২০০৩ সালে প্রথমে কিডন্যাপ করা হয় ড. আফিয়াকে। এ কিডন্যাপিংয়ে সহায়তা করে খোদ পাকিস্তান সরকার। গুম করে রাখা হয় ২০০৮ পর্যন্ত। নিয়ে যাওয়া হয় আমেরিকান টর্চার সেলে। চলতে থাকে দিনের পর দিন গণ ধর্ষণ।
তাকে উলঙ্গ করে কুরআন শরীফের পাতা ছিড়ে মেঝেতে বিছিয়ে রেখে বলা হত, যাও! কুরআনের উপর দিয়ে গিয়ে কাপড় নিয়ে এসো। ড. আফিয়া সেটি করতে পারতেন না।
কারণ, তিনি মুসলমান এবং তিনি কুরআনকে ভালবাসতেন। ৩০ পারা কুরআন তার বুকে ছিল। তিনি একজন হাফেজাও ছিলেন। ফলে তার উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যেত।
২০০৮ সালে তাকে নিয়ে সাজানো হল মূল নাটক। এক মার্কিনী খ্রিষ্টান সেনা হত্যা চেষ্টার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার দেখানো হল। শুরু হয় বিচারিক প্রহসন। আমেরিকান আদালত তাকে ৮৬ বছরের সাজা ঘোষণা করে!
ড. আফিয়াকে আল-কায়েদার সাথে জড়িত সাজিয়ে ইউএস আদালত যখন সাজা দেয়, সাথে দেয় গণ ধর্ষণের অলিখিত লাইসেন্স তখন বিশ্ববিবেক গা ভাসায় স্রোতের অনুকূলে আর মানবতার ধ্বজাধারীরা বসে থাকে মুখে কুলুপ এটে।
আন্তর্জাতিক মিডিয়ার চোখ এড়িয়ে যায় এ দিকটা। আরব্য মুসলিম শাসকগণ তো আগ থেকেই হাতে চুড়ি আর পায়ে দাসত্বের বেড়ি পরা। দেখতে থাকে, বুঝতে থাকে আর গাইতে থাকে মনে মনে, তুমি চোর হইয়া চুরি করো আর পুলিশ হইয়া ধরো, সর্প হইয়া দংশন করো ওঝা হইয়া ঝারো!
একজন নারী, একজন মুসলিম সাইন্টিস্ট কুরআনে হাফেজাকে নিয়ে বিশ্ব মোড়লরা মেতে উঠলো নোংরা খেলায়। একদিকে ওরা কাউকে খুবলে খায় আর অন্যদিকে নিত্যনতুন মানবতার বুলি আওড়ায় ! তাতেও ছয়’শ কোটি মানুষের এ পৃথিবীতে দেড়’শ কোটি মুসলমানের এ দুনিয়ায় কেউ কিছু বললো না!
ড. আফিয়ার বিরুদ্ধে প্রহসনের বিচারিক রায় ঘোষণার সময় তাকে কিছু বলতে বলা হলে বিচারকের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন : আপনি তাদের ক্ষমতা দিয়েছেন আমাকে রেফ করার, উলঙ্গ করে সার্চ করার!
আপনার কাছে কিছুই বলবার নেই আমার। আমি আমার আল্লাহর কাছে যেয়েই যা বলার বলবো। আমি তো সেদিনই মরে গেছি, যেদিন আমাকে প্রথম ধর্ষণকরা হয়েছিলো। আমাকে ছেড়ে দিন। আমাকে আমার দেশে যেতে দিন।
সেই আফিয়া মারা গেলেন অবশেষে। আমি বলি মারা যাননি, আসলে তিনি বেঁচেই গেলেন। ২০০৩ থেকে মরে ছিলেন তিনি। আর আজ মৃত্যুর মাধ্যমে বরং বেঁচে গেলেন তিনি। তাকে আর খুবলে খাবে না পিশাচের দল!
তাকে আর বিবস্ত্র করে বলা হবে না, যাও কুরআনের উপর পা রেখে কাপড় নিয়ে এসো গিয়ে! উফ! কী অসহ্য যন্ত্রনার-ই-না ছিলো নয়’টি বছর! এই বছরগুলোতে কি অসভ্য খেলাই না খেলেছিল মানবতার দাবীদাররা !
কি অপরাধ ছিল আমার বোন আফিয়ার?
বিশ্বের একমাত্র স্নায়ূ বিজ্ঞানী ড. আফিয়া সিদ্দিকা’র মূল অপরাধ ছিল তিনি এতো উচ্চ শিক্ষিত হয়েও কুরআনের প্রতি ঝুঁকে ছিলেন কেনো? কুরআন থেকে কেন রেফারেন্স টানতেন?
