বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ক্ষুদ্রতম ১০ টি দেশ সম্পর্কে জানেন কি?

ছোট জিনিসের প্রতি আমাদের ভালো লাগাটা যেন একটু অন্যরকম। এই বিশাল পৃথিবীর বুকে আছে এমনি ছোট কিছু দেশ যাদের আছে বিশ্বখ্যাত রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং পর্যটন শিল্প পরিচিতি। আসুন ঘুরে আসা যাক বিশ্বের সেই ছোট দেশ গুলো থেকে:

১০. মাল্টা -১২২ বর্গ মাইল (৩১৬ বর্গ কি.মি.)

১০ নাম্বার অবস্থানে রয়েছে ইউরোপিয়ান আইল্যান্ড এর দেশ মাল্টা। এই দেশের নাইট/ রাজাদের একটি উত্তরাধিকারী ব্যবস্থা চালু আছে। এর আরও পরিচিতি আছে মল্টিয় ক্রস এর জন্য।

এখানে ১২২ বর্গ কি,মি, এলাকায় প্রায় ৪,৫০,০০০ মানুষের বসবাস এবং প্রতি বর্গ কি,মি, এ প্রায় ৩,৪০০ জন মানুষ বাস করে। এটা পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপুর্ণ দেশ।

৯. মালদ্বীপ – ১২০ বর্গ মাইল (৩০০ বর্গ কি.মি.)

মালদ্বীপ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় দেশ এবং পর্যটকদের গন্তব্যস্থান। সমুদ্রতলের নানা বৈচিত্রপূর্ণতাকে পর্যটকদের দেখানোর অসাধারণ সব ব্যবস্থায় সমৃদ্ধ মালদ্বীপ।

৮. সেন্ট কিট্‌স ও নেভিস – ১০১ বর্গ মাইল (২৬১ বর্গ কি.মি.)

আমেরিকার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ যেটাকে ওয়েস্টইন্ডিজের মাতৃ উপনিবেশও বলা হয়ে থাকে। সেন্ট কিট্‌স ও নেভিস প্রথম ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ যা ইউরপিয়ানরা দখলে নিয়েছিল।

৭. মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ – ৭০ বর্গ মাইল (১৮১ বর্গ কি.মি.)

প্রশান্ত মহাসগরীয় এই দ্বীপটি অস্ট্রেলিয়ার উত্তরে অবস্থিত। এই দেশটির রাজধানীর নাম মাজুরো। ২০১২ সালের বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী এর জনসংখ্যা ৫২,৫৫৫ জন। প্রচলিত ভাষা ইংরেজী ও মার্শালীজ।

৬. লিশটেনস্টাইন – ৬২ বর্গ মাইল (১৬০ বর্গ কি.মি.)

ধ্য ইউরোপে অবস্থিত এই দেশটি জার্মান ভাষাভাষি দেশ গুলোর মধ্যে অন্যতম ধনী রাষ্ট্র। রাজধানীর নাম ফাডুৎস। রাইন নদীর উপত্যকায় অবস্থিত এই দেশটি আল্পস পর্বতমালা দিয়ে বেষ্টিত।

৫. সান মারিনো – ২৪ বর্গ মাইল (৬১ বর্গ কি.মি.)

ইউরোপ মহাদেশের ইটালির উত্তর দিকে অবস্থিত সান মারিনো। প্রায় ৩১,০০০ এর কিছু বেশি মানুষের বসবাস ইটালি দ্বারা পরিবেষ্টিত এই দেশটিতে এবং এই দেশের মানুষেরাও ইতালীয় ভাষায় কথা বলে। মুদ্রার নাম ইউরো।

৪. টুভালু – ১০ বর্গ মাইল (২৬ বর্গ কি.মি.)

অস্ট্রেলিয়ার পূর্বে প্রশান্ত মহাসগরে অবস্থিত এই দ্বীপটি। টুভালু পূর্বে এলিস দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত ছিল। টুভালুর রাজধানীর নাম ফুনাফুতি অ্যাটলটি। এর মোট জনসংখ্যা প্রায় ১০,০০০ জন এবং প্রতি বর্গমাইলে প্রায় ১০০০ জনের বসবাস যা দেশটিকে অন্যতম ঘনবসতি পূর্ণ রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করেছে।

৩. নাউরু – ৮.১ বর্গ মাইল (২১ বর্গ কি.মি.)

প্রজাতান্ত্রিক নাউরু দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র। এটি বিশ্বের একমাত্র দেশ যার কোনো রাজধানী নাই। ২০০৫ সালের হিসাব অনুযায়ী এখানকার জনসংখ্যা ১৩,০৪৮ জন।

২. মোনাকো – ০.৭৮ বর্গ মাইল (২ বর্গ কি.মি.)

আয়তনে পৃথিবীর দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হলেও এটি সর্বোচ্চ ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্র। এর জনসংখ্যা আনুমানিক ৩২ হাজার। এখানে রয়েছে অত্যন্ত ব্যয়বহুল পর্যটন শিল্প। এদেশের জনগণকে আয়কর দিতে হয় না।

এখানকার আয়ের মূল উতসগুলো হল কাসিনো বা জুয়াখেলার আখড়াগুলি। এখানে একটি ফর্মুলা-ওয়ান ট্র্যাক আছে যেটাতে দেশটির রাস্তাগুলোকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

১. ভ্যাটিকান সিটি – ০.১৭ বর্গ মাইল (০.৪৪ বর্গ কি.মি.)

ইতালির রোম শহরের অন্তর্গত এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এখানে রাষ্ট্রনেতা হন পোপ। সেন্ট পিটারের ব্যাসিলিকা, যা রোমান ক্যাথলিকদের প্রধান গির্জা ও অন্যান্য রোমান ক্যাথলিক গির্জার সদর দফতর হিসেবে কাজ করে। এর নিজস্ব সেনাবাহিনীও রয়েছে, যার নাম সুইস গার্ড; এর সদস্য সংখ্যা প্রায় ১০০।

শেয়ার করুন: