গুঞ্জন নাকি সত্য সে হিসেব নয়। রটনা তো রটে। মিডিয়ায় কাজ করেন এমন অনেক তারকাই নেশায় আসক্ত। সে নেশাটা এতটাই ভয়াবহ যে নিরাময় কেন্দ্র পর্যন্ত যেতে হয়েছে তাঁদের। অনেকেরই মুক্তি মিলেছে। অনেকে বুঁদ হয়ে আছেন।
শোনা যায়, শুটিং স্পটে যেমন নেশার আসর চলে। তেমনি কন্ঠশিল্পীরা মাদক সেবন না করে স্টেজে উঠতে পারে না।
বিদেশেী তারকাদের নাম আহরহ শোনা গেলেও বাংলাদেশে তুলনামূলক কম নয়। নানা সময়ে তারকাদের কর্মকাণ্ডে তাঁদের নেশার চিত্র ফুটে উঠেছে মিডিয়ায়।
বাংলাদেশি তারকাদের মধ্যে যাঁদের নাম মিডিয়ায় এসেছে তাঁদের মধ্যে অন্যতম শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি। সম্ভাবনাময় এ মডেল অভিনেত্রীর সুসময়ে মিডিয়া থেকে ঝড়ে পরেন।
শোবিজে আর কখনো ফেরা হয়নি। মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ছিলেন অনেকদিন। হিল্লোলের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদই নাকি তাঁর এ নেশার মূল কারণ।
অনেকে বলেন, তিন্নি নেশায় আসক্ত ছিলেন বলে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। নেশায় আসক্ত হয়ে চেহারার এমন দশা হয়েছিল যে কেউ মডেল তিন্নির সেই সৌন্দর্যের সঙ্গে মিলাতে গেলে আঁতকে উঠতো।
দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত থাকার পর নিরাময় কেন্দ্রে ছিলেন একসময়ের জনপ্রিয় গায়িকা বাংলা ব্যান্ডের সদস্য আনুশেহ আনাদিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, `আমি বিশ্বাস করি কেউ চাইলেই একজনকে নেশার জগতে প্রবেশ করাতে পারে না।
এটা সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় মানুষ করে। আমি শুরু করেছিলাম কৌতূহল থেকে। টানা ১০ বছর নেশা করেছি। কি না করেছি নেশা করতে গিয়ে।
বস্তির নোংরা পরিবেশেও থেকেছি। আনুশেহ আরও বলেন, `নেশা আমাকে আটকে রাখলেও আমি সব সময়ই ফিরতে চেয়েছি স্বাভাবিক জীবনে।
সাত বছর চেষ্টার পর আমি পেরেছিলাম সফল হতে। `মাদক গ্রহণের সময় মনে হতো আজকের দিনটিই আমার জীবনের শেষ দিন। এখন আমি জানি জীবন কত সুন্দর! কেউ মন থেকে চাইলেই পারবে এ পথ থেকে ফিরতে।
বাংলা ব্যান্ডের আরো অনেক সদস্যই নেশায় আসক্ত ছিলেন। বিশেষ করে আপন আলোয় উজ্জল হওয়া অর্ণব মাদকাসক্তের ছোবলে পড়েছিলেন।
তিনিও দীর্ঘদিন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ছিলেন। কিন্তু অর্ণব কখনোই তা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেননি। এর জের ধরেই নাকি স্ত্রী সাহানা বাজপেয়ির সঙ্গে তাঁর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
আরো অনেক ব্যান্ড শিল্পীই রয়েছে এ তালিকায়। নেশায় বুঁদ হয়ে দীর্ঘদিন গানের থেকে দূরে ছিলেন আর এক ব্যান্ড শিল্পী হাসান। ওয়ারফেজ ব্যান্ডের মিজানের নামে এরকম অভিযোগ তুলেছে তাঁর স্ত্রী। নেশা করে তিনি নাকি স্ত্রীকে মারধর করেন।
ইয়াবা এবং ফেনসিডিলসহ সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমনকে পুলিশ আটক করেছে। নেশা করে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গায়িকা ন্যানসিও নানা রকম বিষন্নতায় ভুগে নেশায় ঝুকে পড়েছিলেন।
বাংলা সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খানের বিরুদ্ধেও রয়েছে নেশার অভিযোগ। বিভিন্ন পার্টিতে নেশা করে থাকেন। এমনকি নেশা করে অনেক সিনিয়র শিল্পী পরিচালককে গালিগালাজ করারও অভিযোগ রয়েছে।
প্রয়াত অভিনেতা হুমায়ূন ফরিদি একবার এক টিভি অনুষ্ঠানে স্বীকার করেছিলেন তাঁর নিয়মিত রাতে মদ্যপান করতে হয়। তরুন অভিনয় শিল্পীদের অনেকেই নেশায় আসক্ত হয়ে আছেন। শোনা গেছে অ্যালেন শুভ্রর নাম।
এক্ষেত্রে মডেল অভিনেত্রী ইমির নামও চলে আসে। তিনি নেশায় আসক্ত হয়ে দীর্ঘদিন শোবিজের বাহিরে ছিলেন। মম, প্রভাদের নামও এ তালিকা থেকে বাদ দেয়া যায় না।
কি কারন এই নেশার ? সঙ্গদোষ? অনেকে সিনিয়রদের অনুকরন করেন। অনেকে মনে করেন ধীরে ধীরে তারকাখ্যতি থেকে কাজের চাপ প্রচন্ড বেড়ে যায়।
সেই চাপ থেকে মুক্তি খোজা, অবসাদ খোজা। তারকারা ঝুকে পড়েন মাদকে। যা একসময় নেশায় পরিনত হয়। নেশা তাঁদের খ্যাতি থেকে জীবন পর্যন্ত ধ্বংস করে দেয়।
মনোবিদরা জানান, ‘সাফল্য , অর্থ খ্যাতি থাকা সত্বেও জীবনের প্রতি এই নেতিবাচক মনোভাবের মূল কারণ প্রচণ্ড কাজের চাপ’
আবার অনেকে মনে করেন ‘তারকা হয়ে অনেকে পরিবার বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতেত তারা নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে।
আবার সৃজনশীল মানুষের মধ্যে নিয়ম- বিরোধীতা, আবেগ , সহজে উত্তেজীত হয়ে পড়ার প্রবনতা সাধারন মানুষের তুলনায় বেশি থাকে।
অনেকে বলে থাকেন স্ট্রেসের কারণে অনেকে ডাক্তারের স্বরনাপন্ন হয়। ডাক্তার সাময়িক অবসাদ দেয়ার জন্য যে ওষুধ দেয়। তাতে কিছুটা হলেও নেশাদ্রব্য থাকে।
আর এটা নিয়মিত হয়ে গেলেও সে তারকা সমস্যার সম্মূখীন হয়। উদাহরন হিসাবে মাইকেল জ্যাকসনের নাম বলা যায়।
সে মাদক সেবন নিয়মিত না করলেও নিয়মিত নানা রকম ওষুধ গ্রহন করতেন।যা একটা সময় তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ালো। গল্প শেষ হয়ে গেল।
bdview24.com Bangla News from Bangladesh regarding politics, business, lifestyle, culture, sports, crime. bdview24 send you all Bangla News through the day.