বিল্ডিং নির্মান সামগ্রী কোথায় কেমন দাম জেনে নিন!

বাসস্থান নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকাতে পাওয়া যায়। ইট, বালি, সিমেন্ট, রড, টাইলস, দরজা, জানালা, পাইপ, স্যানিটারী সামগ্রী অন্যতম। কিন্তু সকলের জানার কথা নয় কোথায় এই জিনিসগুলো পাওয়া যায় এবং কোন এলাকায় কত দামের হেরফের।

তাহলে আসুন জেনে নেই নির্মান সামগ্রীর তথ্যাদিঃ

ইট ও বালি

নির্মাণের শুরুতেই ইট ও বালির প্রয়োজন হয়। আরসিসি পিলার ও ছাদের ঢালাই সহ যে কোন ধরনের ঢালাই কাজে কংক্রিট তৈরি করতে হয়। কংক্রিটের অন্যতম উপাদান পিকেট বা ইটের খোয়া।

আর গাঁথুনীতে প্রয়োজন হয় আস্ত ইট। এই পিকেট ও ইটের দাম হাজার প্রতি ৬,০০০ -৬,৫০০ টাকা। ঢাকার গাবতলী, আশুলিয়া ও সাভার এবং নারায়ণগঞ্জের পাগলা ও মুন্সিখোলায় রয়েছে ইটের ভাটা।

ঢালাইয়ের কংক্রিট, গাঁথুনী, আস্তরণ তৈরির অন্যতম উপকরণ বালি, বালির প্রকারভেদের সাথে এর প্রাপ্তিস্থানেরও পার্থক্য রয়েছে। ময়মনসিংহের মোটাবালি ১ ট্রাকের দাম ট্রাক ভাড়াসহ ৭,৫০০-৯,০০০ টাকা।

১ ট্রাকে ৫০০ ফিট বালি ধরে। সিলেটের লাল বালি (সিলিকন বালি) ২০০ ফিটের ট্রাক ভাড়াসহ দাম ৫,৫০০-৮,০০০ টাকা। আস্তরণ বা গাঁথুনীর বালি পাওয়া যায় কাঁচপুর ও পাগলায়।

ট্রাক ভাড়াসহ ২০০ ফিট কাঁচপুরের বালি ২,৫০০-৩,৫০০ টাকা এবং পাগলার বালি ১,৫০০-৩,০০০ টাকা। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের মুন্সিখোলায় ভিটি বালি ট্রাক ভাড়াসহ ২০০ ফিটের দাম ১,২০০-১,৮০০ টাকা এবং গাবতলীর ড্রেজার বালি ১,৮০০-২,৫০০ টাকা।

রড/স্টীল

যেকোন ধরনের ঢালাইয়ের কাজে রড/স্টীল অন্যতম প্রধান একটা উপকরণ। সাইজ ও গ্রেডের উপর নির্ভর করে রডের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বাজারে বিএসআরএম, আরএসআরএম, হাজী স্টীল, আনোয়ার স্টীল, বসুন্ধরা স্টীলসহ বিভিন্ন কোম্পানি ৪০ গ্রেড, ৬০ গ্রেড,

৭০ গ্রেড এবং নন গ্রেডের রডও পাওয়া যায়। রডের সাইজ ৮ মিলি, ১০ মিলি, ১২ মিলি, ১৬ মিলি, ২০ মিলি এবং ২৪ মিলি –এর হয়। সাইজ যত ছোট হয় দাম তত বেশি এবং বড় হলে দাম কম হয়।

সাধারণত ৪০ গ্রেড থেকে ৭০ গ্রেডের প্রতি টন রডের মুল্য ৫৮,০০০ টাকা থেকে ৭০,০০০ টাকা। ঢাকার নয়াবাজার, ইংলিশ রোড, দয়াগঞ্জ, কুড়িল বিশ্ব রোড এবং নারায়ণগঞ্জের পাগলায় রডের আড়ৎ/বড় বাজার রয়েছে।

