আপনি কি করবেন, যদি জানতে পারেন আপনার বাচ্চা অদৃশ্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে কিংবা খেলাধুলা করে? স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি শিশু মনের কল্পনা বলেই ধরে নেবেন। ব্রিটেনের রুথ স্লিন’ও তার বাচ্চার এমন আচরণে তেমনটাই মনে করেছিলেন। কিন্তু শিশুর সমস্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে কিছুটা খোঁজ খবর নিয়েই জানতে পারেন ভয়াবহ সত্যিটা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম নর্দান ডেইলি লিডার এক প্রতিবেদনে জানায়, স্লিন দম্পতি ছেলের আচরণে প্রথমে পাত্তা দেননি। কিন্তু কিছুদিন বাদেই বুঝতে পারেন ছেলে যার সঙ্গে খেলছে সে কোনো মনগড়া বিষয় নয়। কিন্তু পুরো নিশ্চিত হতে তিনি পরিচিত এক প্যারানর্মাল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেন।
প্যারানর্মাল বিশেষজ্ঞ ওয়েগা মার্থা ঘটনা জানতে পেরে রুথের বাড়ি যান। এরপর খেলাচ্ছলে নিকোলাস নামের ওই শিশুটির সঙ্গে কথা বলেন। তখন জানতে পারেন নিকোলাস যে কল্পিত শিশুর সঙ্গে খেলা করে তার নাম বেইলি।
মার্থা পরে রুথের কাছে জানতে চান, কবে থেকে নিকোলাস এমন আচরণ শুরু করে। তখন রুথ স্লিন জানান, বেশ কিছুদিন আগে তার স্বামী হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে হাসপাতাল ভর্তি হন। সেই সময় নিকোলাসকে নিয়ে স্বামীর কেবিনে একদিন দেখা করতে গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই ছেলের ভেতরে পরিবর্তন দেখতে পান তিনি।
মাত্র ৪ বছরের ছেলে এরপর থেকেই অদৃশ্য কারও সঙ্গে কথা বলা এবং খেলায় মেতে ওঠে। আর কেউ জিজ্ঞাসা করলেই বলে, ‘আমি যার সঙ্গে খেলছি সে আমার বন্ধু। ও সব সময় আমার সঙ্গে থাকে’। বেইলি যে ওর সমবয়সী নয়, তাও জানায় সে। জানতে চাইলে বলে, বন্ধুর বয়স ১৪ বলে জানিয়েছে।
কথাচ্ছলে মার্থা নিকোলাসের কাছ থেকে জানতে পারেন, ওই হাসপাতাল থেকেই অদৃশ্য বন্ধুর সঙ্গে তার পরিচয় ও সখ্যতা। ফলে তথ্য অনুসন্ধানের জন্য সেই হাসপাতালেও যান প্যারানর্মাল বিশেষজ্ঞ মার্থা।
এরপর নানাভাবে খোঁজ নিয়ে মার্থা জানতে পারেন, হাসপাতালের যে কেবিনে রুথের স্বামী ভর্তি ছিলেন সেখানেই অতীতে বেইলি নামের এক শিশু মারা গিয়েছিল। এরপর বেইলি’র কেস ফাইল খুঁজে বের করে মার্থা হতবাক হয়ে যান। আসলেই ১৯৪৪ সালে বেইলি নামের ১৪ বছরের এক কিশোর মারা গিয়েছিল।
মৃত্যুর কারণ হিসেবে জানেন, দুষ্টুমি করে খেলতে গিয়ে মারাত্মক আঘাত পেয়েছিল বেইলি। এরপর তাকে হাসপাতালে আনা হলেও বাঁচানো যায়নি।
এরপরও খটকা থেকেই গিয়েছিল রুথ স্লিনের। প্রথমে ভেবেছিলেন মার্থা সম্ভবত তাকে প্যারানর্মাল বিষয়ের প্রতি জোর দিতে হাসপাতাল থেকে ভুতুরে তথ্য নিয়ে এসেছেন। এজন্যে রুথ শহরের ইতিহাস বিষয়ক সংগঠন Historical Society’র সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
সেখানে গিয়ে কিছু পুরনো পত্রিকার কাটিং পরীক্ষা করে জানতে পারেন, মার্থা সত্যি কথাই বলেছিলেন। আসলেই ১৯৪৪ সালে বেইলি নামের এক কিশোর খেলতে গিয়ে একটি বিস্ফোরণে আহত হয়ে শহরের ওয়েগা হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং পরে মারা যায়। ছেলেটির পুরো নাম ছিল ফেড্রিক বেইলি।
সেই সময় ফেড্রিকের সঙ্গে তার বন্ধু কলিন মোয়লার ছিল। না জেনে ভয়ঙ্কর জেলিগনাইট দিয়ে খেলা করতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই কলিন মারা যায়। আর মারাত্মক আহত ফেড্রিক বেইলিকে হাসপাতালে নেয়া হয়।
ফলে রুথের আর বুঝতে বাকি থাকে না, ১৯৪৪ সালে প্রাণ হারানো ফেড্রিক বেইলি’র ভুত তার সন্তানের সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিকোলাসের সঙ্গে কথাও বলেন রুথ। বলেন, ‘অনেক দিন তো হয়েছে! তোমার বন্ধুকে বলে দাও তার নিজের বাড়িতে যেতে’।
কিন্তু প্রতিবাদ করে ওঠে নিকোলাস। বলে, ‘ও আমাকে বলেছে যে ওর বাবা মাকে সে ঘৃণা করে। ও কিছুতেই এখান তেকে যাবে না। বেইলি আমার সঙ্গেই থাকবে আর খেলবে’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত বেইলির ভুত নিকোলাসের সঙ্গেই রয়েছে। ওর সঙ্গে কথা বলে, খেলে.. কিন্তু কারও ক্ষতি সে করে না। আর তাই বেইলির ভুতকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর কোনো উদ্যোগ এখনও নেননি স্লিন দম্পতি।
bdview24.com — বিডিভিউ২৪.কম Bangla News from Bangladesh regarding politics, business, lifestyle, culture, sports, crime. bdview24 send you all Bangla News through the day.