রমজান মাস এলেই, হাসপাতালে গিয়ে বিনামূল্যে রোগীদের সেহরি খাওয়ান নাহার!

পাবলিশ: মে ২২, ২০১৮ | আপডেট: মে ২২, ২০১৮

সেহরি খাওয়ান নাহার – রমজান মাস এলেই সেহরির সময় দেখা মেলে তার । টানা তিন রমজান তিনি এভাবে শেষরাতে সেহেরি দিচ্ছেন।খাবারের মেন্যুতে সাদা ভাতের কোনো দিন ডাল, ডিম, সবজি, কোনো দিন মাছ কিংবা মাংস থাকে।

মধ্যবয়সী নূর নাহার নামের এক নারী মেহেরপুর শহরের ওয়াপদা পাড়ার বাসিন্দা। তিন বছর আগে তার ছেলে মারা যায় ।এরপর তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় তিনি বেছে নেন ব্যতিক্রমী এক কাজ যা হল মেহেরপুরের ২৫০

শয্যার জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের সেহরির জন্য প্রতি বছর নিজের হাতে খাবার দেওয়া । তিনি প্রতি রমজানে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের ঘুম থেকে ডেকে তোলেন।তারপর তিনি সবাইকে নিজ হাতে খাওয়ান ।

তিন দিন ধরে দুই ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে আছেন সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামের গৃহবধূ বলেন, নূর নাহারের সেহরি নিয়ে ফেরার সময় তিনি জানান, প্রথম রোজা থেকে নূর নাহার নামের এক নারী তাদের সেহরি খাওয়াচ্ছেন।

হাসপাতলের রোগী ও তাদের স্বজনেরা জানান, প্রতিদিন বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার এনে নূর নাহার সেহরি খাওয়ান। সন্ধ্যা রাতেই হাসপাতাল খাবার দিয়ে যায়। শেষ রাত পর্যন্ত সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়।

তাই রমজানে বেশিরভাগ রোগী ও তাদের স্বজনদের ভরসা নূর নাহারের সেহরি।নূর নাহারের এই উদ্যোগে স্থানীয় কয়েকজন বিভিন্নভাবে সহযোগী করে থাকেন বলে জানা গেছে।

ভাত, মাছ, মাংস ও ডিম তরকারির এই সেহেরি বিনামূল্যে দেয়া হয়।তার এ কাজের বিষয়ে নূর নাহার বলেন, ‘আমার ছেলে মারা গেছে। ওর জন্যই আমি তিন বছর ধরে মানুষকে সেহেরি খাওয়াচ্ছি।

যতদিন বাঁচব, এটি করে যাব। সবাই দোয়া করলে আল্লাহ আমার ছেলেকে মাফ করে দিবেন।’তাই তার এই জনসেবার কাজ তাকে বহুদিন মানুষের মাঝে বাঁচিয়ে রাখবে ।

এতে করে তারা ভালোভাবে রোজা রাখতে পারছেন।জানা গেছে, হাসপাতালে সেহরি দিতে তাকে সাহায্য করেন কয়েকজন। প্রতিদিন ৮০ থেকে ১২০ জনের মাঝে সেহরি বিতরণ করা হয়।

শেয়ার করুন: