‘আমি ঘণ্টা আলমগীর পীরের মুরিদ নেশা করি না, তয় গাঁজা খাই’

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টা। নীলক্ষেত মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যালে যানজটে দীর্ঘক্ষণ আটকে আছে রিকশা, মোটরসাইকেল, বাস ও প্রাইভেটকারের অসংখ্য যাত্রী। ট্রাফিক পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে কেউ হর্ন বাজাচ্ছেন আবার কেউবা গালাগাল করে তাদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করছিলেন। এরই মাঝে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছিলেন একজন রিকশাচালক।

নাম তার আলমগীর। গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলায় হলেও বহু বছর ধরে পুরান ঢাকায় থাকেন। বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। পরনে রঙিন শার্ট। একটি বোতাম ছাড়া শার্টের বাকি সব বোতাম খোলা। গলা ও বুকে একাধিক লকেট ও গামছা ঝোলানো। তবে ব্যতিক্রম হলো তার দুই হাতের লোহার চুড়ি।

কৌতূহলবশত, হাতে এ ধরনের লোহার চুড়ি পরার কারণ এ প্রতিবেদক জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি চট্টগ্রামের মাইজভাণ্ডারের মুরিদ। পীর সাহেবের পরামর্শে শরীরের বিষ-বেদনা দূর করতে গত কয়েক বছর দুই হাতে প্রায় দুই কেজি ওজনের লোহার রিংয়ের চুড়ি পরছেন তিনি।

উপকারের কথা জিজ্ঞাসা করতেই চোখেমুখে হাসির ঝিলিক। ‘আরে কন কী, পীর সাহেব পরতে কইছে, আর কাম হইবো না, এইডা কী হয়। অবশ্যই কাম করে, না অইলে দুই কেজি ওজনের লোহা কী আর সাধে হাতে পইরা থাহি, বললেন আলমগীর। আলমগীরের কথা শুনে আশপাশের লোকজন হেসে ওঠেন।’

কোথাকার রিকশা, বাসা কোথায়, আয় রোজগার কেমন জানতে চাইলে আলমগীর জানান, আ‘মারে সবাই ঘণ্টা আলমগীর নামে চেনে। বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই বেশিরভাগ সময় কাটে তার। রিকশা গ্যারেজের মালিক দুলাল পণ্ডিত। বিজিবি এক নম্বর গেটের সামনে রিকশার গ্যারেজ।’

ঘণ্টা আলমগীর নাম কেন? জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমার দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা রিকশাতেই কাটে। রিকশার গ্যারেজে ১১ থেকে ১২ দিন পর পর গিয়া ট্যাকা দিয়া আহি। তাই সবাই ঘণ্টা আলমগীর নামেই ডাকে আমায়।’

নেশা করো কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে আলমগীর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি জানান, ‘বাবা (ইয়াবা), হেরোইন, ফেনসিডিল এইগুলোর কোনোটায়ই তার নেশা নেই। এসব নেশা যারা করে তাদের দেখলেই মাইর দিতে ইচ্ছে করে তার।’

তবে আলমগীর স্বীকার করেন, তার একটা নেশা আছে- তা হলো গাঁজা সেবন। গত ২০ বছর ধরে গাঁজা টেনে আসছেন তিনি। আলমগীরের ধারণা- নিয়মিত গাঁজা সেবনে হার্ট ভালো থাকে। অসুখ-বিসুখও কম হয়।

এ পর্যন্ত কথা হতেই সিগন্যালে সবুজ বাতি জ্বলে ওঠে। আলমগীর জানান, তিনি এখন লালবাগের গোড় শহীদ মাজারের সামনে ফুটপাতে গিয়ে পেট ভরে দুপুরের খাবার খাবেন। তারপর সিদ্ধি সেবন করে রিকশা নিয়ে বের হবেন।

শেয়ার করুন: