২০১৬ সালের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু হার বেড়েছে। আর সাত বছরে দেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার বেড়েছে ১৯ শতাংশ। যে কোন দেশে সিজারিয়ান প্রসব মোট প্রসবের ১০-১৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত থাকা উচিত। বর্তমানে বাংলাদেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার ৩১ শতাংশ। এটি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের সাবেক বিভগীয় প্রধান, অধ্যাপক ডা. সায়েবা আকতার বলছেন,
প্রথমত, বাংলাদেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার বাড়ার কারণ, সবার টরারেন্স কমে গেছে, আমার যেটা মনে হয়, রোগীদের, রোগীদের আত্বীয়দের এবং ডাক্তারদেরও ধৈর্য্য কমে গেছে। দ্বিতীয়ত, সিজারিয়ান বাচ্চার জন্মের সময় মাথায় চাপ পড়ে না তাই বাচ্চারা মেধাবী হবে, শিক্ষিত মায়েদের মধ্যে এমন ধারণা খুবই কাজ করে। তৃতীয়ত, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও জুনিয়র ডাক্তাদের উপর চাপ থাকে সিজার করানোর জন্য।
আর বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে ১০ লাখের বেশি সিজারিয়ান প্রসব হচ্ছে, যার ৭৯ শতাংশ হয় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে। নরমাল ডেলিভারির বাচ্চার ফুসফুস স্বাভাবিক থাকে এবং জন্মের পরপর বাচ্চা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারী বিভাগের ডাক্তার অধ্যাপক সাহনূর ইসলাম বলেছেন, সিজারিয়ান বাচ্চা যেহেতু অাগেই ডেলিভারি হচ্ছে, তাই ফুসফুস পুরোপুরি গঠন হয় না। সে ক্ষেত্রে বাচ্চাটি শ্বাসকষ্টে ভুগবে, বড় হলে সে অ্যাজমাজনিত সমস্যায় পড়তে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, যে কোন দেশে সিজারিয়ান প্রসব মোট প্রসবের ১০-১৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত থাকা উচিত। বাংলাদেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার ৩১ শতাংশ। যা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এক স্কুল শিক্ষিকা সায়েকা সরওয়ার শচি বলেছেন, সিজারের আগে অ্যানেস্থেশিয়ার জন্য একটা ইনজেকশন দেওয়া হয় কোমরে, ঐটা খুবই পেইনফুল।
তিনি বলেন, আমার বাচ্চার বয়স দুই বছর হয়ে যাচ্ছে অথচ এখনো ব্যথাটা সহ্য করে যাচ্ছি অার আমার শারীরিক সক্ষমতাও কমে গেছে। সিজারিয়ান প্রসবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও অ্যানেস্থেশিয়া জটিলতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে অনেক প্রসূতি।
bdview24.com — বিডিভিউ২৪.কম Bangla News from Bangladesh regarding politics, business, lifestyle, culture, sports, crime. bdview24 send you all Bangla News through the day.