও রাওয়ানের মৃত্যুর পর বিষয়টি তেমনভাবে গণমাধ্যমের সামনে আসেনি। গত বছরের ২৬ মার্চ ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিমান হামলা শুরুর পর এ ঘটনাটি সামনে আসে। সে সময় রয়টার্সের সাংবাদিক পল অ্যালান রাতান প্রদেশে গিয়ে এই দুর্ভাগ্যজনক বাল্যবিবাহটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
পল অ্যালানের ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই সবাই এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটির বিষয়ে জানতে পারে। এরপর সামাজিক গণমাধ্যমজুড়ে তীব্র ধিক্কার ওঠে। সকলেরই দাবি ছিল, দুর্ভাগা শিশু রাওয়ানের বাবা-মা এবং তার বরকে গ্রেফতার করা হোক।
যাতে ওই এলাকায় শিশুবিবাহের মতো জঘন্য প্রথা বন্ধ হয়। সামাজিক গণমাধ্যমের লেখা পর্যন্তই এটি সীমাবদ্ধ থাকে। এই প্রতিবাদ শুরু হয়ে আবার থেমেও গেছে। কাজের কাজ হয়নি কিছুই।
সম্প্রতি ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদক ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাতান প্রদেশের হারদ গ্রামে গিয়ে দেখেন, দরিদ্র পরিবারগুলোতে এখনো হরদম চলছে শিশুবিবাহের প্রথা। সৌদি সীমান্তে বাস করা ইয়েমেনের উপজাতিদের মধ্যে এই প্রথা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। তারা বিশ্বাস করে স্ত্রী যত অল্প বয়সী হবে তত বেশি বাধ্য থাকবে। আর বেশি দিন সন্তান ধারণ করতে পারবে।
ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইয়েমেনের আইনে মেয়েদের বিয়ের জন্য কোনো বয়স নির্ধারণ করে দেয়া নেই। বাবা-মা স্থির করলেই তাদের মেয়েকে বিয়ে দিতে পারেন।আর তাই বিভিন্ন বেসরকারি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর অনেক চেষ্টার পরও বাল্যবিবাহ বন্ধ হচ্ছে না মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটিতে।
bdview24.com — বিডিভিউ২৪.কম Bangla News from Bangladesh regarding politics, business, lifestyle, culture, sports, crime. bdview24 send you all Bangla News through the day.