কোরবানি

যেভাবে চিনবেন কোরবানির যোগ্য ও অযোগ্য পশু

আর মাত্র দু’দিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে অনেকেই কোরবানির পশু ক্রয় করে ফেলেছেন। অনেকে এখনো ক্রয় করেননি। ঈদের আগেই হয়তো তারাও কোরবানির পশু ক্রয় করবেন। তবে কোন পশু কোরবানির যোগ্য তা কোরবানি দাতার জানা প্রয়োজন।

এছাড়া একটি পশুতে কয়জন শরিক হতে পারবে? আর পশুর ধরণ কী হবে অথবা কোন পশু কোরবানির যোগ্য তা জানা প্রয়োজন। এ বিষয়ে ইসলাম কি বলে সেরকম কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা নিম্নে তুলে ধরা হলো-

একটি কোরবানির পশুতে কতজন শরীক থাকা যাবে? ভেড়া কিংবা দুম্বা, ছাগল দিয়ে শুধু একজনই কোরবানি দিতে পারবে। এই পশুতে কয়েকজন মিলে কোরবানি করা যাবে না। আর গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ ৭ জন শরিক হতে পারবে। ৭ জনের অধিক শরিক হলে কারও কোরবানিই সহি হবে না।(মুসলিম শরীফ ১৩১৮; মুয়াত্তায়ে মালেক ১/৩১৯)

নিজের কোরবানি নিজেই জবাই করা:- মাসআলা: কোরবানি দাতা যদি নিজেই পশু জবাই করেন সেটিই উত্তম। নিজে না পারলে অন্যকে দিয়েও জবাই করাতে পারবে। এক্ষেত্রে কোরবানি দাতা পুরুষ হলে জবাই স্থলে তার উপস্থিত থাকা ভালো।(মুসনাদে আহমদ,২২৬৫৭; ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ৫/৩০০)

কোনো অংশীদারের নিয়তে গলদ থাকলে:- মাসআলা: যদি কেউ আল্লাহর হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কোরবানি না করে শুধু গোশত খাওয়ার নিয়তে কোরবানি করে তাহলে তাকে অংশীদার বানালে কারো কোরবানি হবে না। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শরিক নির্বাচন করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৮; কাযীখান ৩/৩৪৯)

কোনো শরিকের মৃত্যু ঘটলে:- মাসআলা: কয়েকজন মিলে কোরবানি করার ক্ষেত্রে জবাইয়ের আগে কোনো শরিকের মৃত্যু হলে তার ওয়ারিসরা যদি মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করার অনুমতি দেয় তবে তা জায়েজ হবে। না হয় ওই শরিকের টাকা ফেরত দিতে হবে। অবশ্য তার স্থলে অন্যকে শরিক করা যাবে। (আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৬; কাযীখান ৩/৩৫১)

বন্ধ্যা পশু দিয়ে কোরবানি:- মাসআলা: বন্ধ্যা পশু দিয়ে কোরবানি জায়েজ। (রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫)

কোরবানির পশুতে আকিকার অংশ:- মাসআলা: কোরবারিন গরু, মহিষ এবং উটে আকিকার শরিক হতে পারবে।(রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬২)

রুগ্ন, খোড়া ও দুর্বল পশুর কোরবানির হুকুম:- মাসআলা: যে পশু তিন পায়ে চলে, এক পা মাটিতে রাখতে পারে না বা ভর করতে পারে না এমন পশুর কোরবানি জায়েজ নয়। অথবা এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ নয়। (তিরমিজি শরীফ ১/২৭৫; আবু দাউদ শরীফ ৩৮৪; ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ৫/২৯৭)

কানা, শিং ভাঙা বা লেজ কাটা পশুর কোরবানি:- মাসআলা: যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশুর কোরবানি জায়েজ নয়। পক্ষান্তরে যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙে গেছে কিংবা একেবারেই শিং উঠেনি সে পশু দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। (তিরমিজি শরীফ ১/২৭৬; আবু দাউদ শরীফ ৩৮৮)

অন্যদিকে, যে পশুর লেজ বা কোনো কান এক তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি কাটা সে পশুর কোরবানি জায়েজ নয়। তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই। (তিরমিজি শরীফ ১/২৭৫; মুসনাদে আহমদ ১/৬১০)

এছাড়া যে পশুর দুটি চোখই কানা বা চোখ পুরো নষ্ট বা এক চোখের দৃষ্টিশক্তি একতৃতীয়াংশ বা তারও অধিক নষ্ট হয়ে গেছে সে পশু দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ নয়। (তিরমিজি শরীফ ১/২৭৫; ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ২৯৭)

কোরবানির পশু থেকে কোনো সুবিধা আদায়:- মাসআলা: কোরবানির পশু কেনার পর বা নির্দিষ্ট করার পর তা দিয়ে উপকৃত হওয়া জায়েজ নয়। যেমন হাল চাষ করা, আরোহণ করা, পশম কাটা ইত্যাদি। সুতরাং কোরবানির পশু দ্বারা এসব করা যাবে না। যদি করে তবে পশমের মূল্য, হাল-চাষের মূল্য ইত্যাদি সদকা দিতে হবে।(মুসনাদে আহমদ ২/১৪৬; ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ৫/৩০০)

কোরবানির গোশত জমিয়ে রেখে খাওয়া:- মাসআলা: কোরবানির গোশত তিনদিনেরও বেশি সময় রেখে খাওয়া জায়েজ। (মুসলিম শরীফ ২/১৫৯; মুয়াত্তায়ে মালেক ১/৩১৮)

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি:- মাসআলা: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবারি করা জায়েজ। মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি নফল কুরবানি হিসেবে গণ্য হবে। কুরবানির স্বাভাবিক গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে এবং আত্মীয়-স্বজনকেও দিতে পারবে।

আর যদি মৃত ব্যক্তি কুরবানির ওসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত নিজেরাও খেতে পারবে না। গরীব-মিসকিনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে। (মুসনাদে আহমদ ১/১০৭; কাযীখান ৩/৩৫২)

শেয়ার করুন: