শহুরে স্পেনের থেকে অনেকটা দূরে একটি পাহাড়ের মাথায় অবস্থিত ছোট্ট গ্রাম ট্রাসমোজ। পিছনে পাহাড়ের উপরে বরফের চাদর। একদিক থেকে কালচে পিচের রাস্তা ছুটেছে গ্রামের দিকে। কিন্তু এ রাস্তা বড় ফাঁকা।
এ পথ ধরে কেউ যায় না। সকলে বিশ্বাস করেন, এই রাস্তা তাঁদের নিয়ে যাবে সাক্ষাৎ মৃত্যুপুরীতে। অভিশপ্ত গ্রাম ট্রাসমোজ পাহাড়চুড়োয় দাঁড়িয়ে থাকে একা। একেবারে একা।
কিন্তু কী এমন রয়েছে সেখানে? দূর থেকে থমথমে চেহারাটা দেখলে অন্তত এটুকু মালুম হয় যে, এখানে প্রাণের উচ্ছ্বলতা তেমন নেই। বলা হয়, এই গ্রামে নাকি ডাইনিদের বাস! এই গ্রামে এমন অভিশাপ লেগেছে যে, একমাত্র পোপই পারেন উদ্ধার করতে।
গ্রামে ক’জন বাস করেন? মাত্র ৬২ জন। এই গ্রামের অস্তিত্ব রয়েছে যুগ যুগ ধরে। সেই পুরনো দিনগুলি থেকে এই গ্রাম বয়ে চলেছে অভিশাপের এই ধারা।
সত্যিই কি অভিশাপ রয়েছে? নাকি, অন্য কোনও উদ্দেশ্যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে একটি মিথ ছড়িয়ে রেখেছে? একটি ব্যাখ্যায় বলা হয়, ত্রয়োদশ শতাব্দীতে এই গ্রামে নকল মুদ্রা তৈরি করা হত।
মুদ্রা তৈরির শব্দ যাতে কারও কানে না যায়, কেউ যাতে এই গ্রামের চৌহদ্দিতে ঢুকতে না পারে, সে জন্যই ভুতুড়ে মিথ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনা যা-ই হো, ট্রাসমোজের সঙ্গে এই ভূত জড়িয়ে গিয়েছে চিরতরে। যা উল্টে এই গ্রামে জন্ম দিয়েছে ডাইনিবিদ্যা নিয়ে চর্চার। এই গ্রামের বাসিন্দারা প্রায় সকলেই এখনও ডাইনিচর্চা করে আসছেন।
এই গ্রামে একসময়ে একটি কেল্লা ছিল। কিন্তু অভিশাপের চাদর এমনভাবে এর সঙ্গে সেঁটে গিয়েছে যে, ক্রমশ ক্ষয় দেখে এসেছে গ্রামটি। কেল্লার ধ্বংসাবশেষ আজও দেখা যায়।
শোনা যায়, কেল্লাটিতে নাকি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। একের পর এক বাসিন্দা গ্রাম ছাড়তে শুরু করেন। হাতেগোনা যে কয়েকজন রয়ে গিয়েছেন, তাঁরা বেঁচে আছেন ডাইনিবিদ্যাকে আঁকড়ে। আর রয়েছে গ্রাম ঘিরে এক অপার নৈঃশব্দ।
bdview24.com — বিডিভিউ২৪.কম Bangla News from Bangladesh regarding politics, business, lifestyle, culture, sports, crime. bdview24 send you all Bangla News through the day.