১৯৯৩ সালের একটি ভিডিও ক্লিপের সৌজন্যে আমার সুযোগ হয় একুশ শতকের এ হযরত সুমাইয়ার বক্তব্য শোনার। আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম আমার বোনের কথাগুলো।
কুরআনের একটি একটি আয়াত তেলাওয়াত করে বৈজ্ঞানিক সূত্রে কথা বলছিলেন তিনি। তিনি বলছিলেন, ইসলাম হলো নারীর সুরক্ষক। ড. আফিয়া সিদ্দিকার বক্তব্যের অংশ ইউটউব থেকে দেখতে পারেন।
মানুষটিকে ওরা মেরে ফেলল তিলে তিলে। অকথ্য নির্যাতন করে। বিশ্ব মিডিয়া চেপে গেলো খবরটি সেই প্রথম থেকেই। ইন্টারনেটে প্রকাশিত এক চিঠিতে মুসলিম জাতিকে তিনি ঘুমন্ত মৃত জাতি বলে সম্ভোধন করে কিছু আক্ষেপের কথা বলেছিলেন।
বলে ছিলেন, আমি আর তোমাদের সাহায্যের আশা করি না। আমি তোমাদের বোন না। তোমরা কেউ মুহাম্মদ বিন কাসেম না। আমি আমার আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই, আর কারো কাছেই না। আফিয়া মিথ্যে বলেননি মোটেও।
ওদিকে আফিয়ার উপর চলতে থাকলো পৈশাচিক নির্যাতন। কেউ কিছু বললো না।
কিন্তু কথা তো এখানেই শেষ হতে পারে না।
এদের বেলায় মানবতা নিরব কেনো? নাকি বিশ্ব সভ্যতার ঠিকাদার কর্তৃক অসভ্যতা চললে সেটাকে অসভ্যতা বলতে হয় না!
মারা গেলেন ড. আফিয়া সিদ্দিকা। নয় নয়টি বছর লাগাতার ধর্ষণ আর নির্যাতনের সাথে সাথে তার শরীরে ক্যান্সারের বীজও পুতে দিয়ে ছিলো সভ্যতার মুখোশপরা মার্কিনী নরপশুরা। শারীরিক আর মানসিক যন্ত্রনার দু:সহ নারকীয় একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।
বুকে কুরআন নিয়ে মাথা উচু করেই বিদায় নিলেন আফিয়া। চলে গেলো বোনটি আমার। আমরা তাকে বাঁচাতে পারলাম না। তার চে’ দু:খজনক হল বাঁচানোর চেষ্টাটা পর্যন্ত করলাম না।
কেউ বললাম না ড. আফিয়া যদি অপরাধ কিছু করেই থাকেন, নিরপেক্ষ আদালতে তাঁর বিচার হতে পারে (যদিও জানি না সেটি কোন গ্রহে আছে)।
কিন্তু বিশ্বের একমাত্র নিউরো সাইন্টিস ও কোরআনের হাফিজা একটি মেয়েকে এভাবে বছরের পর বছর আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করা আর নির্যাতন করা তো কোনো সভ্য পৃথিবীতে চলতে পারে না! হায়রে সভ্যতা! হায়রে মানবতা!
আজকাল মানুষে আর পশুতে কোন পার্থক্য নেই । আফিয়াকে ওরা মেরে ফেলেছে তিলে তিলে। কারণ, আফিয়া ছিলেন উচ্চ শিক্ষিতা, নিউরো সাইন্টিস্ট।
তবু ওরা কী চায়, কীভাবে চায়, বিশ্ব বিবেক তবুও বুঝে না। নাকি বুঝেও বুঝে না! তবে একটি ব্যাপার বুঝতে পারছি। আমাকে অনেকগুলো চুড়ি কিনতে হবে বিশ্বের দেড়’শ কোটি মুসলমান নেতৃবৃন্দকে পরিয়ে দেবার জন্য। এ ছাড়া আমার আর কী বা করার আছে!
কুরআনের অনুসারী হয়ে ছিলেন বলে মক্কার মুশরিকরা হযরত সুমাইয়াকে উত্তপ্ত বালুতে শুইয়ে রেখে অকথ্য নির্যাতন করতো। আগেই জানানো হয়েছে আফিয়া ইস্যূতে মিডিয়া নিরব! তাই তাঁর মৃত্যুর ব্যাপারেও পরিষ্কার করে জানানো হচ্ছে না কোনো কিছূ।
ড. আফিয়ার মৃত্যু সংবাদটি সঠিক হলে আর তিনি মারা যেয়ে থাকলে ইতোমধ্যে নিশ্চই সুমাইয়ার হাত ধরে বসে আছেন। তাহলে ভাল আছেন তিনি। কিন্তু বিশ্ব মুসলিম ভালো থাকবে কেমন করে? আর ওপারে যেয়েই বা কী জবাব দেবে? আফিয়া তো চলে গেলেন! বিশ্ব বিবেকের গালে চপেটাঘাত করে।
একজন আফিয়া এভাবে নিষ্পেষিত হয়ে বিদায় নিলো আমাদের চোখের সামনে। কেউ কিছু বললো না! কেউ কিছু করলো না! বুঝতে পারছি না ধিক্কার আমি কাকে দেবো? কারন আমি নিজেই তো আজ নিন্দিত!
bdview24.com — বিডিভিউ২৪.কম Bangla News from Bangladesh regarding politics, business, lifestyle, culture, sports, crime. bdview24 send you all Bangla News through the day.