আমার জীবনে একটা করুণ ইতিহাস ঘটে গেছে

রিকশা চালিয়ে কেমন আয় হয়?

খারাপ না। কোনো দিন ৫০০-৬০০, কোনো দিন ৮০০ টাকা পর্যন্ত ইনকাম হয়। রিকশা আমার নিজের না। নিজের রিকশা থাকলে ইনকাম আরো অনেক বেশি হতো। দিন শেষে রিকশার জমা দিতে হয় ১০০ টাকা।

ঢাকায় আপনি কত দিন ধরে আছেন?

ঢাকায় আমি একেবারেই নতুন। এক বছরের মতো হইব। পথঘাট চিনতাম না। এখন মোটামুটি চিনি। রিকশা চালাইতে চালাইতে রাস্তাঘাট পরিচিত হইয়া গেছে।

গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এলেন কেন?

গ্রামে তো আমার জমিজমা আছে। চাষাবাদ করতাম। সংসার ভালোই চলছিল। একটা ইটভাটায় চাকরিও করেছি। তবে এর মধ্যে আমার জীবনে একটা করুণ ইতিহাস ঘটে গেছে! কইতে পারেন কপালের দোষে ঢাকায় আসছি।

আপনার জীবনের সেই ইতিহাসটা কি বলা যাবে?

আমার দুই মেয়ে, এক ছেলে। এক মেয়েকে বিয়ে দিছি, আর ছোট মেয়ে ক্লাস ওয়ানে পড়ে। বড় ছেলেটারেও বিয়ে করাইছি। কিন্তু পাঁচ দিনের মাথায় ছেলে বলে, এই বউ মাইনা নিব না। এইটা নিয়া অনেক ঝগড়াঝাঁটি। ওই সময় ছেলে আমাদের ঘর থেকে বের কইরা দেয়।

সেই কষ্টে আমার স্ত্রী স্ট্রোক করে। পাগল পাগল হইয়া গেছিল। রাজশাহীতে ডাক্তারের কাছে নিছিলাম। ডাক্তার জানায়, সাড়ে তিন লাখ টাকা লাগব। না হলে নাকি পাগল হইয়া যাইব। সুস্থ মানুষ পাগল হইয়া থাকলে কেমন লাগে? পরে টাকা ধার কইরা চিকিৎসা করাইছি।

এরপর কী হলো?

ছেলেকে নিয়া সালিস-দরবার করলাম। ছেলে পরে চাপে পইড়া বউ মাইনা নিছে। সংসারে তার এক ছেলে, এক মেয়েও আছে। এখন সে আমাদের থেকে আলাদা। আমার একটাই ছেলে, এই ছেলে এমন স্বার্থপর আর অমানুষ কেমনে হইলো বুঝলাম না!

কয়দিন পর আমার স্ত্রীর ভাই মারা যায়, ওই সময়ও স্ত্রী আরেকবার স্ট্রোক করে। তখন ৬৫ হাজার টাকা খরচ করেছি। বিপদের পর বিপদ। এখন আমার স্ত্রী মোটামুটি ভালো আছে।

এরপর ঢাকায় চলে এলেন?

হ। গ্রামের ইটভাটায়ই ইট পোড়ানোর কাজ করতাম। ছয় মাস তো ভাটা চলে। বেতন আছিল ২০ হাজার টাকা। সেই ভাটারই এক শ্রমিক আমার কষ্টের কথা শুইনা কইল, ঢাকায় যাও।

সেখানে রিকশা চালাও, অনেক টাকা কামাইতে পারবা। তার কথামতো ঢাকায় আইলাম। সে আগে রিকশা চালাইত। গ্যারেজ তার পরিচিত। সে মহাজনকে বলে রিকশা ঠিক করে দেয়। আমার মহাজন অনেক ভালো। কয়েক দিন আগে তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধারও করেছি।

ঢাকার জীবনযাপন কেমন লাগছে?

ঢাকা আমার ভালো লাগে না। তার পরেও থাক

শেয়ার করুন: