পুলিশ

বেতন–ভাতা ঝুলে থাকা ৩৮ এসপিকে ফিরিয়ে নিল পুলিশ সদরদপ্তর

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‍্যাব) বদলি হওয়া ৩৮ পুলিশ সুপারকে (এসপি) অবশেষে পুলিশ সদরদপ্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়। বেতন-ভাতা উত্তোলনের সুবিধার্থে তাঁদের র‍্যাব থেকে পুলিশের ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ৩৮ কর্মকর্তার বেতন-ভাতা উত্তোলনের সুবিধার্থে র‍্যাবের উপপরিচালক পদে পদায়ন বাতিল করে পুলিশ সুপার পদমর্যাদায় পুলিশ অধিদপ্তরে সংযুক্তি প্রদান করা হলো।

র‍্যাব থেকে পুলিশ সদরদপ্তরে সংযুক্ত তিনজন কর্মকর্তা বলেন, তাঁদের র‍্যাবের উপপরিচালক পদে পদায়নের পর পোস্টিং দেওয়া হচ্ছিল না। গত মে ও জুন মাসের বেতন পাননি তাঁরা। ঈদ বোনাসও দেওয়া হয়নি। ফলে খুবই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ছিলেন। এখন নতুন করে পুলিশ সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। দ্রুত তাঁদের পোস্টিং হবে বলে আশা করছেন।

পুলিশ সদরদপ্তরে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পুলিশে এসপি পদ মর্যাদার কোনো পদ এখন ফাঁকা নেই। র‍্যাবে পদায়ন করা ৩৮ জন এসপিকে মাতৃ বাহিনীতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দ্রুতই পুলিশ সুপার পদমর্যাদার বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পাবেন। তাঁদের পদোন্নতি হলে পুলিশ সুপার পদ ফাঁকা হবে। এরপর ৩৮ জন কর্মকর্তার পোস্টিং হতে পারে। হয়তো মাসখানেক সময় লেগে যাবে নতুনদের পোস্টিং দিতে।

গত ১৬ মে বিসিএস পুলিশ ২৭ ব্যাচের ৬৩ জন কর্মকর্তা এসপি পদে পদোন্নতি পান। যার মধ্যে ৪৭ জনকে র‍্যাবে পোস্টিং দেওয়া হয়। একসঙ্গে ৪৭ জন এসপিকে র‍্যাবে পদায়ন করায় জটিলতার সৃষ্টি হয়। গত ১ জুলাই র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন স্বাক্ষরিত এক আদেশে ৯ জন এসপির পোস্টিং হয়। তখন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেছিলেন, র‍্যাবে পুলিশ সুপারের নয়টি পোস্ট খালি ছিল। সেই নয়জনের পদায়ন করা হয়েছে। বাকিদের ব্যাপারে সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে সেভাবেই কাজ করবে র‍্যাব।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সশস্ত্রবাহিনী থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আর পুলিশ থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যাটালিয়ন কিংবা কোনো বিভাগের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। পুলিশ সুপার পদের কর্মকর্তাদের অধিনায়ক বা পরিচালকের নির্দেশে চলতে হয়। এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা র‍্যাবে অধিনায়কত্ব পান না। তাই তাঁরা এলিট ফোর্সে চাকরি করতে চান না।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, র‍্যাবে উপপরিচালক বা কোম্পানি কমান্ডার পদ রয়েছে ১০৮ জন। ওই এসপিদের র‍্যাবে পদায়নের সময় সব মিলিয়ে ১০৮টি ডিডি পদের মধ্যে ৯৭টি পদে বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তা বহাল ছিলেন। খালি ছিল ১১ টি। এর মধ্যে পুলিশের জন্য আনুপাতিক হিসেবে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৯ টি।

গত ১৬ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ৪৭ জন এসপির বদলির আদেশ জারি হয়। ২০০৪ সালে যাত্রা শুরুর পর এই প্রথম প্রথা ভেঙে র‌্যাবের উপ-পরিচালক পদে এতোজন এসপিকে র‌্যাবের বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন ও উইংয়ে বদলি করা হয়। নতুন করে এতসংখ্যক পুলিশ সুপারের পদায়নে বাহিনীর ভেতরের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে তা নিয়ে শুরু হয় নানা জটিলতা। অনেক দেন দরবারের পর নয় জনের পদায়ন হয়। বাকি ৩৮ জনের পদায়ন না হওয়ায় আটকে যায় তাঁদের বেতন–ভাতা।