শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শেষ শয্যা নিলেন কবি আবুল হোসেন

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় রাজধানীর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শেষ শয্যা নিলেন বাংলা সাহিত্যের আধুনিক পথিকৃৎ প্রতীম কবি আবুল হোসেন। দাফনের প্রাক্কালে গতকাল মঙ্গলবার অপরাহ্নে বাংলা একাডেমির এই সম্মানিত ফেলোর একাডেমি প্রাঙ্গণে শেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি ও দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

‘নববসন্ত’র কবি আবুল হোসেন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় গত রোববার রাতে ৯২ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন। স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘর থেকে গতকাল সকালে কবির লাশ তার ধানমন্ডির বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রথম বাদ যোহর ধানমন্ডিতে তার জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা আড়াইটার দিকে কবির অন্যতম প্রিয়স্থান বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে তার কফিন আনা হয়। এসময় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে ছিলো উদীচী , ছায়ানট ও গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ। ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি, লেখক সৈয়দ শামসুল হক, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, কবি আনোয়ারা সৈয়দ হক, কবি আসাদ চৌধুরী, কবি আবদুল হাই সিকদার, কবি রবীন্দ্র গোপ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ইকবাল বাহার চৌধুরী, নাট্যজন আতাউর রহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর, কবি আল মুজাহিদী, কবি নাসির আহমেদ, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব নেসার ওসমান, স্থপতি ও তথ্যচিত্র নির্মাতা শাকুর মজিদ প্রমুখ। শুরুতে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ অর্থমন্ত্রী বলেন, কবি আবুল হোসেন ছিলেন একজন সুস্থির ও ধীর প্রকৃতির মানুষ। তার সৃষ্টি কর্ম সংরক্ষণের জন্য বাংলা একাডেমিকে উদ্যোগ নেয়ার জন্য আহ্বান জানান। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর কয়েকটি বক্তব্য তিনি লিখে দিয়েছিলেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, যখন কী না এ ভূখ- মুসলিম পশ্চাৎপদতায় আক্রান্ত ঐসময়ে তিনি কবিতায় আধুনিকতাকে ধারণ করে স্বমহিমায় অবস্থান করেন। তার কবিতায় শুধু ছন্দ নয়, ছিলো চিন্তার খোরাক। সেটা ছিলো বিস্ময়কর। তার পথ ধরেই পরবর্তী কবিরা আধুনিক কবিতার প্রতি ধাবিত হয়েছেন। কবিতায় তার চিন্তাশীলতা কখনো এক জায়গায় থেমে থাকেনি। আমরা যারা তার কবিতা পাঠ করেছি, তারা বুঝতে পারি কবি হিসেবে তিনি কতটা আধুনিক ছিলেন।

বাংলা একাডেমিতে দ্বিতীয় জানাযা শেষে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবর স্থানে। সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। এসময় কবির পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও সহকর্মী, ভক্ত-শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।