সিমেন্ট

গাঁথুনী, আস্তরণ ও ঢালাইয়ের কাজ দৃঢ় বন্ধনের ব্যবস্থা করে সিমেন্ট। পাইলিং/আন্ডারগ্রাউন্ডে ব্যবহৃত সিমেন্টে ক্লিংকারের পরিমাণ ৮০ শতাংশেরও বেশি হতে হয়।

এছাড়া ঢালাইয়ে ক্লিংকারের পরিমাণ ৬৫ শতাংশের বেশী এবং গাঁথুনী/আস্তরণে ৫০ শতাংশের বেশি ক্লিংকার থাকতে হয়। কোম্পানি ভেদে এর দাম প্রতি ব্যাগ ৩৫০-৪২০ টাকা হয়ে থাকে।

বাজারে শাহ সিমেন্ট, কনফিডেন্ট সিমেন্ট, স্ক্যান সিমেন্ট, এলিফ্যান্ট সিমেন্ট, টাইগার সিমেন্ট, সেভেন রিংস সিমেন্ট, মদিনা সিমেন্ট, সেভেন হর্স সিমেন্ট পাওয়া যায়।

প্রতি ব্যাগে ৫০ কেজি সিমেন্ট থাকে। নারায়ণগঞ্জের মুন্সীখোলা ও পাগলায় সিমেন্টর বড় বাজার আছে। এছাড়া কোম্পানির ডিলারদের নিকট থেকেও পাইকারি দামে সিমেন্ট পাওয়া যায়।

টাইলস

আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে বর্তমানে বাড়ির মেঝে/ফ্লোর, বাথরুমের ফ্লোর ও দেয়াল এবং কিচেনের ফ্লোর ও দেয়ালে টাইলস ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশীয় ও চায়নার তৈরি টাইলস মার্কেটে পাওয়া যায়।

দেশীয় কোম্পানির মধ্যে রয়েছে মীর সিরামিকস, আরএকে সিরামিক, সান ফ্লাওয়ার সিরামিক, মধুমতি সিরামিক ও ফুওয়াং সিরামিকের টাইলস পাওয়া যায়।

যাত্রাবাড়ি, বাংলামোটর, মহাখালি, উত্তরা, ও বাড্ডাতে টাইলসের বিশাল বাজার রয়েছে। ৪”/৪”, ৬”/৬”, ৮”/৮”, ৮”/১০”, ১০”/১০” , সাইজের টাইলস কিচেন/বাথরুমের দেওয়ালে ব্যবহার করা হয়।

এছাড়া ১২”/১২”, ১২”/১৬”, ১২”/১৮”, ১৮”/১৮”, ৩০”/৩০” এবং ২´/২´ সাইজের টাইলস ফ্লোর/মেঝেতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

সাধারণ বিদেশী টাইলস প্রত্যেত বর্গফুটের দাম ৭০ টাকা – ১৮০ টাকা এবং দেশি টাইলসের দাম ২৫ টাকা – ১২০ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন, প্রাকৃতিক দৃশ্য, আরবী লেখা সহকারে প্রত্যেক বর্গফুট বিদেশি টাইলস ২৫০-৫৫০ টাকা এবং দেশি টাইলস ১৫০ টাকা – ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়।

কাঠের বা প্লাস্টিকের দরজা

বাসা এবং ঘরের নিরাপত্তার জন্য দরজার গুরুত্ব অপরিসীম। ঢাকার কুতুবখালি, নয়াবাজার, পান্থপথ, রোকেয়া সরনি, বাড্ডা ও কুড়িল বিশ্বরোডে পাইকারি দরে দরজা পাওয়া যায়।

এসব এলাকার দোকানে প্রাপ্ত দরজার পাল্লার দাম ৫,০০০-৮,০০০ টাকা এবং চৌকাঠ/ফ্রেমের দাম ২,০০০-৪,০০০ টাকা।

