ফায়ার সার্ভিস যদি এমন বিপদে পড়ে, তা হলে বিপদগ্রস্ত মানুষের কী হবে?

যেকোনো বিপদ ও দুর্ঘটনায় সর্ব প্রথম এগিয়ে আসে ফায়ার সার্ভিস। সেই ফায়ার সার্ভিস যদি বিপদে পড়ে তা হলে বিপদগ্রস্ত মানুষের কী হবে? এমন ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এখন ৩-৪ ফুট পানিতে ডুবে আছে। গাড়ি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অদূরে খোলা আকাশের নিচে জরুরি ডাকের অপেক্ষায় বসে আছেন।

একটু বৃষ্টি হলেই হাটু পানিতে ডুবে যায় অপরিকল্পিতি ভাবে তৈরি করা ওই ফায়ার স্টেশন। ওই স্টেশনে পানি নিস্কাশনের কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই।

স্থানীয়রা জানান, গত বছরের শেষের দিকে ডিএনডির বাহিরে নারায়ণগঞ্জের শিল্পনগরী বিসিক এলাকায় ফতুল্লা ফায়ার স্টেশন উদ্বোধন করা হয়। এই ষ্টেশনের চার পাশে রয়েছে বিসিক শিল্পনগরীর শত শত কলকারখানা।

এছাড়াও আশপাশে রয়েছে কয়েক হাজার বাসা বাড়ি। এসব বাড়িতে বিসিকে কর্মরত শ্রমিকরা বসবাস করেন। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে বিসিকসহ আশপাশের এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আশপাশে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের ফতুল্লা স্টেশনের সহযোগিতা তাৎক্ষনিক পাওয়াও সম্ভব নয় বলে স্থানীয়দের দাবী।

এছাড়া ফতুল্লায় ডিএনডির ভিতরে ও বাহিরে প্রতিটি এলাকাতেই বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাসা বাড়ি, কল কারখানা ও হাট বাজারে জমেছে হাটু পানি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক মসজিদ, মাদ্রাসাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সোমবার সকাল থেকেই জনসাধারণকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক মামুনুর রশিদ জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং আশপাশে ডোবা নালা বালি দিয়ে ভরে ফেলায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই ফতুল্লা ফায়ার স্টেশনের।

ফলে অল্পবৃষ্টি হলেই ফায়ার স্টেশনে হাঁটু বা তার উপরে পানি জমে। এতে কাজ কর্মে যাতে বাধা সৃষ্টি না হয় এজন্য স্টেশন থেকে গাড়ি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বের করে কিছুটা দূরে উঁচু স্থানে নিয়ে রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, ফায়ারকর্মীরাও সেখানে বসে থাকেন। সেখান থেকেই অপারেশন পরিচালনা করা হয়। আর বিশ্রামের সময় পানি দিয়ে হেঁটে স্টেশনের দোতলায় গিয়ে বিশ্রাম করেন ফায়ারকর্মীরা।

তিনি আরও জানান, স্টেশনের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং স্থানীয় এক শিল্পপতি বলেছেন স্টেশনের ভবনটি মাটি ফেলে উঁচু করে দেবেন।

শেয়ার করুন: