আপনি সেই প্রবাদটি শুনেছেন যে ‘আপনার হাসি আপনার ব্যক্তিত্বকে আরো উজ্জ্বল করে তোলে’ । কিন্তু দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা যেমন হলুদভাভ, পচন, কালোভাব, বা ভাল করে পরিষ্কার না হওয়ার কারণে আমরা সবার সামনে হাসতে লজ্জা পাই ।
কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবেছেন যে মুখের ভিতরে হওয়া এই রোগের প্রকৃত কারণ কী? বস্তুত, আমাদের খাওয়ার অভ্যাস এবং অবহেলার কারণে টারটার নামক একটি ব্যাকটেরিয়া মুখের ভিতরে, দাঁতে বা মাড়িতে জমা হয়। এই ব্যাকটেরিয়া এত বিপজ্জনক হয় যে এটি দাঁতের মধ্যে পচনও করতে পারে।
এখন আপনি ভাবছেন যে এই ব্যাকটেরিয়া থেকে কিভাবে বাঁচা যায় ? তাই আজ আমরা আপনাকে এমন কিছু উপায় বলব, যা আপনার দাঁতগুলিকে আবারও উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে।
লেবু এবং পুদিনার তেল: লেবু, জল এবং পুদিনার তেল মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। মুখে প্রতিদিন এর একটা ফোঁটা দিন । এটি শুধুমাত্র আপনাকে তাজা অনুভব করাবে না বরং আপনার দাঁতের স্বাস্থ্যও বজায় থাকবে ।
রোজমেরি আর পুদিনা: অর্ধেক কাপ রোজমেরি এবং একটি কাপ পুদিনা ২ কাপ জলে ফুটিয়ে নিন । গরম করার পরে জল ছেঁকে নিন এবং এটি ১৫ মিনিটের জন্য ঠান্ডা করুন। ঠান্ডা করে এই জল দিয়ে কুলকুচি করুন ।
ফ্লসিং: দাঁত পরিষ্কার করার একটি চমৎকার উপায় ফ্লসিং। অনেকবার আমাদের টুথব্রাশ যে কাজ করতে পারে না তা সহজেই ফ্লসিং এর মাধ্যমে করা যায় । তাই ফ্লোসিং স্পষ্টভাবে আপনার জন্য ভাল হবে।
নারকেল তেল: নারকেল তেলকে ব্যাকটেরিয়া নাশক হিসাবে গণ্য করা হয়। বলা হয় যে যারা খাবারে নারিকেল তেল ব্যবহার করে, তাদের দাঁতে পচনক্রিয়া ব্যাপকভাবে কমে যায়। উপরন্তু, এটি ক্রমবর্ধমান ক্যাবেটি বাড়ার হাত থেকে বাধা দেয়।
ফ্লোরাইট যুক্ত টুথপেস্ট: টুথপেস্ট কেনার আগে জানবেন যে টুথপেস্টে ফ্লোরাইড আছে কি না । টুথপেষ্টের ফ্লোরাইড আমাদের দাঁতের বাইরের স্তরটির জন্য ভাল এবং দাঁত ক্ষয় এবং ক্যাবেটি বিরুদ্ধে রক্ষা করে।
এলোভেরা জেল: এলোভেরা জেল, গ্লিসারিন, ব্যাকিং সোডা, লেবু এবং জল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। সপ্তাহে দুইবার এই পেস্ট দিয়ে ব্রাশ করুন। এর ফলে আপনার দাঁতের মধ্যে ক্যাবেটি শীঘ্রই শেষ হয়ে যায় ।
কমলা লেবুর খোসা: এন্টি অক্সিডেন্টের গুন কমলা লেবুতে পাওয়া যায়। কমলা লেবুর খোসা মুখের ভিতরে কিছুক্ষণ রাখুন। এর পরে মুখে জল দিয়ে ধুয়ে নিন ।
ফল- সব্জির ব্যবহার: সবাই জানেন যে জাঙ্ক ফুড খাওয়া বা বেশি তেল মশলা আমাদের দাঁতের মধ্যে ক্যাবেটি বৃদ্ধি করে । এটির থেকে বাঁচার জন্য ফল ও সবজি আরও বেশি ব্যবহার করা উচিৎ।
তিলের ব্যবহার: তিল চেবানো একটি ফায়দার কারন হতে পারে । কিন্তু তিন কেবল চেবাবেন, গিলবেন না। চেবানোর পরে থুতু ফেলে দিন । তিলটি আপনার দাঁত থেকে টারটার কে মুছে ফেলে, যেমনটা স্ক্রারাব চামড়া থেকে ধুলো মুছে ফেলে।
অন্জীর খান: ডুমুরগুলির মধ্যে পাওয়া ছোট দানাগুলি দাঁত থেকে ক্যাবেটি এবং টারটারকে শেষ করে দিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সঙ্গে মাড়ি শক্তিশালী করতে যদি চান তবে নিয়মিত এই ডুমুর খান ।
লেবু: লেবুর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রোপার্টি, যা জমে থাকা প্লাক এবং টারটারকে সরিয়ে দেয়। প্রতিদিন ব্রাশ করার পর লেবুর রসটিতে ব্রাশ ডোবানো এবং ব্রাশ করুন । সপ্তাহে একবার এইটা করলে দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে।
নীম: নিমে অ্যন্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে এবং ব্যাকটেরিয়া অপসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নীম পাতা দিয়ে ব্রাশ করা বা তার শাখাগুলির সাথে ব্রাশ করলে দাঁতের ব্যথার পাশাপাশি ক্যাবেটি থেকেও পরিত্রাণ পাবেন।
বেকিং সোডা: চার চামচ বেকিং সোডা নিন এবং ধীরে ধীরে একটি ছোট ব্রাশ দিয়ে ব্রাশ করুন। ব্রাশ করার পরে গরম জল দিয়ে কুলকুচি করুন । এটি সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করা আবশ্যক।
এই সব জিনিস সহজে আমাদের রান্নাঘরে পাওয়া যায়। সেই কথাটা তো শুনেছেন যে ‘জান হে তো জাহান হে’ । আপনার যদি এই নিবন্ধটি পছন্দ হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
bdview24.com — বিডিভিউ২৪.কম Bangla News from Bangladesh regarding politics, business, lifestyle, culture, sports, crime. bdview24 send you all Bangla News through the day.