খোলা বাজার ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন আলিবাবা ডোর, নাভানা ফার্নিচার, অটবি ফার্নিচার, আকতার ফার্নিশার্স ও ব্রাদার্স ফার্নিশার্স বিভিন্ন ডিজাইনের মানসম্পন্ন ও টেকসই দরজা বিক্রয় করে থাকে।

এসব কোম্পানীর তৈরী চৌকাঠ/ফ্রেমের দাম ৩,০০০-১২,০০০ টাকা এবং দরজার পাল্লার দাম ৬,৫০০ – ৩০,০০০ টাকা হয়ে থাকে। এসব দরজাতে গর্জন, শিল কড়ই, আকাশ মনি, টিক চাম্বল ও সেগুন কাঠ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এছাড়া ষ্টেডিয়াম মার্কেটে মালয়েশিয়ান কাঠের দরজা পাওয়া যায়। এর পাল্লার দাম ৬,০০০-৮,০০০ এবং চৌকাঠ/ফ্রেমের দাম ২,৫০০ টাকা পরে। পানিতে কাঠের দরজা নষ্ট হওয়ার বেশ কয়েক বছর থেকে বাথরুমে প্লাস্টিকের দরজার ব্যবহার বেড়েছে।

বংশালের পুকুর পাড়ে, পান্থপথ, মিরপুরের রোকেয়া সরনিতে চৌকাঠ/ফ্রেম এবং পাল্লার সমন্বয়ে প্লাস্টিকের দাম পড়ে ২,৫০০ – ৪,০০০ টাকা।

জানালা

ঢাকাতে কাঠের জানালার প্রচলন এখন নেই বললেই চলে। সেই স্থান দখল করে নিয়েছে থাই এ্যালুমিনিয়াম ও গ্লাস। যা এখন থাই গ্লাস নামে পরিচিত। বাজারে বিভিন্ন রংয়ের গ্লাস পাওয়া যায়।

৫ মিমি ও ৮ মিমি মাপের গ্লাস প্রত্যেক বর্গফুট ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হয়। মিটফোর্ডের বাবুবাজারে গ্লাসের আড়ৎ/বাজার রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সাইজের থাই এ্যালুমিনিয়াম বাজারে পাওয়া যায়।

স্যানিটারী ফিটিংস

নবাবপুরের আলুবাজারে স্যানিটারী ফিটিংসের বিশাল মোকাম রয়েছে। এখানে বেসিন ৬৫০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকা এবং কমোড ৩,০০০ টাকা থেকে ১০,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। এছাড়া বাংলামোটর, বাড্ডা ও মিরপুরে স্যানিটারী ফিটিংস পাওয়া যায়।

পাইপ

বাজারে প্লাষ্টিকের পিভিসি পাইপ এবং লোহার তৈরি জিআই পাইপ পাওয়া যায়। এসবের সাইজ ১”/২” থেকে ১২” পর্যন্ত হয়ে থাকে। ইলেকট্রিক ওয়ারিং-এ সাধারণ মানের প্লাষ্টিকের পিভিসি পাইপ ব্যবহার করা হয়।

১/২”সাইজের প্রত্যেক ফিট পিভিসি পাইপের দাম ৮-১০ টাকা। পানি ও পয়:নিষ্কাশনের লাইনের ১”/২” সাইজের প্রত্যেক ফিট প্লাষ্টিক পিভিসি পাইপের দাম ২৫-৩০ টাকা।বাজারে আরএফএল,, গাজী, আনোয়ার, ন্যাশনাল পলিমার –এর পিভিস পাইপ পাওয়া যায়।

এছাড়া লোহার তৈরী ১”/২” জিআই পাইপের দাম প্রত্যেক ফিট ৩০-৫০ টাকা। নবাবপুরের আলুবাজারে পাইপের বিশাল পাইকারি মোকাম রয়েছে।

তথ্যসূত্র: ঢাকা অনলাইন গাইড ডটকম।

শেয়ার করুন: